Pakistan Reaction on Gor's Kashmir Comment: কাশ্মীর নিয়ে সার্জিও গোরের মন্তব্যে তোলপাড় পাকিস্তানে, তলব US কূটনীতিককে
জম্মু ও কাশ্মীর সফরে গিয়ে গোর যখন উপত্যকাকে ভারতের 'গুরুত্বপূর্ণ অংশ' বলে মন্তব্য করলেন, তখনই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল পাকিস্তান। শুধু বিবৃতি দিয়েই থামেনি ইসলামাবাদ। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে ইসলামাবাদে থাকা মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলবও করেছে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক।
কাশ্মীর নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের মন্তব্য ঘিরে ফের প্রকাশ্যে এল ভারত-পাকিস্তান কূটনৈতিক টানাপোড়েন। জম্মু ও কাশ্মীর সফরে গিয়ে গোর যখন উপত্যকাকে ভারতের 'গুরুত্বপূর্ণ অংশ' বলে মন্তব্য করলেন, তখনই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল পাকিস্তান। শুধু বিবৃতি দিয়েই থামেনি ইসলামাবাদ। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে ইসলামাবাদে থাকা মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলবও করেছে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক।

জম্মু ও কাশ্মীরে প্রথম সফরে এসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, 'এটি ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।' কাশ্মীরের সৌন্দর্যের প্রশংসা করে গোর জানান, প্রথমবার এই অঞ্চলে এসে তিনি খুশি। ওমর আবদুল্লার সঙ্গে বৈঠককে 'ভালো' বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে জানান, বৈঠকের কিছু বিষয় তিনি ওয়াশিংটনে নিয়ে যাবেন এবং ভারত ও জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী আমেরিকা।
তবে গোরের এই মন্তব্যই পাকিস্তানের ক্ষোভের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক বুধবার এক বিবৃতিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে 'দায়িত্বজ্ঞানহীন' বলে তীব্র নিন্দা জানায়। ইসলামাবাদের বক্তব্য, জম্মু ও কাশ্মীরের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। পাকিস্তান ফের রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং 'কাশ্মীরি জনগণের আকাঙ্ক্ষা'-র প্রসঙ্গ সামনে এনেছে।
পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক দাবি করেছে, কাশ্মীরের বিষয়টি এমন একটি ইস্যু, যার সমাধান সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রস্তাব এবং কাশ্মীরিদের মতামতের ভিত্তিতেই হতে হবে। অর্থাৎ, দীর্ঘদিন ধরে ইসলামাবাদ যে অবস্থান নিয়ে এসেছে, এই ঘটনার পরও তার কোনও পরিবর্তন হয়নি। বরং গোরের মন্তব্যকে সেই অবস্থানের সরাসরি বিরোধী হিসেবে দেখছে পাকিস্তান।
কাশ্মীর ইস্যুতে ওয়াশিংটনের অবস্থান অবশ্য অতীতে অনেক বেশি কূটনৈতিক ছিল। মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিক একাধিকবার কাশ্মীরিদের 'ইচ্ছা' বা 'আকাঙ্ক্ষা'-র কথা বলেছেন। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ২০১৯ সাল থেকে একাধিকবার কাশ্মীর নিয়ে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু ভারত বরাবরই তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে এসেছে এবং কাশ্মীরকে দ্বিপাক্ষিক বিষয় হিসেবে দেখেছে।
এই প্রেক্ষাপটে গোরের প্রকাশ্য মন্তব্যকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। কারণ একজন শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক সরাসরি জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অংশ হিসেবে উল্লেখ করায় পাকিস্তানের পুরনো আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচারে ধাক্কা লাগতে পারে।
এর পাশাপাশি কাশ্মীরের মার্কিন ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন গোর। তিনি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে আমেরিকা জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য বর্তমান ‘লেভেল-৪, ডু নট ট্রাভেল’ সতর্কতা কমানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারে। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক পর্যটনে নতুন গতি আসতে পারে। তবে আপাতত কাশ্মীর নিয়ে ওয়াশিংটনের এই অবস্থানই ইসলামাবাদের অস্বস্তির কারণ। গোরের মন্তব্যে তাই শুধু কূটনৈতিক প্রতিবাদ নয়, নিজেদের পুরনো দাবি ফের জোর দিয়ে সামনে আনল পাকিস্তান।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


