Indus Waters Treaty: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নয়া ‘অস্ত্র’ ব্যবহার করতে পারে ভারত, চিন্তায় খোদ মন্ত্রীই!

Indus Waters Treaty: গত বছরের এপ্রিল মাসে পহেলগাঁও মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জনের নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিন্ধু জল চুক্তিটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি।

Published on: Aug 22, 2026, 23:39:33 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Indus Waters Treaty: জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নৃসংশ হামলার জবাবে ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত করে ভারত (India)। তাতে বেজায় সমস্যায় পড়ে পাকিস্তান। বিভিন্নভাবে নয়াদিল্লিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কথা জানায় ইসলামাবাদ। এবার ভারতের সিদ্ধান্তে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করল ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন মন্ত্রী আহসান ইকবালের দাবি, ভারতের এই পদক্ষেপের ফলে পাকিস্তানের সামনে এক বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, ভারত সিন্ধুর জলকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে 'অস্ত্র' হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখায় ভারতকে 'কূটনৈতিক' তোপ পাক মন্ত্রীর (সৌজন্যে টুইটার)
সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখায় ভারতকে 'কূটনৈতিক' তোপ পাক মন্ত্রীর (সৌজন্যে টুইটার)

এশিয়া সোসাইটির (Asia Society) এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আহসান ইকবাল বলেন, 'সিন্ধু জল চুক্তি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি হওয়ায় এটি ছিল অলঙ্ঘনীয়। কিন্তু ভারত সরকার একতরফাভাবে এই চুক্তি স্থগিত রেখেছে, যা আমাদের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আধুনিক ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম জলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।' পাকিস্তান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী আরও বলেন, 'আমরা এখন এই হুমকির মুখে রয়েছি যে-যখন ফসলের জন্য জলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হবে তখন ভারত জল আটকে দেবে, আর যখন জলের প্রয়োজন থাকবে না তখন অতিরিক্ত জল ছেড়ে দিয়ে প্লাবনের সৃষ্টি করবে।' ভারতের এই পদক্ষেপের প্রভাব মোকাবিলায় পাকিস্তান কী প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, 'আমরা যেসব বাঁধ নির্মাণ করছি, সেগুলো রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে ঠিকই; কিন্তু আমরা এই বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারি না। আমরা সব ধরনের কূটনৈতিক কৌশল ব্যবহার করছি।'

এর আগে স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই চুক্তি স্থগিত রাখাকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিকে সরাসরি হুমকি দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif)। ইসলামাবাদে (Islamabad) এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের জলের অধিকার কেড়ে নেওয়ার যে কোনও চেষ্টা করা হলে তার তীব্র জবাব দেওয়া হবে। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা, পাকিস্তানের জলের ‘এক ফোঁটাও’ তাদের কাছে একটি ‘রেড লাইন।’ শান্তির কথা মুখে বললেও পাকিস্তানের শান্তিপ্রিয়তাকে যেন দুর্বলতা না ভাবা হয়, সে বিষয়েও ভারতকে সতর্ক করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। শরিফ ভারতকে ‘শান্তির শত্রু’ বলে আক্রমণ করে অভিযোগ করেন যে, নয়াদিল্লি একতরফা ও বেআইনিভাবে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রেখেছে। তাঁর দাবি, ভারত যদি নিজের বুদ্ধিতে না ফেরে, তবে পাকিস্তানকে সরাসরি এবং কড়া পদক্ষেপ করতে বাধ্য হতে হবে।

সিন্ধু ও তার উপনদীগুলির বন্টন নিয়ে বিশ্ব ব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তি অনুযায়ী সিন্ধু-র মোট জলের ২০ শতাংশ ভারত এবং বাকি ৮০ শতাংশ পাকিস্তান পেয়ে থাকে। পশ্চিমের নদীগুলি (সিন্ধু, ঝিলাম, চেনাব) পাকিস্তানের জন্য এবং পূর্বের নদীগুলি (রাবি, বিয়াস, শতদ্রু) ভারতের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

ভারতের পদক্ষেপ

গত বছরের এপ্রিল মাসে পহেলগাঁও মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জনের নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিন্ধু জল চুক্তিটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি। চুক্তি স্থগিত হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে জলস্তর সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করা বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। এর ফলে বর্ষার সময় অতিরিক্ত জলের কারণে পাকিস্তানের পঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশের নীচু এলাকাগুলিতে সময়মতো সতর্কতা জারি করা সম্ভব হচ্ছে না।এই পরিস্থিতির জেরে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তান বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই চুক্তিকে আইনিভাবে বলবৎ রাখার দাবি তুললেও ভারত নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছে। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও (PM Narendra Modi) ঘোষণা করেছিলেন, ‘রক্ত এবং জল একসঙ্গে বইতে পারে না।’ জল সংকট ও এই নতুন হুমকির জেরে উপত্যকা-সহ আন্তর্জাতিক সীমান্তে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে।