Pakistan Defence Pact with 3 Countries: মক্কা চুক্তির পর এবার ‘বদর’, পাকিস্তানকে নিয়ে চার দেশের নতুন প্রতিরক্ষা সমঝোতা!

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, চার দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোই এই সমঝোতার প্রধান উদ্দেশ্য। প্রতিটি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের আলাদা দক্ষতা রয়েছে। সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে যৌথ ভাবে সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করতে চায় তারা।

Published on: Oct 22, 2026, 08:37:30 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

মক্কা চুক্তির কয়েক মাসের মধ্যেই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নতুন সমঝোতায় সই করল পাকিস্তান। সঙ্গে রয়েছে আরও তিনটি দেশ। কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়া। বুধবার, ২১ অক্টোবর কাতারের রাজধানী দোহায় এই চার দেশ ‘বদর’ নামে একটি প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারকে সই করেছে। সামরিক অস্ত্র তৈরি, প্রযুক্তির উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ফলে পশ্চিম এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিরক্ষা সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। নজর রাখছে ভারতও।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, চার দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোই এই সমঝোতার প্রধান উদ্দেশ্য।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, চার দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোই এই সমঝোতার প্রধান উদ্দেশ্য।

কী এই বদর সমঝোতা?

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, চার দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোই এই সমঝোতার প্রধান উদ্দেশ্য। প্রতিটি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের আলাদা দক্ষতা রয়েছে। সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে যৌথ ভাবে সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করতে চায় তারা। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়ন, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানো হবে।

এই সমঝোতার মাধ্যমে শুধু অস্ত্র কেনাবেচার সম্পর্ক নয়, বরং অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি এবং উৎপাদন ব্যবস্থাতেও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে চার দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। ভবিষ্যতে বন্ধু দেশগুলির চাহিদা মেটাতেও এই সহযোগিতা কাজে লাগতে পারে।

বদর চুক্তিতে সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের, কাতারের উপ প্রধানমন্ত্রী তথা প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান এবং ইন্দোনেশিয়ার উপ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউসুফ জৌহারি। চার দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে ছিলেন।

মক্কা চুক্তির সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?

এর আগে গত ৭ অগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় পাকিস্তান, তুরস্ক এবং সৌদি আরব একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছিল। সেই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, তিন দেশের কোনও একটির উপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিনটি দেশের উপর হামলা হিসাবেই বিবেচিত হবে। অর্থাৎ, ওই চুক্তির মূল লক্ষ্য যৌথ প্রতিরক্ষা এবং সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় একে অপরের পাশে দাঁড়ানো।

কিন্তু বদর সমঝোতার লক্ষ্য আলাদা। এখানে কোনও একটি দেশের উপর হামলা হলে বাকি দেশগুলি যুদ্ধে যোগ দেবে, এমন শর্তের কথা ঘোষিত হয়নি। বরং সামরিক সরঞ্জাম তৈরি, প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়া, প্রশিক্ষণ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। ফলে দুটি উদ্যোগকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

ভারতের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে?

এই সমঝোতায় ভারতের নাম করে কোনও বিরোধিতার কথা বলা হয়নি। একে সরাসরি ভারতবিরোধী সামরিক জোট বলার মতো তথ্যও এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ার বিষয়টি ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। যৌথ ভাবে অস্ত্র তৈরি এবং প্রযুক্তি উন্নয়নের ফলে ভবিষ্যতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অন্য দিকে, কাতারের অর্থনৈতিক সামর্থ্য এবং ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তবে চুক্তির বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে ভবিষ্যতে কী ধরনের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, কতটা প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে এবং যৌথ উৎপাদন কতটা এগোচ্ছে, তার উপর।

সব মিলিয়ে, বদর সমঝোতা চার দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন পদক্ষেপ। মক্কা চুক্তির মতো সরাসরি যৌথ প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার না থাকলেও, এই সমঝোতার ফলে সামরিক প্রযুক্তি ও অস্ত্র উৎপাদনে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More