Pak Navy helps Indian Cargo Ship: আটকে পড়া ভারতগামী জাহাজকে সাহায্য পাক নৌবাহিনীর, তার মধ্যেও 'কাশ্মীর কুটকাচালি'

পাকিস্তানি নৌবাহিনী জাহাজটির নাবিকদের খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা প্রদান করেছে বলে দাবি করা হল রিপোর্টে। এদিকে পাকিস্তান নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য পিএমএসএস কাশ্মীর নামের একটি জাহাজ মোতায়েন করেছে।

Published on: May 06, 2026 1:27 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

গুরুতর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আরব সাগরে আটকে পড়েছিল একটি ভারতীয় জাহাজ। সেই জাহাজের বিপদ সংকেতে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানি নৌবাহিনী জাহাজটির নাবিকদের খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা প্রদান করেছে বলে দাবি করা হল রিপোর্টে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতি উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওমান থেকে ভারতে আসার পথে এমভি গৌতম নামের জাহাজটি গুরুতর যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে সমুদ্রে আটকা পড়েছিল।

পাকিস্তান নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য পিএমএসএস কাশ্মীর নামের একটি জাহাজ মোতায়েন করেছে।
পাকিস্তান নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য পিএমএসএস কাশ্মীর নামের একটি জাহাজ মোতায়েন করেছে।

মুম্বইয়ের মেরিটাইম রেসকিউ অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন সেন্টার ইসলামাবাদে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে সহায়তার আবেদন জানিয়েছিল। এরপর পাকিস্তান নৌবাহিনী একটি উদ্ধার ও সহায়তা অভিযান শুরু করে। সেই জাহাজে ছয়জন ভারতীয় ও একজন ইন্দোনেশীয় নাবিক আছেন। পাকিস্তান নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য পিএমএসএস কাশ্মীর নামের একটি জাহাজ মোতায়েন করেছে। মনে করা হচ্ছে, পাকিস্তান ইচ্ছে করে কাশ্মীরের নামে থাকা জাহাজটিকে ভারতের জাহাজ উদ্ধার অভিযানে পাঠাচ্ছে। কাশ্মীর নিয়ে নিজেদের ভিত্তিহীন দাবি পুনর্ব্যক্ত করতে এই ঘটনাকে বেছে নিয়েছে ইসলামাবাদ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পরও হরমুজ প্রণালীর কাছে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে হরমুজের কাছে ভারত ও পাকিস্তানের নৌবাহিনীকে একে অপরের খুবই কাছে কাজ করছে। প্রসঙ্গত, বর্তমানে ইরানের বন্দর থেকে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের দাবি, হরমুজের ওপর এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। প্রসঙ্গত, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই ভারতের কয়েকটি জাহাজ দেশে আসতে সক্ষম হয়েছে। এই আবহে ভারত ওমান উপসাগরে আরও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকেই ওমান উপসাগর থেকে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজকে এসকর্ট করে দেশের বন্দরে নিয়ে আসে ভারতীয় নৌবাহিনী। আর বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতেও ভারতীয় রণতরীগুলি সেই দায়িত্ব পালন করে চলেছে।

হরমুজ প্রণালী আদতে কী? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী অবরুদ্ধ করে রাখা সহজ।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রাথমিক ভাবে ১০ মার্চ পর্যন্ত ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল ইরান। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর ১১ মার্চ কার্গো জাহাজে হামলার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় ইরান। গভীর রাতে অন্তত ৫-৬টি জাহাজে হামলা চালায় তারা। এখনও পর্যন্ত ১ মার্চ ওমানের খসব বন্দরে এমটি স্কাইলাইট নামক তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার জেরে প্রাণ হারিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন আশিস কুমার এবং অয়লার পদে থাকা দিলীপ সিং। এদিকে ওমানের মাস্কাটের থেকে ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা এমকেডি ব্যোম নামক ট্যাঙ্কারে হামলা করা হলে প্রাণ হারান অয়লার দিক্ষীত অমৃতলাল সোলাঙ্কি। ইরাকের জলসীমায় সেফ-সি বিষ্ণু নামক মার্কিন জাহাজে প্রাণ হারান দেবানন্দন প্রসাদ সিং। ইরান যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজের যত নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁরা সকলেই ভারতীয়। এছাড়া বহু ভারতীয় নাবিক জখমও হয়েছেন এই সব হামলায়। ভারত এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এরই সঙ্গে ওমান উপসাগরে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More