‘বাংলাদেশে আইএসআইয়ের অবাধ প্রভাব’, বিস্ফোরক দাবি হাসিনা পুত্রের, ফেরার বার্তায় বাড়ল জল্পনা

হাসিনা পুত্রের অভিযোগ, ‘শত শত দণ্ডিত জঙ্গিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন বাংলাদেশে আইএসআইয়ের অবাধ প্রভাব রয়েছে। হিজব-উত-তাহরির প্রকাশ্যে মিছিল করছে, আল-কায়দার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জনসভায় বক্তৃতা দিচ্ছেন।’

Published on: Aug 6, 2026, 08:42:29 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাংলাদেশে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর প্রভাব এখন আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় বেশি। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। একই সাংবাদিক বৈঠকে প্রায় দু’বছর পর দেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও জানালেন শেখ হাসিনা। তাঁর ঘোষণা, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান তিনি। গ্রেফতার হতে হলেও বা মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়াতে হলেও সেই সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে আসবেন না।

বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।
বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।

বুধবার ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামি লিগ সরকারের আমলে যাঁদের জঙ্গি কার্যকলাপের অভিযোগে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছিল, বর্তমান প্রশাসন তাঁদের অনেককেই মুক্তি দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ‘শত শত দণ্ডিত জঙ্গিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন বাংলাদেশে আইএসআইয়ের অবাধ প্রভাব রয়েছে। হিজব-উত-তাহরির প্রকাশ্যে মিছিল করছে, আল-কায়দার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জনসভায় বক্তৃতা দিচ্ছেন।’

জয়ের দাবি, এই পরিস্থিতি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ভারতের নিরাপত্তার পক্ষেও উদ্বেগের। তাঁর কথায়, ‘ভারতের পশ্চিমে যেমন পাকিস্তান রয়েছে, তেমনই পূর্ব সীমান্তেও এখন আর একটি পাকিস্তান তৈরি হচ্ছে। বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা, বিশেষ করে আইএসআই, বাংলাদেশে কার্যত অবাধে কাজ করছে।’ তাঁর আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলির নতুন ঘাঁটি হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকেও এ বিষয়ে নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জয়। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারতের সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব রয়েছে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরার।

একই সাংবাদিক বৈঠকে শেখ হাসিনা জানান, প্রায় দু’বছর ধরে দেশছাড়া জীবন কাটানোর পর তিনি দেশে ফিরতে চান। তাঁর কথায়, ‘আমাকে জেলে পাঠানো হতে পারে, এমনকি হত্যা করা হতে পারে। কিন্তু ভয় আমাকে আমার দায়িত্ব থেকে সরাতে পারবে না।’ তিনি জানান, ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। যদিও নির্দিষ্ট দিন এখনও ঘোষণা করেননি।

হাসিনার দাবি, তাঁর দেশে ফেরার লক্ষ্য ক্ষমতায় ফেরা নয়। বরং বাংলাদেশের মানুষকে নিরাপত্তা, উন্নয়ন, শান্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে আনা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছিল, সেই রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই। মানুষের পাশে দাঁড়াতেই ফিরতে চাই।’

২০২৪ সালের জুলাই-অগস্টে যে ছাত্র আন্দোলনের জেরে তাঁর সরকারের পতন হয়েছিল, তা নিয়েও ফের সরব হন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সেটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত বা শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। বরং পরিকল্পিতভাবে ছাত্রদের ব্যবহার করে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। সেই সময় রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল সাধারণ মানুষের জীবন ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভারত প্রসঙ্গেও ইতিবাচক সুর শোনা যায় হাসিনা ও তাঁর ছেলের বক্তব্যে। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ভারতকে ‘প্রকৃত বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে জয় বলেন, গত দু’বছর ধরে ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদা দিয়ে নিরাপত্তা ও সম্মান দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা ও তাঁর ছেলের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও নানা আলোচনা চলছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, জঙ্গি কার্যকলাপের আশঙ্কা এবং হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা— এই তিনটি বিষয় আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More