Operation Sindoor: ভারতের সংসদ-৩২ বায়ুসেনা ঘাঁটি ধ্বংস! AI ভিডিওয় ‘Op সিঁদুর’ ক্ষতে প্রলেপ পাকিস্তানের
Operation Sindoor: পাকিস্তানের এই দাবি সামনে আসতেই সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছে। নিজের দেশেই হাসিরপাত্র হয়ে উঠেছে পাক সেনা শাহবাজ শরিফের সরকার।
Operation Sindoor: অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন সীমাহীন মিথ্যাচার করেছে পাকিস্তান। বিশ্বের সামনে সে মিথ্যাচার ধরা পড়ে গেলেও শোধরানোর পাত্র নয় প্রতিবেশী। এবার 'অপারেশন সিঁদুর'-এ নিজেদের তথাকথিত আধিপত্য প্রমাণের জন্য তারা বেছে নিল এক চকচকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-জেনারেটেড (AI-generated) ভিডিও। সোমবার পাকিস্তান বিমান বাহিনী ‘বায়ুসেনা দিবস’ পালন করছে। সেই উপলক্ষে কল্পনার ডালপালা মেলে এক প্রোপাগান্ডা ভিডিও প্রকাশ করেছে পাকিস্তান বিমানবাহিনী (PAF)। সেখানে দাবি করা হয়েছে-তারা নাকি ভারতের দুটি এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ধ্বংস করেছে, হামলা চালিয়েছে ভারতের ৩২টি বিমান ঘাঁটিতে, এমনকী আঘাত হেনেছে ভারতের সংসদেও! তবে এই আকাশকুসুম দাবির মধ্যে যে বিষয়টি সম্পূর্ণ গায়েব, তা হলো সেই ধ্বংসযজ্ঞের প্রকৃত প্রমাণ বা ভিডিও ফুটেজ।

পিএএফ-এর মিডিয়া উইং প্রকাশিত এই ভিডিওটিতে ২০২৫ সালের মে মাসের সামরিক সংঘাতকে ঘিরে একের পর এক কাল্পনিক দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে অ্যানিমেশন ও চমকপ্রদ এআই ভিজ্যুয়ালের মাধ্যমে। ‘ফিঁজাও কে পাসবান’ শীর্ষক এই ভিডিওতে পাক বিমানবাহিনীকে কার্যত রূপকথার মতো ক্ষমতা প্রদর্শন করতে দেখা গেছে—যার মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম উপগ্রহের সিগন্যাল জ্যাম করা, জ্বালানি সরবরাহ পঙ্গু করে দেওয়া এবং ভারতের জাতীয় পাওয়ার গ্রিড বিকল করে ফেলা।
অপারেশন সিঁদুরে 'স্বপ্নের সংস্করণ' পাকিস্তানের
অ্যানিমেশনে ভারতীয় সংসদ ভবন, গুজরাটের কান্ডলা বন্দর এবং বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্তে হামলার মতো দাবিও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, গ্রাফিক্সে ফলাও করে দাবি করা হয়েছে—'৩২টি ভারতীয় বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়েছে।' পাশাপাশি চারটি রাফাল, একটি সুখোই-৩০ এমকেআই, একটি মিগ-২৯, একটি মিরাজ ২০০০ এবং একটি হেরন ড্রোন ধ্বংসের দাবি তোলা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রানওয়ে বা হ্যাঙ্গারের ধ্বংসাবশেষের কোনও স্যাটেলাইট চিত্র বা আসল ছবি কোথায়? এত বড় দাবির স্বপক্ষে পাকিস্তান আজ পর্যন্ত ধ্বংসের কোনও প্রামাণ্য ফুটেজ বা আগে-পরের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ্যে আনতে পারেনি। ৩২টি ঘাঁটিতে হামলা হলে তা কখনোই গোপন রাখা সম্ভব হতো না। বাস্তবকে মেনে নেওয়ার সময় এসেছে পাকিস্তান এবং দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের। দাবির পক্ষে কোনও জোরালো প্রমাণ না থাকায় শেষমেশ এআই-এর শরণ নিয়ে এমন অবাস্তব ভিডিও তৈরি করতে বাধ্য হয়েছে পাক সেনা।
যখন বাস্তবের মুখোমুখি পাকিস্তান
