Pakistani Woman Jailed in Tripura: নেপালের জেল থেকে পালিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ, ত্রিপুরায় পাক মহিলার ২ বছরের জেল

দোষী মহিলার নাম লুইস নিঘাত আর্থার বানো। তিনি নিগো এবং নিগাত বানো নামেও পরিচিত। তাঁর বয়স ৬৫ বছর। তিনি পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের শেখুপুরা জেলার বাসিন্দা এবং মহম্মদ গুল ফারাজের স্ত্রী বলে তদন্তে জানা যায়। নেপালের জেল থেকে পালিয়ে তিনি ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন। 

Published on: Jul 28, 2026, 09:21:42 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ত্রিপুরার দক্ষিণ জেলার একটি আদালত বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে এক পাকিস্তানি মহিলাকে দুই বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি আদালত তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করারও নির্দেশ দিয়েছে। জরিমানার অর্থ দিতে না পারলে তাঁকে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

নেপালের জেল থেকে পালিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ পাকিস্তানি মহিলার (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে পিটিআই)
নেপালের জেল থেকে পালিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ পাকিস্তানি মহিলার (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে পিটিআই)

এই রায় দিয়েছেন সাবরুমের সাব-ডিভিশনাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিজেএম)। সাবরুম থানার ৩২/২০২৫ নম্বর মামলার ভিত্তিতে এই মামলার বিচার হয়। আদালত শুনানির শেষে অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করে। দোষী মহিলার নাম লুইস নিঘাত আর্থার বানো। তিনি নিগো এবং নিগাত বানো নামেও পরিচিত। তাঁর বয়স ৬৫ বছর। তিনি পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের শেখুপুরা জেলার বাসিন্দা এবং মহম্মদ গুল ফারাজের স্ত্রী বলে তদন্তে জানা যায়।

আদালত তাঁকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্টের ২১ নম্বর ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছে। আদালতের মতে, তিনি বৈধ ভ্রমণ সংক্রান্ত নথি ছাড়াই ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন, যা আইনবিরুদ্ধ। সরকারি পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর সাবরুম রেলওয়ে স্টেশনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) তাঁকে আটক করে। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রথমে তিনি নিজের পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি একাধিক ভুয়ো পরিচয় দেন। পরে জেরার মুখে স্বীকার করেন যে তিনি পাকিস্তানের নাগরিক।

তদন্তে আরও জানা যায়, তিনি নেপালের একটি জেল থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। এরপর কোনও বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করেন। এই তথ্য সামনে আসার পর সাবরুম থানার পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে। মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সাবরুম থানার ইন্সপেক্টর অপু দাস। তদন্ত শেষ করে তিনি ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিটে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ইমিগ্রেশন (প্যাসেঞ্জার্স) অ্যাক্ট এবং ফরেনার্স অ্যাক্টের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

বিচার চলাকালীন তদন্তকারী সংস্থা আদালতে বিভিন্ন নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ পেশ করে। আদালত সমস্ত তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে অভিযুক্ত বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করেছিলেন। সেই কারণেই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

রায়ে আদালত জানায়, অভিযুক্তকে দুই বছরের সাধারণ কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। যদি তিনি জরিমানার অর্থ দিতে না পারেন, তাহলে অতিরিক্ত এক মাসের সাধারণ কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সীমান্তবর্তী রাজ্য ত্রিপুরায় অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনায় এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিযুক্তের ভারতে প্রবেশের পুরো পথ এবং তাঁর গতিবিধি নিয়েও তদন্ত করা হয়েছে। আদালতের রায়ের পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More