Pakistan: FATF-র কড়া নজর এড়াতে নয়া নাটক! জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের মাথার দাম বাড়িয়ে ৭০ লক্ষ করল পাকিস্তান

Pakistan: সম্প্রতি মাসুদ আজহারের জঙ্গি সংগঠন ভারতের বড়সড় প্রত্যাঘাতের মুখোমুখি হয়েছিল।

Published on: Sep 14, 2026, 19:34:51 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Pakistan: আসন্ন ফাইনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (FATF) প্লেনারি বৈঠকের ঠিক আগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখে ধুলো দিতেই কী বড় পদক্ষেপ করল পাকিস্তান? পাকিস্তানের (Pakistan) ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (FIA)-র প্রকাশিত ২০২৬ সালের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসবাদীদের নতুন তালিকা বা ‘রেড বুক’-এ নাম রয়েছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) প্রধান মাসুদ আজহারের। শুধু তাই নয়, তার মাথার ওপর পুরস্কারের অর্থ ২০ লক্ষ রুপি (PKR) বাড়িয়ে মোট ৭০ লক্ষ পাকিস্তানি রুপি (২৪.০৯ লক্ষ টাকা) করা হয়েছে।

জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের মাথার দাম বাড়িয়ে ৭০ লক্ষ করল পাকিস্তান (সৌজন্যে টুইটার)
জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের মাথার দাম বাড়িয়ে ৭০ লক্ষ করল পাকিস্তান (সৌজন্যে টুইটার)

এতদিন পাকিস্তান ক্রমাগত দাবি করে এসেছিল যে, মাসুদ আজহার নাকি সে দেশে নেই। সে নাকি আফগানিস্তানে পালিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রয়েছে। তবে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মূল্যায়ন সম্পূর্ণ বিপরীত। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সাম্প্রতিক তথ্য ও টেকনিক্যাল অ্যানালিসিস বলছে, সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। গত ছয় মাসের গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, মাসুদ আজহার আসলে দেশ ছেড়ে কোথাও যায়নি, সে বর্তমানে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের নওয়াবশাহ (Nawabshah) শহরেই বহাল তবিয়তে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের নতুন ‘রেড বুক’-এ আজহারকে রাখা এবং পুরস্কারের পরিমাণ বৃদ্ধি করার বিষয়টিকে পাকিস্তানের স্রেফ এক ‘আই-ওয়াশ’ বা কৌশলগত চাল বলেই মনে করছে ভারতীয় গোয়েন্দা মহল।

৫৮ বছর বয়সি মাসুদ আজহার নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত পুলওয়ামা হামলা—যাতে ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন-সহ ভারতে ঘটা একাধিক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার মূল মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ওয়ান্টেড আজহার। সম্প্রতি মাসুদ আজহারের এই জঙ্গি সংগঠন ভারতের বড়সড় প্রত্যাঘাতের মুখোমুখি হয়েছিল। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)-এর অধীনে চালানো নিখুঁত এয়ার স্ট্রাইকে সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার ভেতরে পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরের ‘মারকাজ সুবহানাল্লাহ’ সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও তাকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ভারত সরকারের সন্ত্রাসবাদীদের তালিকাতেও রয়েছে তার নাম।

আগামী ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর প্যারিস-ভিত্তিক ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)-এর বৈঠক হবে। সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং মানি লন্ডারিং রুখতে কোনও দেশের পদক্ষেপ খতিয়ে দেখে এফএটিএফ। বিশ্লেষকদের মতে, অক্টোবরে নির্ধারিত এফএটিএফ (FATF)-এর গুরুত্বপূর্ণ প্লেনারি বৈঠকের আগে বৈশ্বিক চাপ এড়াতে এবং পাকিস্তানকে ‘গ্রে লিস্ট’-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে বাঁচাতে এটি ইসলামাবাদের একটি লোক দেখানো কৌশল মাত্র। আন্তর্জাতিক মহলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ভুয়ো বার্তা দিতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতের বুকে হওয়া একাধিক ভয়াবহ জঙ্গি হামলার মূল চক্রী জইশ-ই-মহম্মদের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহার । ২০০১ সালের সংসদ ভবনে হামলা, ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা, ২০১৬ সালের পাঠানকোট হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার মতো ঘটনাতেও সংগঠনটির নাম উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে ১০ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর তার নাম আবারও সামনে আসে।

কে এই মাসুদ আজহার?

১৯৯৯ সালে আইসি-৮১৪ (IC-814) বিমান অপহরণ কাণ্ডের পরে যাত্রীদের মুক্তির বিনিময়ে ভারত যে তিন জঙ্গিকে জেল থেকে ছেড়েছিল, তাদের মধ্যে ছিল মাসুদ আজহার। মুক্তির পরেই জইশ-ই-মহম্মদ গড়ে তোলে আজহার। গত বছর 'অপারেশন সিঁদুর'-এর সময়ে ভারতীয় বায়ুসেনার অভিঘাতে মাসুদের ১০ আত্মীয় প্রাণ হারিয়েছিল। জম্মু ও কাশ্মীরে পহেলগাঁও হামলার পর গত ৭ মে ভারতীয় সেনা ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গিঘাঁটিতে পাল্টা অভিযান চালায়। ধ্বংস করা হয় অন্তত ৯টি ঘাঁটি।