Pakistan Women Cricket Team Coach: ভারতের কাছে ৫৫ রানে অলআউট, তবু ‘আমরাই সেরা’! পাক কোচের মন্তব্যে হাসির রোল

শনিবারের ম্যাচে ভারতের বোলারদের সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং। পাকিস্তানের হয়ে মুনিবা আলি এবং শাওয়াল জুলফিকার ছাড়া আর কোনও ব্যাটার দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি। গোটা দল ১৮.১ ওভারে মাত্র ৫৫ রানে গুটিয়ে যায়।

Published on: Sep 6, 2026, 17:00:49 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারতের কাছে লজ্জাজনক হারের পরও পাকিস্তানের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরেনি! উইমেন্স এশিয়া কাপ ২০২৬-এ শনিবার ভারতের বিরুদ্ধে মাত্র ৫৫ রানে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান। জবাবে মাত্র ৮.৪ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে সেই রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। এমন একপেশে হারের পরেও পাকিস্তান মহিলা দলের কোচ ওয়াহাব রিয়াজের দাবি, তাঁর দলই নাকি এই টুর্নামেন্টের সেরা দল এবং তাঁরাই ট্রফি জিততে পারেন!

ভারতের কাছে লজ্জাজনক হারের পরও পাকিস্তানের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরেনি! (REUTERS)
ভারতের কাছে লজ্জাজনক হারের পরও পাকিস্তানের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরেনি! (REUTERS)

শনিবারের ম্যাচে ভারতের বোলারদের সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং। পাকিস্তানের হয়ে মুনিবা আলি এবং শাওয়াল জুলফিকার ছাড়া আর কোনও ব্যাটার দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি। গোটা দল ১৮.১ ওভারে মাত্র ৫৫ রানে গুটিয়ে যায়।

ভারতের হয়ে বল হাতে দুরন্ত পারফরম্যান্স করেন শ্রী চারানি, দীপ্তি শর্মা এবং প্রেমা রাওয়াত। শ্রী চারানি তিনটি উইকেট নেন, দীপ্তি ও প্রেমা পান দুটি করে উইকেট। শাফালি ভার্মাও একটি উইকেট তুলে নেন। ফলে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন-আপের কোমর ভেঙে যায় শুরু থেকেই।

এরপর রান তাড়া করতে নেমে ভারতের ব্যাটিংও খুব বেশি সময় নেয়নি। মাত্র ৮.৪ ওভারের মধ্যেই পাকিস্তানের দেওয়া ৫৬ রানের লক্ষ্য টপকে যায় ভারত। ভারতীয় দল ৭ উইকেটে জয় তুলে নেয়। ফলে ম্যাচের ফলাফল থেকেই পরিষ্কার, দুই দলের মধ্যে পারফরম্যান্সের ব্যবধান ছিল বিরাট।

কিন্তু এই ফলের পরই সাংবাদিক বৈঠকে ওয়াহাব রিয়াজের মন্তব্য ঘিরে চর্চা শুরু হয়। তাঁর দাবি, পাকিস্তান এখনও টুর্নামেন্টের সেরা দল। রিয়াজ বলেন, দলের খেলোয়াড়দের যথেষ্ট দক্ষতা রয়েছে এবং তাঁদের শুধু নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। ভারতের বিরুদ্ধে কোথায় ভুল হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করে পরের ম্যাচে সেই ভুল না করার কথাও জানান তিনি।

এরপর আরও বড় দাবি করেন পাকিস্তানের কোচ। তাঁর মতে, এশিয়া কাপের পরিবেশ ও পরিস্থিতি পাকিস্তানের জন্য উপযুক্ত এবং তাঁর দলই ট্রফি জেতার সেরা দাবিদার। ভারতের বিরুদ্ধে মাত্র ৫৫ রানে অলআউট হওয়ার পর এমন মন্তব্য স্বাভাবিক ভাবেই ক্রিকেটমহলে বিস্ময় তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের অধিনায়ক সানা মির অবশ্য দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ। এশিয়া কাপের আগে দলে ব্যাপক পরিবর্তন করা নিয়ে তিনি ম্যানেজমেন্টের সমালোচনা করেছেন। সাত জন ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক।

সানার মন্তব্য প্রসঙ্গে ওয়াহাব রিয়াজ অবশ্য জানিয়েছেন, অধিনায়কের ব্যক্তিগত মতামত নিয়ে তাঁর কিছু বলার নেই। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই দলে পরিবর্তন আনা হয়েছে। অতীতে যারা খেলেছেন, তাঁরা একাধিক বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপে খেলেও প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেননি। তাই নতুন মুখদের সুযোগ দিয়ে ভবিষ্যতের জন্য দল গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।রিয়াজ আরও দাবি করেন, বাদ পড়া ক্রিকেটাররা নিজেদের সেরাটা দিতে পারছিলেন না, তাই নতুন ক্রিকেটারদের দলে নেওয়ার সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল।

তবে ভারতের কাছে এই বড় হারের পর পাকিস্তানের সামনে এখন কঠিন সমীকরণ। সেমিফাইনালে যেতে হলে পরের ম্যাচে অবশ্যই জিততে হবে তাদের। হংকংয়ের বিরুদ্ধে পরবর্তী ম্যাচটি তাই পাকিস্তানের জন্য কার্যত বাঁচা-মরার লড়াই। সেই ম্যাচে জিততে না পারলে উইমেন্স এশিয়া কাপ ২০২৬-এ পাকিস্তানের অভিযান সেখানেই শেষ হয়ে যেতে পারে। একদিকে মাঠে ভারতের কাছে ৭ উইকেটে হার, অন্যদিকে কোচের মুখে ‘আমরাই সেরা’—পাকিস্তানের এই আত্মবিশ্বাস এখন বাস্তবে কতটা কাজে আসে, সেটাই দেখার।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More