Pakistan invites Narendra Modi: ১২ বছর পর পাকিস্তানে যাবেন মোদী? ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ
পরবর্তী বছরের এসসিও রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মেলন ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে কি না, তা নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কি ১২ বছর পর আবার পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখবেন? এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে কূটনৈতিক মহলে। কারণ, আগামী ২০২৭ সালে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও-র শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করবে পাকিস্তান। সম্মেলন হবে ইসলামাবাদে।

বিশকেকে ২০২৬ সালের এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের পরই পাকিস্তান সংগঠনটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছে। ২০২৬-২৭ মেয়াদে এই দায়িত্ব থাকবে ইসলামাবাদের হাতে। পাকিস্তান সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, পরবর্তী বছরের এসসিও রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মেলন ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হবে।
এই সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে কি না, তা নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল, এসসিও-র নিয়ম অনুযায়ী সব সদস্য রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। সেই তালিকায় ভারতও থাকবে।
বিশকেকে অবশ্য ভারত ও পাকিস্তানের দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ছিল আলাদা তাৎপর্যের। সেখানে নরেন্দ্র মোদী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের পুরো পরিবেশ ধ্বংস করতে হবে। কোনও দেশ যেন সন্ত্রাসবাদকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সেই বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। পাশাপাশি জলকে রাজনৈতিক চাপ তৈরির অস্ত্র না করার বার্তাও দিয়েছেন। ফলে একই মঞ্চে থেকেও দুই দেশের অবস্থানের ফারাক স্পষ্ট হয়েছে। এখন প্রশ্ন, এমন পরিস্থিতিতে ২০২৭ সালে ইসলামাবাদ যাবেন কি মোদী?
নয়াদিল্লির অবস্থান এখনও চূড়ান্ত নয়। সূত্রের দাবি, সম্মেলনের সময়কার আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ আমন্ত্রণ পেলেই যে প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান যাবেন, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই।
এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত এসসিও সম্মেলনে যোগ দেননি মোদী। ভারতের হয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ফলে ২০২৭ সালের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর কূটনৈতিক দিক থেকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদী শেষবার পাকিস্তানে গিয়েছিলেন ২০১৫ সালে। আফগানিস্তান সফর শেষে আচমকাই লাহোরে নেমেছিলেন তিনি। সেই সফর ছিল অপ্রত্যাশিত এবং কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কিন্তু তারপর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে যায়। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে গভীর টানাপোড়েন তৈরি হয়। ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান এখনও সীমান্তপারের সন্ত্রাসে মদত দেওয়া বন্ধ করেনি। এই অবস্থায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনাও কার্যত থমকে রয়েছে।
ফলে এসসিও-র মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চই দুই দেশের নেতাদের একই জায়গায় আনার অন্যতম সুযোগ। ২০২৬ সালের বিশকেক সম্মেলনেও দুই নেতা একই মঞ্চে ছিলেন। আগামী বছর ইসলামাবাদে যদি মোদী উপস্থিত হন, তাহলে সেটি নিঃসন্দেহে বড় কূটনৈতিক বার্তা বহন করবে।
তবে সফর হলেও সেটিকে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সংকেত হিসেবে দেখা হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভারতের মূল অবস্থান এখনও স্পষ্ট—সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হলে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক আলোচনা সম্ভব নয়।
তাই ২০২৭ সালের ইসলামাবাদ এসসিও সম্মেলন এখন থেকেই নজরে। একদিকে পাকিস্তানের আমন্ত্রণ। অন্যদিকে ভারতের নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদের প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত মোদী ইসলামাবাদে যাবেন কি না, তার উত্তর নির্ভর করবে আগামী এক বছরে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে যায় তার উপর।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


