Pakistan School Roof Collapse: পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ভেঙে মৃত ২৮! ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ল পড়ুয়ারা, ধৃত স্কুলের মালিক

দুর্ঘটনার পর থেকেই স্কুলের ভাঙা অংশ সরিয়ে আটকে পড়া পড়ুয়া ও কর্মীদের খোঁজ চলছে। জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা আধিকারিক ইফতিকার খান জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ৪৫ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মৃত ও আহত, দু’ধরনের পড়ুয়ারাই রয়েছে।

Published on: Oct 15, 2026, 13:48:28 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ক্লাস চলছিল। পড়াশোনায় ব্যস্ত ছোট ছোট পড়ুয়ারা। আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল স্কুলের ছাদ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কংক্রিটের ভারী চাঙড়ের নীচে চাপা পড়ল একের পর এক শিশু। চিৎকার, কান্না আর আতঙ্কে মুহূর্তে বদলে গেল স্কুলের পরিবেশ। পাকিস্তানের পেশোয়ারে বৃহস্পতিবার সকালে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ২৭ জন পড়ুয়া এবং এক শিক্ষিকা। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার পর থেকেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া পড়ুয়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা। প্রাথমিক ভাবে স্কুলবাড়িটির কাঠামো দুর্বল ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় স্কুলের মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। কী কারণে ছাদ ভেঙে পড়ল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ভেঙে মৃত ২৮! ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ল পড়ুয়ারা (REUTERS)
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ভেঙে মৃত ২৮! ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ল পড়ুয়ারা (REUTERS)

ক্লাস চলাকালীন বিপর্যয়

ঘটনাটি পেশোয়ারের দির কলোনি এলাকার আল খাইর এডুকেশন সেন্টারের। বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে পঠনপাঠন চলার সময় আচমকাই ভেঙে পড়ে ভবনের উপরের তলার ছাদ। তার ধাক্কায় নীচের তলার ছাদও ভেঙে পড়ে। ফলে শ্রেণিকক্ষে থাকা পড়ুয়ারা ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে যায়।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে হাত লাগান। ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে শিশুদের বের করে আনার জন্য শুরু হয় তৎপরতা। আহতদের অ্যাম্বুল্যান্সে করে নিয়ে যাওয়া হয় লেডি রিডিং হাসপাতালে। সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতালের মুখপাত্র মহম্মদ আসিম জানিয়েছেন, মৃত শিশুদের বয়স ১৩ বছর বা তার কম। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকারীরা।

ধ্বংসস্তূপে আটকে আরও অনেকে?

দুর্ঘটনার পর থেকেই স্কুলের ভাঙা অংশ সরিয়ে আটকে পড়া পড়ুয়া ও কর্মীদের খোঁজ চলছে। জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা আধিকারিক ইফতিকার খান জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ৪৫ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মৃত ও আহত, দু’ধরনের পড়ুয়ারাই রয়েছে।

ঘটনাস্থলের ছবি এবং ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত সতর্ক ভাবে ভাঙা কংক্রিট সরিয়ে শিশুদের বের করে আনছেন। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ুয়াদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। অন্য দিকে, স্কুলের বাইরে এবং হাসপাতালে ভিড় জমিয়েছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা। তাঁদের অনেকেই জানেন না, তাঁদের সন্তান বেঁচে আছে কি না। উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারে। তাই উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।

স্কুলের মালিক গ্রেফতার

প্রাথমিক তদন্তে স্কুলবাড়িটির কাঠামোগত দুর্বলতার বিষয়টি সামনে এসেছে। পেশোয়ারের পুলিশপ্রধান সৈয়দ আহমেদ জানিয়েছেন, স্কুলের মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ভবনটির ছাদ ঠিক কী কারণে ভেঙে পড়ল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। নির্মাণে ত্রুটি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার কিংবা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের মতো বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পাকিস্তানে দুর্বল নির্মাণকাঠামো এবং নিরাপত্তাবিধি না মানার কারণে ভবন ভেঙে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। চলতি বছরের জুলাই মাসে লাহোরে নির্মীয়মাণ একটি শিক্ষাকেন্দ্রের ছাদ ভেঙে চার পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছিল। এ বার পেশোয়ারের দুর্ঘটনা ফের স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলল।

এক দিকে সন্তানদের হারিয়ে শোকস্তব্ধ পরিবারগুলি, অন্য দিকে হাসপাতালে আহত পড়ুয়াদের চিকিৎসা চলছে। আপাতত উদ্ধারকাজ এবং আহতদের প্রাণ বাঁচানোই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি, স্কুলবাড়ির নির্মাণে গাফিলতি ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার দায় কার, তা স্পষ্ট হবে তদন্তের পরেই।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More