Pakistani Spy Arrested in Assam: পাকিস্তানে ভারতীয় সেনার খবর পাচারের অভিযোগ, অসমে গ্রেফতার দুই! জাল কত দূর ছড়িয়েছে
ভারতীয় সেনার গতিবিধি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা আধিকারিকের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশ। তাঁদের মধ্যে এক জন অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ান।
অসমে ফের পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ। ভারতীয় সেনার গতিবিধি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা আধিকারিকের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশ। তাঁদের মধ্যে এক জন অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ান। অবসরের পরও তিনি চুক্তিভিত্তিক ভাবে সেনার সঙ্গে কাজ করছিলেন বলে জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান বলে দাবি তাঁর।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ানই কেন সন্দেহের কেন্দ্রে?
রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে অসম পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের মধ্যে এক জন অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ান হলেও পরে চুক্তিভিত্তিক ভাবে ফের সেনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার এক আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সেনার গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য পাচার করছিলেন তিনি।
এই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আরও গভীর হয়েছে। কারণ অবসর নেওয়ার পরেও সেনার সঙ্গে যুক্ত থাকা কোনও ব্যক্তির কাছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছনোর সুযোগ থাকলে তা যে শত্রুপক্ষের কাছে বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।
‘হানিট্র্যাপের’ আশঙ্কা
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী দুজন অভিযুক্তকে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে ফাঁদে ফেলা হয়ে থাকতে পারে। অর্থাৎ ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা অন্য কোনও প্রলোভনের মাধ্যমে তাঁদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদায় করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে ঠিক কী তথ্য তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল, কত দিন ধরে এই যোগাযোগ চলছিল এবং পাকিস্তানি গোয়েন্দা চক্রের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ কতটা গভীর ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত এগোলেই এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিলতে পারে।
কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে যাবে তদন্ত
হিমন্ত জানিয়েছেন, গ্রেফতার হওয়া দুজনকে পরবর্তী তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাতে তুলে দেওয়া হবে। অর্থাৎ অসম পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের পর মামলাটি আরও বড় পরিসরে খতিয়ে দেখা হবে। তাঁদের মোবাইল যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন, পাকিস্তানি যোগাযোগ এবং তথ্য আদানপ্রদানের পদ্ধতি নিয়ে তদন্ত হতে পারে।
এর মধ্যেই গুয়াহাটিতে আরও একটি গ্রেফতার
এই ঘটনার পাশাপাশি রবিবারই গুয়াহাটিতে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ৩১ বছরের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর নাম অভিষেক কুমার সিং। তিনি বিহারের পূর্ব চম্পারণের বাসিন্দা এবং গুয়াহাটিতে ভাড়া বাড়িতে থাকছিলেন।
তেজপুরে থাকা গজরাজ কোরের সামরিক গোয়েন্দা শাখা প্রথমে তাঁর বিষয়ে তথ্য দেয়। পরে অসম পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স এবং সোনিতপুর পুলিশ যৌথ তদন্ত শুরু করে। পুলিশের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা আধিকারিকের কাছে পাঠানোর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ফোন, সিম কার্ড এবং কিছু নথি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একই চক্র, নাকি আলাদা যোগ?
একই সময়ে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হয়ে তথ্য পাচারের অভিযোগ সামনে আসায় তদন্তকারীদের নজর এখন সম্ভাব্য বৃহত্তর নেটওয়ার্কের দিকে। দুজন গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি এবং গুয়াহাটির ধৃত যুবকের মধ্যে কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হতে পারে। যদিও পুলিশ এখনও প্রকাশ্যে এমন কোনও যোগের কথা জানায়নি।
অসমের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেও এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরপূর্বের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এলাকা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত এই রাজ্য। ফলে সেনার গতিবিধির মতো তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার অভিযোগকে হালকা ভাবে দেখছে না প্রশাসন।
গুপ্তচর জাল ভাঙতে বড় অভিযান
একদিকে সেনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ, অন্যদিকে সাধারণ নাগরিকের মাধ্যমে স্পর্শকাতর তথ্য পাচারের অভিযোগ। সব মিলিয়ে অসমে পাকিস্তানি গুপ্তচর চক্রের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক নিয়ে তদন্ত জোরদার হয়েছে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা ঠিক কতটা তথ্য পাকিস্তানের হাতে তুলে দিয়েছে এবং তাঁদের পিছনে আরও কারা রয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তদন্ত যাওয়ার পর এই রহস্যের কতটা পর্দা ওঠে, সেটাই এখন দেখার।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