অথচ এর বিপরীত ছবি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। 'অপারেশন সিঁদুর'-এর পরপরই ভারত সরকার প্রমাণের স্তূপ তুলে ধরেছিল। দৈনিক প্রেস ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের নয়টি জঙ্গি ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলার বিস্তারিত ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আসল ফুটেজও বিশ্ববাসীর সামনে এনেছিল ভারত। আন্তর্জাতিক মুক্ত তথ্যসূত্র গোয়েন্দা সংস্থা (OSINT) এবং উচ্চ-রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট চিত্রেও পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা প্রমাণিত হয়। ভোলারি, সারগোধা এবং নুর খানের মতো একাধিক পাক বিমানঘাঁটির রানওয়ে ও হ্যাঙ্গারে গভীর ক্ষতের ছবি ধরা পড়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'ওয়াশিংটন পোস্ট' এই প্রত্যাঘাতকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানি সামরিক পরিকাঠামোর ওপর ভারতের সবচেয়ে বড় হামলা বলে উল্লেখ করেছিল। অর্থাৎ, ভারত দেখিয়েছিল বাস্তব ধ্বংসের ছবি, আর পাকিস্তান দেখাল কম্পিউটারের গ্রাফিক্স।
অতীতে বারবার ভুয়ো প্রমাণিত হওয়া দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল এস-৪০০ ধ্বংসের গল্প, যাকে এবার এআই মেকওভার দিল পাকিস্তান। অথচ সংঘাতের কয়েক দিন পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আদমপুর বিমানঘাঁটি পরিদর্শন করেন এবং অক্ষত এস-৪০০ সিস্টেমের সামনে দাঁড়িয়ে সেনাদের উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে পাকিস্তানের এই প্রচারের গালে সপাটে কড়া চড় মেরেছিলেন। ডিসকভারি চ্যানেলে 'ডিক্লাসিফায়েড: অপারেশন সিঁদুর' শীর্ষক দুই পর্বের একটি তথ্যচিত্র প্রকাশের কয়েক সপ্তাহ পরেই পিএএফ-এর এই ভিডিওটি সামনে এল। ডিসকভারির সেই তথ্যচিত্রে অপারেশনের নেপথ্যে থাকা শীর্ষ সেনা আধিকারিকদের বয়ান ও পাক ঘাঁটিতে আঘাতের অপ্রকাশিত ফুটেজ তুলে ধরা হয়েছিল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম হাসির খোরাক পাক ভিডিও
পাকিস্তানের এই দাবি সামনে আসতেই সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছে। নিজের দেশেই হাসিরপাত্র হয়ে উঠেছে পাক সেনা শাহবাজ শরিফের সরকার। অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। যদি ঘটনা সত্য হয়ে থাকে এআই ছবি কেন? স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করুক পাকিস্তান। বায়ুসেনার অনুষ্ঠানে এই ধরনের অ্যানিমেশন ছবি প্রকাশ করে নিজেদের বিশ্বের কাছে ছোট করা হচ্ছে। বিশিষ্ট সাংবাদিক অভিজিৎ মজুমদার কটাক্ষ করে লিখেছেন, 'কমেডি গোল্ড! মনে হচ্ছে তুরস্ক আর সৌদি আরবের থেকে নেওয়া ঋণের টাকায় এআই ক্রেডিট কেনা হয়েছে।' রাজনৈতিক ভাষ্যকার 'বালা' এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, 'ভারতে কী ধ্বংস করেছে তার আসল ফুটেজ খুঁজতে গেলে লেখা উঠছে—৪০৪ নট ফাউন্ড (404 NOT FOUND)। একটাও বাস্তব ক্লিপ নেই, যাচাইযোগ্য কোনো ছবি নেই।' আরেক নেটিজেনের ব্যঙ্গোক্তি, 'পাকিস্তানের এখন আর প্রতিরক্ষা বাজেটের দরকার নেই। ওদের হাতে শুধু একটা এআই ভিডিও জেনারেটর ধরিয়ে দিন, ইউটিউবেই যুদ্ধ জিতে নেবে!'
ভিডিও এডিটিংয়ের কোনও প্রতিযোগিতা হলে পাকিস্তান হয়তো প্রথম পুরস্কার পেয়ে যেত। তবে ভিডিওতে বিস্ফোরণের ঝলকানি আর কাল্পনিক হুঙ্কার যতই থাকুক না কেন, 'অপারেশন সিঁদুর'-এর আসল সত্য আজ গোটা বিশ্বের সামনে স্পষ্ট। পাকিস্তানের যাবতীয় ভাঁওতাবাজি ধরা পড়ে যাওয়ার পর এবার এআই ভিডিওতে নিজেদের ক্ষত ঢাকতে গিয়ে বিশ্বে হাসির পাত্র হল তারা।
E-Paper

