Pakistan Army on India: 'ভারতের সামরিক শক্তিকে সম্মান, অস্ত্র প্রতিযোগিতা চায় না পাকিস্তান', বললেন পাক সেনার DG ISPR

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতর বা ISPR-এর মহাপরিচালক সম্প্রতি আল আরাবিয়া ইংলিশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইসলামাবাদ ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে সম্মান করে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসী পরিকল্পনা করছে না।

Published on: Sep 18, 2026, 08:48:56 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারতের সঙ্গে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নামার ইচ্ছা পাকিস্তানের নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতর বা ISPR-এর মহাপরিচালক সম্প্রতি আল আরাবিয়া ইংলিশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইসলামাবাদ ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে সম্মান করে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসী পরিকল্পনা করছে না এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর তাদের যথেষ্ট আস্থা রয়েছে।

ভারতের সঙ্গে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নামার ইচ্ছা পাকিস্তানের নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী।
ভারতের সঙ্গে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নামার ইচ্ছা পাকিস্তানের নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী।

ভারতের দ্রুত উন্নতিশীল ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রচলিত স্ট্রাইক সক্ষমতা নিয়ে পাকিস্তান উদ্বিগ্ন কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, ভারত প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এ বিষয়টি পাকিস্তান বুঝতে পারছে। তবে সেটিকে ভারত-পাকিস্তান অস্ত্র প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানও কোনো অস্ত্র প্রতিযোগিতায় যেতে চাইছে না।

তবে একই সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নিজেদের নিরাপত্তার প্রশ্নে ইসলামাবাদ পিছিয়ে থাকবে না। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের এমন প্রতিরক্ষা সক্ষমতা রয়েছে যার মাধ্যমে দেশটি সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং প্রয়োজন হলে পাল্টা জবাব দিতে সক্ষম। ফলে একদিকে অস্ত্র প্রতিযোগিতা না চাওয়ার বার্তা দেওয়া হলেও অন্যদিকে পাকিস্তানের সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

পাকিস্তানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ভারত নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সক্ষমতা ক্রমশ বাড়াচ্ছে। ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অগ্নি-৫ একটি দীর্ঘপাল্লার ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট অগ্নি-৫-এর সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছিল এবং পরীক্ষায় এর প্রযুক্তিগত ও অপারেশনাল মাপকাঠি যাচাই করা হয়। এর আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, অগ্নি-৫ প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম।

এছাড়াও ভারত গত কয়েক বছরে আকাশ প্রতিরক্ষা, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিভিন্ন প্রচলিত স্ট্রাইক সিস্টেমে উন্নয়ন করেছে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সাম্প্রতিক তথ্যেও ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পরিবর্তনশীল সামরিক ভারসাম্যের দিকে পাকিস্তানের নজর রয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। DG ISPR-এর বক্তব্যে ভারতের সামরিক শক্তির প্রতি সরাসরি সম্মান দেখানোর পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানের বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ, ইসলামাবাদ প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতার ভাষা এড়িয়ে নিজেদের প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর জোর দিচ্ছে।

ভারত ও পাকিস্তান—দুই দেশই পরমাণু শক্তিধর। ফলে তাদের সামরিক সক্ষমতার পরিবর্তন শুধুমাত্র প্রচলিত অস্ত্রের হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং পাল্টা আঘাতের সক্ষমতাও যুক্ত। সেই কারণে পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্রের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে দুই দেশের সামরিক ভারসাম্য নিয়ে ইসলামাবাদের বর্তমান অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে দুই দেশ তাদের প্রতিরক্ষা কর্মসূচি কীভাবে এগিয়ে নেয়, সেটিই আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More