Pakistan Army on Indus Water Treaty: ‘জলের অধিকার রক্ষায় সবরকম ব্যবস্থা’ নেওয়ার ঘোষণা পাক সেনাবাহিনীর, বৈঠকে মুনির
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের পর জানানো হয়েছে, দেশের ন্যায্য জলপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে 'প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ' নেওয়া হবে। ভারতের তরফে গত বছরের পাহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই ইসলামাবাদের এই নতুন অবস্থান সামনে এসেছে।
সিন্ধু জলচুক্তি (ইন্দাস ওয়াটার ট্রিটি) ঘিরে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বাড়ল। এবার শুধু পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্বই নয়, সরাসরি দেশের সেনাবাহিনীও ভারতের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিল। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের পর জানানো হয়েছে, দেশের ন্যায্য জলপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে 'প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ' নেওয়া হবে। ভারতের তরফে গত বছরের পাহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই ইসলামাবাদের এই নতুন অবস্থান সামনে এসেছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনিরের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ২৭৬তম কর্পস কমান্ডার্স সম্মেলনে দেশের জল অধিকার রক্ষার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। বৈঠকে স্পষ্টভাবে বলা হয়, পাকিস্তানের জনগণের আশা এবং সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রাপ্য জল নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইসঙ্গে ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির (এনএসসি) দেওয়া নির্দেশিকাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
গত বছর এনএসসি-র বৈঠকে পাকিস্তান ঘোষণা করেছিল, যদি ভারত সিন্ধু নদী ব্যবস্থার জল আটকে দেয় বা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়, তাহলে সেটিকে ‘যুদ্ধের সমতুল্য পদক্ষেপ’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সেই বৈঠকে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি ও যুদ্ধক্ষমতারও প্রশংসা করা হয়েছিল।
পাকিস্তান একইসঙ্গে আফগানিস্তান প্রসঙ্গও তুলে ধরেছে। সেনাবাহিনীর অভিযোগ, আফগান তালিবান নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড ব্যবহার করে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘অপারেশন গাজাব-উল-হক’-এর আওতায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে যাবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। পাশাপাশি কাশ্মীর ইস্যুতেও পাকিস্তানের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং নৈতিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে ভারত নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেনি। সম্প্রতি বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, পাকিস্তান যতদিন সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদকে বিশ্বাসযোগ্য এবং স্থায়ীভাবে পরিত্যাগ না করবে, ততদিন সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতই থাকবে। ভারতের বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদ এবং স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক একসঙ্গে চলতে পারে না। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে জলচুক্তি কার্যকর রাখার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।
১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী, রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর জল ব্যবহারের অধিকার ভারতের হাতে রয়েছে। অন্যদিকে সিন্ধু, ঝিলম এবং চেনাব নদীর জল ব্যবহারের মূল অধিকার পাকিস্তানের। এতদিন বর্ষাকালে বন্যার পূর্বাভাস এবং জলপ্রবাহ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পাকিস্তানকে জানাত ভারত। তবে চুক্তি স্থগিত হওয়ার পর সেই বাধ্যবাধকতা আর নেই।
একইসঙ্গে ভারত সিন্ধু অববাহিকায় একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সাওয়ালকোট, রাতলে, বুরসার, পাকাল দুল, কুয়ার, কিরু এবং কিরথাই-১ ও ২ প্রকল্প ভবিষ্যতে পাকিস্তানের জলপ্রবাহের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা ইসলামাবাদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের কৃষি ব্যবস্থার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই সিন্ধু নদী ব্যবস্থার জলের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির জল সংরক্ষণের সক্ষমতাও অত্যন্ত সীমিত। টারবেলা এবং মাঙ্গলা জলাধারের মতো প্রধান রিজার্ভারগুলিতেও জলস্তর উদ্বেগজনকভাবে কমে এসেছে। ফলে সিন্ধু জলচুক্তি এখন আর শুধুমাত্র একটি জলবণ্টন চুক্তি নয়, বরং দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
ভারতের সিদ্ধান্তের পর গত এক বছরে পাকিস্তান রাষ্ট্রসংঘে অভিযোগ জানানো, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ, আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন এবং আইনি পদক্ষেপ-সহ একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। তবুও নয়াদিল্লি তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রেখেছে। ফলে সিন্ধু জলচুক্তি ঘিরে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত আগামী দিনে আরও জটিল আকার নিতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


