Pakistan Threatens India: স্বাধীনতা দিবসের আগে পাকিস্তানের হুমকি- ‘২০২৫ মে-এর থেকেও বড় জবাব দেব’, পাল্টা বার্তা ভারতের

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শরিফ বলেছেন, পাকিস্তান শান্তি চায়, যুদ্ধ নয়। তবে সেই শান্তির অবস্থানকে যেন কেউ দুর্বলতা হিসেবে না দেখে। তাঁর কথায়, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হলে আরও কঠোরভাবে তার জবাব দেওয়া হবে।

Published on: Aug 14, 2026, 11:32:07 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের আগে ফের ভারতকে নিশানা করে হুমকি দিলেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ভারতের নাম না করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব বা নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ করা হলে মে ২০২৫-এর থেকেও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের আগে ফের ভারতকে নিশানা করে হুমকি দিলেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। (AP)
পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের আগে ফের ভারতকে নিশানা করে হুমকি দিলেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। (AP)

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শরিফ বলেছেন, পাকিস্তান শান্তি চায়, যুদ্ধ নয়। তবে সেই শান্তির অবস্থানকে যেন কেউ দুর্বলতা হিসেবে না দেখে। তাঁর কথায়, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হলে আরও কঠোরভাবে তার জবাব দেওয়া হবে।

শরিফের বক্তব্যের সময়কালও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত এলাকার একাধিক সন্ত্রাসী পরিকাঠামোতে হামলা করেছিল। এর পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাত আরও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে শরিফের বক্তব্যে সেই সংঘাতের বর্ণনা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, ভারত নাকি মে মাসের লড়াইয়ে পরাজয়ের পরই সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করেছিল। ভারত অবশ্য তার আগেই সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করেছিল। নয়াদিল্লির বক্তব্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসী হামলার পরই ভারত কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে একাধিক পদক্ষেপ নেয়। তখনই সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করা হয়েছিল।

ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি সংসদে স্পষ্ট জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান বদলায়নি। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক তখনই এগোতে পারে, যখন পরিবেশ সীমান্তপারের সন্ত্রাস, শত্রুতা এবং হিংসামুক্ত হবে।

পহেলগাঁও হামলার পর ভারত একাধিক পদক্ষেপের কথা সংসদে জানিয়েছে। এর মধ্যে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখা, অটারি সীমান্ত চেকপোস্ট বন্ধ করা, পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা সংক্রান্ত কড়াকড়ি এবং কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমানোর মতো পদক্ষেপ ছিল।

জয়শঙ্কর আরও বলেন, ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পরও ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল। পাকিস্তানকে দেওয়া ‘সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ’ বা MFN মর্যাদা প্রত্যাহার এবং পাকিস্তান থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের উপর ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল।

এখনও ভারতীয় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—সীমান্তপারের সন্ত্রাস বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্ভব নয়। ভারত বারবার জানিয়েছে, সন্ত্রাস এবং আলোচনার প্রক্রিয়া একসঙ্গে চলতে পারে না।

শরিফের বক্তব্যে জলের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। তিনি দাবি করেছেন, সিন্ধু নদের জল পাকিস্তানের জন্য ‘লক্ষ্মণরেখা’। ভারত সঠিক পথে না চললে পাকিস্তান জবাব দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তবে নয়াদিল্লির অবস্থান, পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাসকে রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে ব্যবহার করে চললে সেই নীতি বরদাস্ত করা হবে না।

ফলে পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের আগে শরিফের বক্তব্য নতুন করে উত্তেজনার আবহ তৈরি করলেও ভারতের অবস্থানে কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। নয়াদিল্লির বার্তা পরিষ্কার—শান্তি অবশ্যই চায় ভারত, কিন্তু তার আগে সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। আর সীমান্তপারের হামলা হলে জবাব দেওয়ার অধিকার ভারত নিজের হাতে রাখবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More