Pakistan on Indian Diplomat's Islamabad Visit: পাকিস্তান সফরে ভারতের এসসিও কোঅর্ডিনেটর, কী বলছে পাক বিদেশ মন্ত্রক?

অলোক দিমরির নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধি দল ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে এসসিও-র জাতীয় সমন্বয়কারীদের বৈঠকে অংশ নেয়। পাকিস্তানের ২০২৬-২৭ সালের এসসিও সভাপতিত্বের অধীনে এটিই ছিল প্রথম জাতীয় সমন্বয়কারীদের বৈঠক। 

Published on: Oct 2, 2026, 08:05:31 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই ইসলামাবাদে হাজির ভারতের এক শীর্ষ কূটনীতিক। সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও-র জাতীয় সমন্বয়কারী অলোক দিমরির পাকিস্তান সফরে গিয়েছেন। এবং তাঁর এই সফরকে এ বার ‘স্বাগত পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করল ইসলামাবাদ। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান জানিয়েছেন, প্রায় দু’বছর পর ভারতের কোনও শীর্ষ আধিকারিক পাকিস্তান সফরে গিয়েছেন। এসসিও-র মঞ্চে এই উপস্থিতি দুই দেশের মধ্যে নয়, গোটা অঞ্চলের শান্তি, উন্নয়ন, যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং ট্রানজিট নিয়ে অভিন্ন লক্ষ্যকে তুলে ধরেছে বলেই দাবি তাঁর।

অলোক দিমরির নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধি দল ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে এসসিও-র জাতীয় সমন্বয়কারীদের বৈঠকে অংশ নেয়।
অলোক দিমরির নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধি দল ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে এসসিও-র জাতীয় সমন্বয়কারীদের বৈঠকে অংশ নেয়।

অলোক দিমরির নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধি দল ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে এসসিও-র জাতীয় সমন্বয়কারীদের বৈঠকে অংশ নেয়। পাকিস্তানের ২০২৬-২৭ সালের এসসিও সভাপতিত্বের অধীনে এটিই ছিল প্রথম জাতীয় সমন্বয়কারীদের বৈঠক। আগামী এক বছরে সংগঠনের বিভিন্ন বৈঠক, কর্মসূচি এবং ২০২৭ সালের রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে।

এই সফরের পরেই পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মন্তব্য তাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, দিমরির উপস্থিতি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক সফর নয়। তাঁর কথায়, এসসিও-র সদস্য দেশগুলির সামনে শান্তি, উন্নয়ন, যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং ট্রানজিটের মতো বিষয়ে এক ধরনের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। সেই জায়গা থেকেই ভারতীয় আধিকারিকের ইসলামাবাদে যোগ দেওয়া ‘স্বাগত পদক্ষেপ’। আগামী এক বছর পাকিস্তানে এসসিও-র আরও অনুষ্ঠানেও অন্য সদস্য দেশগুলির প্রতিনিধিদের উপস্থিতি থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ইসলামাবাদ।

এ দিকে পাকিস্তানের সরকারি টেলিভিশন পিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিমরির কথাতেও ছিল সহযোগিতার বার্তা। তিনি বলেন, এসসিওর মাধ্যমে ইউরেশিয়া ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এক জায়গায় এসেছে। আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং ট্রানজিট নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই এখন বড় লক্ষ্য। এই সংগঠনের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলির উন্নতি এবং পারস্পরিক কল্যাণের একটি যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শুধু অর্থনীতি বা যোগাযোগ নয়, সংস্কৃতির কথাও এসেছে দিমরির বক্তব্যে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রস্তাবিত ‘সভ্যতা সংলাপ’ আয়োজনের সিদ্ধান্ত এসসিও-র সদস্য দেশগুলি নিয়েছে বলে জানান তিনি। আগামী ২০ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে সেই ফোরামের প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা। দিমরির মতে, দীর্ঘ ইতিহাস ও নানা সভ্যতার দেশগুলিকে এক জায়গায় আনার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

সফর চলাকালীন পাকিস্তানের আরও কিছু শহর দেখার আগ্রহের কথাও জানান দিমরি। ইসলামাবাদই তাঁর প্রথম সফর। তবে লাহোর, শিয়ালকোট এবং ফয়সালাবাদ দেখার ইচ্ছা রয়েছে বলে জানান তিনি। লাহোরকে ২০২৬-২৭ সালের জন্য এসসিও-র পর্যটন ও সাংস্কৃতিক রাজধানী করা হয়েছে। বছরভর বিভিন্ন অনুষ্ঠান চলবে, তাই আগামী দিনে পাকিস্তানের আরও অংশ দেখার সুযোগ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে এই সফরকে এখনই ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলার সূচনা বলে দেখা হচ্ছে না। ভারত জানিয়েছে, এসসিও-র মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করবে দিল্লি। কিন্তু দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ক্ষেত্রে সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশের প্রয়োজনীয়তার কথাও বার বার জানিয়েছে ভারত। ফলে ইসলামাবাদ সফরটি আপাতত এসসিও-কেন্দ্রিক কূটনৈতিক যোগাযোগ হিসাবেই রয়েছে।

তবু তাৎপর্য কম নয়। এক দিকে ইসলামাবাদে ভারতীয় আধিকারিক, অন্য দিকে তাঁকে স্বাগত জানাচ্ছে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক এখনও টানাপোড়েনে থাকলেও, এসসিও-র মঞ্চে যোগাযোগ যে পুরোপুরি থেমে নেই, এই সফর তারই নতুন ছবি।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More