Pakistan Nuclear Doctrine: অপারেশন সিঁদুরের পর বদলেছে পাকিস্তানের পরমাণু কৌশল? নজর এখন প্রচলিত অস্ত্রে

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। এর জবাবে ভারত অপারেশন সিঁদুর শুরু করে। পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি পরিকাঠামোয় হামলা চালায় ভারত। এরপর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হয়।

Published on: Aug 16, 2026, 12:07:25 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক সংঘাত পাকিস্তানের সামনে নতুন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। একটি মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ওই সংঘর্ষের পর পাকিস্তান বুঝতে শুরু করেছে, শুধু পরমাণু অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভারতকে সবসময় ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই পাকিস্তানের সামরিক কৌশলে এখন প্রচলিত অস্ত্র এবং সেনাশক্তির গুরুত্ব বাড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তান বুঝতে শুরু করেছে, শুধু পরমাণু অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভারতকে সবসময় ঠেকানো সম্ভব নয়। (AFP)
মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তান বুঝতে শুরু করেছে, শুধু পরমাণু অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভারতকে সবসময় ঠেকানো সম্ভব নয়। (AFP)

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। এর জবাবে ভারত অপারেশন সিঁদুর শুরু করে। পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি পরিকাঠামোয় হামলা চালায় ভারত। এরপর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হয়। এই সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা কী ছিল, তা নিয়েই আলোচনা চলছে। রিপোর্টের দাবি, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র ভারতকে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারেনি। একইসঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পরও ইসলামাবাদকে কোনও দ্রুত ও নির্ণায়ক সুবিধা এনে দিতে পারেনি।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে পরমাণু অস্ত্রের গুরুত্ব কিছুটা পিছিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর একটি উদাহরণ হিসেবে ২০২৬ সালে পাকিস্তানের সরকারি প্রচারের ধরন তুলে ধরা হয়েছে। মে মাসে ২০২৫ সালের সংঘাতের প্রথম বর্ষপূর্তি ‘মার্কা-এ-হক’ নামে পালিত হয়। সেখানে পাকিস্তানের সামরিক সাফল্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ১৯৯৮ সালের পরমাণু পরীক্ষার স্মরণে ‘ইয়ৌম-এ-তাকবির’ এবার তুলনামূলক ভাবে কম গুরুত্ব পেয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি।

ইসলামাবাদের বিভিন্ন প্রচারমূলক পোস্টার ও হোর্ডিংয়েও নাকি এই পরিবর্তন দেখা গেছে। সেখানে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে সেনা, সামরিক নেতৃত্ব এবং যুদ্ধক্ষেত্রের সাফল্যকে বেশি তুলে ধরা হয়েছে। এর পেছনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক স্বার্থও কাজ করতে পারে বলে রিপোর্টের দাবি। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর জনপ্রিয়তা ও ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই পরিস্থিতিতে পরমাণু শক্তির প্রচারের চেয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের সাফল্য দেখানো জনমত তৈরিতে বেশি কার্যকর হতে পারে।

এদিকে পাকিস্তান প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াচ্ছে। নতুন আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ড তৈরির মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রচলিত অস্ত্রের দিকে বাড়তি জোর দেওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

রিপোর্টে পাকিস্তানের ‘ফুল-স্পেকট্রাম ডিটারেন্স’ নীতির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই নীতির মূল ধারণা ছিল, পরমাণু অস্ত্রের ভয় ভারতকে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখবে। কিন্তু ২০২৫ সালের সংঘাত সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আরও একটি বড় সমস্যা উঠে এসেছে। পাকিস্তান যদি সাধারণ অস্ত্র দিয়ে পাল্টা হামলা চালায়, ভারত সেটিকে বড় ধরনের বা পরমাণু হামলার প্রস্তুতি হিসেবে ভুল বুঝতে পারে। এই আশঙ্কা সংকটকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। মে ২০২৫-এর সংঘাতের সময় পাকিস্তানের পরমাণু কমান্ড কাঠামো নিয়ে আলোচনাও প্রকাশ্যে আসে। এতে বোঝা যায়, পরিস্থিতি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক হস্তক্ষেপে সংঘাত থামে।

সব মিলিয়ে রিপোর্টের মূল বার্তা হল, পরমাণু অস্ত্র কোনও দেশের নিরাপত্তার সব সমস্যার সমাধান নয়। বরং ভুল বোঝাবুঝি, সামরিক চাপ এবং বড় সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা তাই ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More