বাংলায় হানিট্র্যাপ চক্র গড়ার ছক, উঠতি মডেলদের টার্গেট করছিল জঙ্গিরা

ধৃত জঙ্গি এজেন্ট হামিম মণ্ডলই ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জের বাসিন্দা অর্পিতা সরকারকে এই চক্রে নিয়ে আসে। মডেলিং ও অভিনয়ে সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রথমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে বেশি টাকা রোজগারের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে হানিট্র্যাপের কাজে নামানো হয় বলে তদন্তে জানা গিয়েছে।

Published on: Aug 3, 2026, 12:37:27 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাংলায় হানিট্র্যাপের মাধ্যমে বড় ধরনের নাশকতার জাল বিছানোর পরিকল্পনা করছিল পাকিস্তান-যোগ থাকা জঙ্গি চক্র। তদন্তে উঠে এসেছে, সুন্দরী যুবতী ও উঠতি মডেলদের ব্যবহার করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলার ছক কষা হয়েছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, রাজ্যের অন্তত ছয়জন মন্ত্রী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করা হয়েছিল। এই চক্রে ধৃত অর্পিতা সরকার ছাড়াও আরও কোনও মহিলা যুক্ত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ধৃত জঙ্গি এজেন্ট হামিম মণ্ডলই ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জের বাসিন্দা অর্পিতা সরকারকে এই চক্রে নিয়ে আসে।
ধৃত জঙ্গি এজেন্ট হামিম মণ্ডলই ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জের বাসিন্দা অর্পিতা সরকারকে এই চক্রে নিয়ে আসে।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ধৃত জঙ্গি এজেন্ট হামিম মণ্ডলই ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জের বাসিন্দা অর্পিতা সরকারকে এই চক্রে নিয়ে আসে। মডেলিং ও অভিনয়ে সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রথমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে বেশি টাকা রোজগারের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে হানিট্র্যাপের কাজে নামানো হয় বলে তদন্তে জানা গিয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, শুধু মৌখিক নির্দেশ নয়, পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলাররা সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে অর্পিতাকে বিশেষ প্রশিক্ষণও দেয়। কীভাবে কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে হবে, কীভাবে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং পরে সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে অর্থ আদায় বা ব্ল্যাকমেল করতে হবে, সে বিষয়ে ধাপে ধাপে নির্দেশ পাঠানো হতো।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হাওড়ার এক মন্ত্রীর ছেলেকে লক্ষ্য করেই প্রথম বড় পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অভিযোগ, প্রায় চার মাস ধরে অর্পিতা তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিল। প্রথমে বন্ধুত্ব, পরে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা ছিল। শুধু তোলাবাজিই নয়, পরে ওই ব্যক্তিকে অপহরণের ছকও কষা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।

গোয়েন্দাদের মতে, পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন শেহজাদ ভাট্টি গ্যাং এবং তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্থান (টিটিএইচ) পশ্চিমবঙ্গে মহিলা-ভিত্তিক একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চাইছিল। সেই লক্ষ্যেই সামাজিক মাধ্যমে সুন্দরী যুবতী, উঠতি মডেল এবং অভিনয়ে আগ্রহী তরুণীদের টার্গেট করা হচ্ছিল। তাঁদের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধীরে ধীরে জঙ্গি চক্রের কাজে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছিল।

তদন্তে জানা গিয়েছে, হামিম মণ্ডলের মতো এজেন্টদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পাকিস্তান থেকে পাঠানো নির্দেশে বলা হয়েছিল, প্রথমে সামাজিক মাধ্যমে বন্ধুত্ব করতে হবে। তারপর সরাসরি দেখা করে বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। প্রয়োজনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা বা বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার মতো কৌশলও নিতে বলা হয়েছিল। একবার সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেলে সেই মহিলাদের হানিট্র্যাপের কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল।

রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এখন খতিয়ে দেখছে, এই চক্রের মাধ্যমে আর কতজনকে টার্গেট করা হয়েছিল। অর্পিতা সরকারের মোবাইল ফোন, সামাজিক মাধ্যমের চ্যাট, আর্থিক লেনদেন এবং হামিম মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

তদন্তকারীদের আশঙ্কা, এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে একটি সুসংগঠিত হানিট্র্যাপ চক্র গড়ে তোলার চেষ্টা চলছিল। সেই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত এবং তারা কতদূর পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, তা জানতে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More