India's Sharp Warning: 'জাতীয় স্বার্থ রক্ষায়...,' সীমান্তে ২৫০ চিনা হাউইৎজার মোতায়েন পাকিস্তানের, কড়া বার্তা ভারতের

India's Sharp Warning : পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) অনুষ্ঠিত তথাকথিত স্থানীয় নির্বাচনকে 'সম্পূর্ণ প্রহসন' বলে আখ্যা দিয়ে পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা করেছে ভারত।

Published on: Aug 5, 2026, 12:28:31 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

India's Sharp Warning : ভারত-সীমান্তে সামরিক শক্তি বাড়ানোর পথে হেঁটেছে পাকিস্তান। সূত্রের খবর, মোট ২৫০টি চিনা নির্মিত এসএইচ-১৫ ট্রাক-মাউন্টেড সেলফ-প্রোপেলড হাউইৎজার কামান মোতায়েন করেছে তারা। ভারত-লাগোয়া পূর্ব সীমান্তের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ধাপে ধাপে ১৫৫ মিমি আর্টিলারি সিস্টেম মোতায়েন করা হচ্ছে বলে খবর। উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত বিভিন্ন সেক্টরে এই মোতায়েন চলছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়েছে ভারত।

সীমান্তে ২৫০ চিনা হাউইৎজার মোতায়েন পাকিস্তানের, কড়া বার্তা ভারতের (@MEAIndia)
সীমান্তে ২৫০ চিনা হাউইৎজার মোতায়েন পাকিস্তানের, কড়া বার্তা ভারতের (@MEAIndia)

মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রক ফের পাকিস্তানকে সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এবং নিজেদের ভূখণ্ডে সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, 'আমরা সব দেশকেই সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদ এবং যারা তা মদত দেয়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই। পাকিস্তানকেও নিজেদের মাটি থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে।' তিনি আরও বলেন, 'অপারেশন সিঁদুরের সময় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের উপযুক্ত জবাব গোটা বিশ্ব দেখেছে। আমাদের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট-সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদ বন্ধ হতেই হবে। দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় যা প্রয়োজন, ভারত তাই করবে।' পাকিস্তান সেনাবাহিনী ভারতের সঙ্গে তাদের পূর্ব সীমান্তে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে এই ১৫৫ মিমি আর্টিলারি সিস্টেমগুলো মোতায়েন করা শুরুর খবর প্রকাশ্যে আসার পরই নয়া দিল্লির মন্তব্য সামনে এল।

অন্যদিকে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) অনুষ্ঠিত তথাকথিত স্থানীয় নির্বাচনকে 'সম্পূর্ণ প্রহসন' বলে আখ্যা দিয়ে পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা করেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, পিওকে-তে জনঅসন্তোষের জবাবে পাকিস্তান গুলি, ভয় দেখানো, ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া এবং দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। এই অভিযানে অন্তত ৯০ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করেছে ভারত। নয়া দিল্লিতে সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, 'পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে এই তথাকথিত স্থানীয় নির্বাচন সম্পূর্ণ প্রহসন। সেখানে প্রকৃত ঘটনা হল জনবিক্ষোভ এবং পাকিস্তানি বাহিনীর নির্বিচার হত্যাকাণ্ড। এ ধরনের ফাঁপা নির্বাচন বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল করতে পারে না। চলতি বছরের জুন মাস থেকে দমন-পীড়নের জেরে অন্তত ৯০ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।' তিনি আরও বলেন, 'পাকিস্তানের প্রশাসন জনঅসন্তোষের জবাব দিয়েছে গুলি, ব্ল‍্যাকআউট, ভয় দেখানো এবং দমন-পীড়নের মাধ্যমে। এখন সেই বাস্তবতা ঢাকতে একটি অর্থহীন নির্বাচনের মাধ্যমে বৈধতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। পিওকে-তে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য পাকিস্তানকে জবাবদিহি করতে হবে এবং মানবাধিকার নিয়ে তাদের ভণ্ডামি বিশ্বের সামনে স্পষ্ট হওয়া উচিত।'

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিওকে-র নির্বাচনের প্রথম পর্বে ব্যাপক হিংসা, ভোটে কারচুপির অভিযোগ এবং রাজনৈতিক কর্মীদের মৃত্যুর ঘটনায় ভোটগ্রহণ বিতর্কের মুখে পড়েছে। জোটের শরিক দলগুলিও একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করার অভিযোগ তুলেছে। এদিকে, জম্মু ও কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেকেজেএএসি)-র নেতৃত্বে গত ৫ জুন থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে গত কয়েক সপ্তাহে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার জেকেজেএএসি অভিযোগ করেছে, বাঘ জেলায় নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের উপর পাকিস্তানি বাহিনী গুলি চালিয়েছে এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি, মুজাফ্ফরাবাদ জেলার মাকরি এলাকায় সাধারণ মানুষের বাইকে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।