Terrorist in Political Parties: ISI-র 'ব্লুপ্রিন্ট' ফাঁস! জঙ্গিদের রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ, উপত্যকায় হুলুস্থূল

Terrorist in Political Parties: জানা গিয়েছে, আইএসআই নির্দেশ দিয়েছে ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কারদের জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে, রাজনীতিতে নিজেদের পরিচয় তৈরি করতে। এরপর এই পরিচয়ের আড়ালেই সন্ত্রাসবাদী নিয়োগ, আর্থিক সাহায্য জোগাড় এবং অস্ত্র পাচার করা হবে। 

Published on: Jun 1, 2026, 16:26:20 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Terrorist in Political Parties: কুকীর্তি যেন থামছে না পাকিস্তানের। টাকার লোভ দেখিয়ে সন্ত্রাসবাদ তো চলছিলই। এবার আমজনতার মাঝে ঢুকে পড়ে বড়সড় ষড়যন্ত্রের ছক। তবে সেই পরিকল্পনা সফল করার আগেই তা ধরে ফেলল ভারতের গোয়েন্দা বাহিনী। রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) এবার ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে নিজেদের খুঁটি শক্ত করতে ভয়ঙ্কর প্ল্যান কষেছে। ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কারদের (ওজিডব্লিউ) নির্দেশ দিয়েছে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার। রাজনীতির আড়ালেই সন্ত্রাসবাদ চালানোর তাদের আসল উদ্দেশ্য।

ISI-র 'ব্লুপ্রিন্ট' ফাঁস! (PTI)
ISI-র 'ব্লুপ্রিন্ট' ফাঁস! (PTI)

জানা গিয়েছে, আইএসআই নির্দেশ দিয়েছে ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কারদের জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে, রাজনীতিতে নিজেদের পরিচয় তৈরি করতে। এরপর এই পরিচয়ের আড়ালেই সন্ত্রাসবাদী নিয়োগ, আর্থিক সাহায্য জোগাড় এবং অস্ত্র পাচার করা হবে। এটা অত্যন্ত সুপরিকল্পিত কৌশল বলেই মনে করছেন গোয়েন্দারা, কারণ রাজনৈতিক কাঠামোর ভিতরে থেকে কাউন্টার-টেরর সার্ভিল্য়ান্স এড়িয়ে গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে জঙ্গি নেটওয়ার্ক চালানো যাবে। সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ কিছু ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কারদের (ওজিডব্লিউ) গ্রেফতার করে। তাদের পকেট থেকে জাতীয় রাজনৈতিক দলের সদস্যপদের কার্ডও উদ্ধার করা হয়। এতেই চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের। শুরু হয় জেরা। তখনই জানা যায়, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই তাদের সরাসরি জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলিতে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

প্রাক্তন ডিজিপি এসপি বৈদ সতর্ক করেছেন আইএসআইয়ের এই পরিকল্পনা নিয়ে, কারণ এতে একটা বড় অংশের ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কাররাই নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যাবে। তিনি বলেন, এই মেম্বারশিপ কার্ডও তারা নিজেদের রক্ষাকবচ হিসাবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। ইতিমধ্যেই এমন কিছু ঘটনাও সামনে এসেছে যেখানে রাজনৈতিক দলের মেম্বারশিপকে অস্ত্র করেই গোপনে অস্ত্র পাচার করেছে। তবে গোয়েন্দারা বলছেন, এই কৌশল অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ১৯৯০-র শেষভাগে এবং ২০০০ সালের প্রথমভাগেও এমন একাধিক ঘটনা উঠে এসেছিল। অনেক জঙ্গি-সমর্থক রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ দেখিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করত। ২০২০ সালের জুলাইয়ে রিয়াসি জেলায় তালিব হাসান নামে এক যুবককে ধরে ফেলেন গ্রামবাসীরা। পরে জানা যায়, সে লস্কর-ই-তৈবার মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি। তদন্তে জানা যায়, সে বিজেপির সক্রিয় কর্মী ছিল এবং জম্মুতে দলের সংখ্যালঘু মোর্চার সোশ্যাল মিডিয়া ইনচার্জ ছিল। ধৃত ওই জঙ্গির বাড়ি থেকে দুটি একে-৪৭ রাইফেল, একাধিক গ্রেনেড এবং অন্য অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়। সে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলত। তারপরে সেই সব দেখিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরত অবাধে।

একটা সময়ে বহু জঙ্গিই ভুয়ো ভোটার কার্ড, আধার কার্ড বানিয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের চোখকে ফাঁকি দিত বলে অভিযোগ। পাঞ্জাবের মালারকোটলায় ধৃত লস্কর মডিউলের সদস্যরা এভাবেই দীর্ঘ ১৫ বছর ভারতে ছিল। তদন্তকারী সংস্থাগুলির আশঙ্কা, আইএসআই মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ওজিডব্লিউ-দের ঢুকিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে সহজে ঢোকার ফাঁদ পাতছে। শুধু তাই নয়, এর আড়ালে জঙ্গি কম্যান্ডারদের লজিস্টিক সাপোর্ট পৌঁছে দেওয়ার কাজও খুব সহজে চালানো যায় বলে মত তাঁদের। এই নেটওয়ার্ক ভাঙাই এখন নিরাপত্তা বাহিনীর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ।