Pakistani Lashkar Terrorist Dead: ইসলামাবাদে মসজিদের গেটে রহস্যমৃত্যু লস্কর কমান্ডারের, ‘Unknown Men’-এর কাণ্ড?
লস্কর-ই-তইবার অন্দরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন ক্বারি সইদ। বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত লস্কর জঙ্গিদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংগঠনের যে বিভাগ কাজ করে, তার দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যু হল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার (LeT) এক শীর্ষ কমান্ডারের। মৃতের নাম ক্বারি সইদ আবদুল আজিজ। জানা গিয়েছে, ইসলামাবাদের একটি মসজিদের সামনে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়ে মৃত্যু হয় তাঁর। কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ঘটনার ধরন ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সূত্রের খবর, ক্বারি সইদ আবদুল আজিজ সম্প্রতি একটি অপরিচিত রেস্তরাঁয় খাবার খেয়েছিলেন। এরপর তিনি নামাজ পড়ার জন্য ইসলামাবাদের কুবা মসজিদে যান। মসজিদের গেটে পৌঁছনোর পর আচমকাই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। খাবারে বিষক্রিয়া হয়েছিল কি না, অথবা অন্য কোনও কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
লস্কর-ই-তইবার অন্দরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন ক্বারি সইদ। বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত লস্কর জঙ্গিদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংগঠনের যে বিভাগ কাজ করে, তার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ফলে সংগঠনের আর্থিক ও সাংগঠনিক পরিকাঠামোয় তাঁর ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে মনে করা হয়।
তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন পাকিস্তানের মাটিতে লস্কর-ই-তইবার সদস্যদের ধারাবাহিকভাবে হত্যার অভিযোগ নিয়ে জঙ্গি সংগঠনের অন্দরেই উদ্বেগ বাড়ছে। কয়েক দিন আগেই লস্করের এক শীর্ষ অপারেটিভ রিজওয়ান হানিফ দাবি করেছিলেন, গত কয়েক বছরে সংগঠনের অন্তত ৩০ জন সদস্যকে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ ব্যক্তিরা হত্যা করেছে।
একটি ভিডিয়োয় রিজওয়ানকে বলতে শোনা যায়, গত তিন থেকে চার বছরে নিষিদ্ধ সংগঠনটির বহু সদস্য পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় নিহত হয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, রাওয়ালাকোট এবং মুজফফরাবাদে লস্করের ৩০-এর বেশি সদস্যকে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ ব্যক্তিরা হত্যা করেছে।
২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার নেপথ্যে অন্যতম প্রধান সংগঠন ছিল লস্কর-ই-তইবা। ওই হামলায় ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আল-কায়দা এবং তালিবানের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে ২০০৫ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জও লস্কর-ই-তইবাকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
লস্কর-ঘনিষ্ঠ কোনও ব্যক্তির মুখে পাকিস্তানের মাটিতে সংগঠনের সদস্যদের ধারাবাহিকভাবে হত্যার অভিযোগ প্রকাশ্যে স্বীকার করার ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে লস্করের একাধিক সদস্য ও ভারতবিরোধী জঙ্গি নেতার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তবে সংগঠনের অভ্যন্তর থেকে প্রকাশ্যে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ আততায়ীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নজিরবিহীন।
ক্বারি সইদের মৃত্যুর ঘটনাও তাই নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। তিনি সত্যিই অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছেন, নাকি তাঁর মৃত্যুর পিছনে কোনও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে—এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। তদন্তের পরই তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


