Pakistan Lies: ১৯৫১ সালেও ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের গুজব ছড়িয়েছিল পাকিস্তান! লিয়াকত আলি খানের সেই অভিযোগ ঘিরে ফের চর্চা

১৯৫১ সালের জুলাই মাসে লিয়াকত আলি খান ব্রিটেন, আমেরিকা-সহ একাধিক দেশের কাছে অভিযোগ করেন যে, ভারত পাকিস্তান সীমান্তে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে এবং যে কোনও সময় হামলা চালাতে পারে। শুধু দ্বিপাক্ষিক পর্যায়েই নয়, বিষয়টি তিনি রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও উত্থাপন করেন।

Published on: Jul 17, 2026, 09:31:10 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা এবং আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে নানা ধরনের প্রচার চালানোর অভিযোগ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নতুন নয়। স্বাধীনতার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে নয়াদিল্লিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে ইসলামাবাদ। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল ১৯৫১ সালে, যখন তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খান গোটা বিশ্বে দাবি করেছিলেন, ভারত পাকিস্তানের উপর সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও ভারতের পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছিল।

১৯৫১ সালের জুলাই মাসে লিয়াকত আলি খান অভিযোগ করেছিলেন যে, ভারত পাকিস্তান সীমান্তে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে এবং যে কোনও সময় হামলা চালাতে পারে।
১৯৫১ সালের জুলাই মাসে লিয়াকত আলি খান অভিযোগ করেছিলেন যে, ভারত পাকিস্তান সীমান্তে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে এবং যে কোনও সময় হামলা চালাতে পারে।

ইতিহাসের সেই ঘটনাকে ঘিরে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। ১৯৫১ সালের জুলাই মাসে লিয়াকত আলি খান ব্রিটেন, আমেরিকা-সহ একাধিক দেশের কাছে অভিযোগ করেন যে, ভারত পাকিস্তান সীমান্তে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে এবং যে কোনও সময় হামলা চালাতে পারে। শুধু দ্বিপাক্ষিক পর্যায়েই নয়, বিষয়টি তিনি রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও উত্থাপন করেন।

পাকিস্তানের অভিযোগ ছিল, ভারত জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাঞ্জাব সীমান্তে নিজের প্রায় ৯০ শতাংশ সেনা মোতায়েন করেছে। এর ফলে শুধু পাকিস্তানের নিরাপত্তাই নয়, আন্তর্জাতিক শান্তিও বিপদের মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছিলেন লিয়াকত আলি খান। তাঁর বক্তব্য ছিল, পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন।

এমনকি ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকেও একটি টেলিগ্রাম পাঠিয়েছিলেন লিয়াকত আলি। সেই বার্তায় তিনি ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়ানোর আবেদন জানান। তবে ওই টেলিগ্রামের ভাষা এবং তাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর মোতায়েন সংক্রান্ত যে তথ্য দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। লিয়াকতের দাবি ছিল, ভারতের মাত্র তিনটি ব্রিগেড দেশের অভ্যন্তরে রয়েছে, বাকি প্রায় সমস্ত সেনাই পাকিস্তান সীমান্তে পাঠানো হয়েছে।

তৎকালীন ভারত সরকার অবশ্য এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছিল। ভারতের পররাষ্ট্রনীতি বরাবরই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের উপর জোর দিয়েছে। স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও সেই সময় দেশের একাংশ নেহরুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয় নীতি নেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল, তবুও তিনি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে যান।

ইতিহাসবিদদের মতে, সেই সময় নেহরু পাকিস্তানের সামনে একটি যুদ্ধ-বিরোধী যৌথ ঘোষণা বা 'নো-ওয়ার ডিক্লারেশন'-এর প্রস্তাবও রেখেছিলেন। তাঁর প্রস্তাব ছিল, ভারত ও পাকিস্তান যৌথভাবে ঘোষণা করুক যে, কোনও পরিস্থিতিতেই দুই দেশ যুদ্ধের পথ বেছে নেবে না এবং সমস্ত দ্বিপাক্ষিক সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করবে।

তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খান সেই প্রস্তাবে সম্মত হননি। বরং তিনি আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আগ্রাসনের অভিযোগ তুলে প্রচার চালাতে থাকেন। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সেই সময় পাকিস্তানের এই অভিযোগের নেপথ্যে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় এবং কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের উপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার লক্ষ্য থাকতে পারে। যদিও সেই অভিযোগের পক্ষে কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ কখনও সামনে আসেনি।

স্বাধীনতার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ইতিহাসে ১৯৫১ সালের এই ঘটনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হয়। সাত দশকেরও বেশি সময় পরে সেই পুরনো বিতর্ক আবার সামনে আসায় দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাস এবং তৎকালীন কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More