Pakistan to Canada on IWT: সিন্ধু জলচুক্তি চালু করাতে কানাডার ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশমন্ত্রীর কাছে কান্নাকাটি পাকিস্তানের
সিন্ধু চুক্তি নিয়ে কানাডার বিদেশ মন্ত্রী অনিতা আনন্দের কাছে সমর্থন চাইল পাকিস্তান। প্রায় দুই দশক পর কানাডার কোনও বিদেশমন্ত্রী ইসলামাবাদ সফরে যাওয়ার পর এই বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার।
Pakistan to Canada on IWT: ভারতের সঙ্গে সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) পুনরায় কার্যকর করার জন্য এবার কানাডার বিদেশ মন্ত্রী অনিতা আনন্দের কাছে সমর্থন চাইল পাকিস্তান। প্রায় দুই দশক পর কানাডার কোনও বিদেশমন্ত্রী ইসলামাবাদ সফরে যাওয়ার পর এই বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার। তাঁর আবেদন, ভারত যেন দ্রুত জলচুক্তি পুনরায় কার্যকর করে এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহল, বিশেষ করে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলি পাকিস্তানকে সমর্থন জানায়।

কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দের পাকিস্তান সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে বৈঠক হয়। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকে ইসহাক দার সিন্ধু জলচুক্তির বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ভারতের সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তাঁর অভিযোগ, ভারত জলকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির বাধ্যবাধকতা মানছে না।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হন। ভারতের দাবি, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার সহযোগী সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF) এই হামলার পিছনে ছিল। এরপরই ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেয়। সেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবেই সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার ঘোষণা করে নয়াদিল্লি। পরে মে মাসে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালায়।
বৈঠকে ইসহাক দার কাশ্মীর প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, কাশ্মীর সমস্যা এখনও রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আলোচ্য বিষয় এবং এর স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। পাশাপাশি আফগানিস্তানের পরিস্থিতি, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
অন্যদিকে, শুধু রাজনৈতিক বিষয় নয়, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির দিকেও জোর দিয়েছে দুই দেশ। ইসহাক দার জানান, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষা, জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, কৃষি, পরিকাঠামো এবং তথ্যপ্রযুক্তি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে কানাডার বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান। ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে দুই দেশই আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দও এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, প্রায় ২০ বছর পর কানাডার কোনও বিদেশমন্ত্রীর পাকিস্তান সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় খুলতে পারে। গত দুই দশকে দুই দেশের বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ আয়ুব খানের মধ্যে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় সিন্ধু জলচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর জল ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তান পায়, আর রবি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর জল ব্যবহারের অধিকার ভারতের হাতে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি কার্যকর থাকলেও, সাম্প্রতিক সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ভারত সেটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এখন সেই চুক্তি পুনর্বহালের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


