Pakistan Temple Demolished: পাকিস্তানে ১২৫ বছরের পুরনো হিন্দু মন্দির ভাঙা হল মাদ্রাসার সম্প্রসারণের জন্য! সরকার বলছে...

অভিযোগ, গত ২১ অগস্ট মন্দিরটি ভেঙে দেওয়া হয়। সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির দাবি, নিষিদ্ধ কট্টরপন্থী ইসলামপন্থী সংগঠন টিএলপির সঙ্গে যুক্ত কিছু ধর্মীয় উগ্রপন্থী এই ধ্বংসের ঘটনায় জড়িত। অভিযোগ আরও গুরুতর। পাশের একটি মাদ্রাসার জমি সম্প্রসারণের জন্যই মন্দিরের জমি দখলের চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।

Published on: Sep 1, 2026, 11:36:25 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে শতাব্দীপ্রাচীন একটি হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলার অভিযোগকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মানুষ, সংখ্যালঘু সংগঠন এবং একটি রাজনৈতিক দল ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে প্রায় ১২৫ বছরের পুরনো মন্দিরটি আগের অবস্থায় পুনর্নির্মাণ করার দাবিও উঠেছে। মন্দিরটি নারওয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে অবস্থিত। লাহোর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরের এই এলাকায় মন্দিরটি প্রায় এক হাজার বর্গমিটার জমির উপর ছিল বলে জানা গিয়েছে।

পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে শতাব্দীপ্রাচীন একটি হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলার অভিযোগকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে শতাব্দীপ্রাচীন একটি হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলার অভিযোগকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ, গত ২১ অগস্ট মন্দিরটি ভেঙে দেওয়া হয়। সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির দাবি, নিষিদ্ধ কট্টরপন্থী ইসলামপন্থী সংগঠন তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান বা টিএলপির সঙ্গে যুক্ত কিছু ধর্মীয় উগ্রপন্থী এই ধ্বংসের ঘটনায় জড়িত। অভিযোগ আরও গুরুতর। পাশের একটি মাদ্রাসার জমি সম্প্রসারণের জন্যই মন্দিরের জমি দখলের চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।

তবে পাকিস্তান সরকারের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। সরকারের দাবি, প্রবল বৃষ্টির কারণে মন্দিরটি নিজে থেকেই ভেঙে পড়ে। ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড বা ইটিপিবির এক আধিকারিক রানা ইফতিখার জানিয়েছেন, মন্দিরটির বয়স আনুমানিক ১০০ থেকে ১২৫ বছর। সরকারি নথিতে মন্দিরটির নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ না থাকলেও এটি যে অত্যন্ত পুরনো ধর্মীয় স্থাপনা, তা স্বীকার করেছে প্রশাসন।

সরকারের এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংখ্যালঘু সংগঠনগুলি। পাকিস্তান মসিহা মিল্লাত পার্টি বা পিএমএমপির চেয়ারম্যান আসলাম পারভেজ সাহোত্রা পঞ্জাব সরকারের কাছে তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, মন্দির রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরা যথাযথ ব্যবস্থা নেননি।

সাহোত্রার আরও অভিযোগ, মন্দির ভেঙে যাওয়ার পর তার শিখরের ধাতব অংশ, ইট এবং অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ঘটনাটি শুধু প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে ধ্বংসস্তূপ থেকে সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নও উঠত না। মন্দির সংলগ্ন জমি নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাহোত্রার দাবি, ওই জমি আগে একটি মাদ্রাসা তৈরির জন্য ইটিপিবি লিজ দিয়েছিল। কিন্তু বহু বছর ভাড়া না দেওয়ায় এবং নির্দিষ্ট কাজে জমি ব্যবহার না হওয়ায় সেই লিজ পরে বাতিল করা হয়।

তিনি আরও দাবি করেছেন, ইটিপিবির সিয়ালকোট শাখার ডেপুটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর গত ২৯ জানুয়ারি একটি নির্দেশ জারি করে লিজ বাতিল করেন। একইসঙ্গে বেআইনি দখলদারদের উচ্ছেদ এবং সম্পত্তি সিল করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ।

হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারাও ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। নারওয়াল জেলা পিস কমিটির সদস্য রতন লাল বলেছেন, মন্দির রক্ষা এবং জমি থেকে বেআইনি দখল সরাতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় হিন্দু কমিটির সদস্যরা এখনও ওই এলাকায় যেতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ, মাদ্রাসাটি এখনও সেখানে চালু রয়েছে।

রতন লাল মন্দিরটি মূল কাঠামো অনুযায়ী পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে পঞ্জাবের হিন্দু মন্দির, শিখ গুরুদ্বার এবং খ্রিস্টান গির্জাগুলির নিরাপত্তা বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছেন তিনি। ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। ১১ এপ্রিলের একটি প্রতিবেদনে স্থানীয় পুলিশ ওই মন্দির নিয়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানত এবং সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কাও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে পরে মন্দির ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

ইটিপিবির আধিকারিক রানা ইফতিখার অবশ্য জানিয়েছেন, মন্দিরের নিজস্ব জমি কাউকে লিজ দেওয়া হয়নি। পাশের জমি মাদ্রাসার জন্য লিজ দেওয়া হয়েছিল। মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে ইটিপিবির শীর্ষ আধিকারিকরা সিদ্ধান্ত নেবেন। সব মিলিয়ে, পাকিস্তানে প্রাচীন হিন্দু মন্দির ভাঙার এই ঘটনা নতুন করে সংখ্যালঘু ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এটি সত্যিই প্রবল বৃষ্টিতে ধসে পড়েছিল, নাকি পরিকল্পিতভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা সামনে আসার অপেক্ষায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More