Pakistan Sindh Province Update: পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশ ভাগের পথে পাকিস্তান! রাজনৈতিক ঝড়ে উত্তাল সীমান্তের ওপার
পাকিস্তানে নতুন প্রদেশ বা নতুন প্রশাসনিক অঞ্চল তৈরির দাবি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক যখন ফের জোরালো হয়েছে, ঠিক সেই সময় PPP-র শীর্ষ নেতৃত্বের এই অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দলীয় সূত্রের দাবি, সিন্ধু প্রদেশের কোনও অংশ আলাদা করে দেওয়া বা নতুন প্রদেশ তৈরির যে কোনও উদ্যোগের বিরোধিতা করবে PPP।
পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশ ভাগ করার যে কোনও প্রস্তাবের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করল পাকিস্তান পিপলস পার্টি বা PPP। দলের চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি এবং প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি লন্ডনে এক বৈঠকে সিন্ধুর ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার পক্ষে সওয়াল করেছেন বলে খবর। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার ওই বৈঠকে বিলাওয়ালের বোন বখতাওয়ার ভুট্টো জারদারিও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

পাকিস্তানে নতুন প্রদেশ বা নতুন প্রশাসনিক অঞ্চল তৈরির দাবি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক যখন ফের জোরালো হয়েছে, ঠিক সেই সময় PPP-র শীর্ষ নেতৃত্বের এই অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দলীয় সূত্রের দাবি, সিন্ধু প্রদেশের কোনও অংশ আলাদা করে দেওয়া বা নতুন প্রদেশ তৈরির যে কোনও উদ্যোগের বিরোধিতা করবে PPP।
CNN-News18-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিন্ধু বিধানসভার অবস্থানকেও সমর্থন করেছে দলের নেতৃত্ব। PPP-র বক্তব্য, নতুন কোনও প্রদেশ তৈরির প্রয়োজন হলে তা রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে এবং সাংবিধানিক ও সংসদীয় প্রক্রিয়া মেনেই করতে হবে। বিশেষ করে করাচিকে আলাদা করা কিংবা দক্ষিণ সিন্ধুকে নিয়ে পৃথক প্রদেশ তৈরির যে দাবি মাঝে মাঝে সামনে আসে, সেগুলিরও বিরোধিতা করেছে দল।
এর আগে সিন্ধু বিধানসভা সর্বসম্মত ভাবে প্রদেশ ভাগ করা বা নতুন প্রশাসনিক ইউনিট তৈরির প্রস্তাব খারিজ করেছিল বলে জানা গিয়েছে। বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলি শাহও স্পষ্ট করে দেন, প্রদেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। সিন্ধুর সীমানা নিয়ে কোনও আলোচনা হলে তা সংবিধান ও সংসদীয় ব্যবস্থার মাধ্যমেই হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সিন্ধু কেন PPP-র কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। পাকিস্তানে সিন্ধুই PPP-র সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক ঘাঁটি। প্রদেশটিই দীর্ঘদিন ধরে দলটির নির্বাচনী সাফল্য এবং সিন্ধু বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সিন্ধু ভাগ হয়ে গেলে ভোটের সমীকরণ বদলে যেতে পারে এবং PPP-র দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক প্রভাবও দুর্বল হতে পারে।
শুধু রাজনৈতিক প্রভাব নয়, সিন্ধুর অর্থনৈতিক গুরুত্বও PPP-র অবস্থানের পিছনে অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। করাচি পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র। ফলে প্রদেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন হলে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে সিন্ধু ভাগের দাবিকে ঘিরে PPP-র আরও একটি উদ্বেগ সামনে এসেছে। দলীয় সূত্রের অভিযোগ, পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের সমর্থিত কোনও বৃহত্তর প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে প্রদেশের সীমানা বদলের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা বেসামরিক রাজনৈতিক ক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সামরিক প্রভাব আরও বাড়ার নজির তৈরি করতে পারে।
এই বিতর্কের মধ্যেই PPP নেতৃত্বের সঙ্গে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার এবং সামরিক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা চলছে। বিলাওয়াল এবং আসিফ আলি জারদারি বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন। সম্প্রতি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি, যাঁকে সামরিক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়, আসিফ আলি জারদারির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
সব মিলিয়ে সিন্ধু ভাগের প্রশ্নে PPP যে আপস করতে নারাজ, তা ফের স্পষ্ট। দলের কাছে বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক পুনর্গঠনের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রাজনৈতিক আধিপত্য, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং পাকিস্তানের বেসামরিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ। ফলে সিন্ধু ভাগের দাবি আগামী দিনে পাকিস্তানের রাজনীতিতে আরও বড় সংঘাতের কারণ হতে পারে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


