Pashtun Leader on Pak and Terror: সন্ত্রাস নিয়ে পাক সেনা, ISIর মুখোশ টেনে খুললেন পশতুন নেতা! আন্তর্জাতিক মঞ্চে বললেন..
২০১৬ সালে এক সময় যখন মনজুর ও তাঁর পরিবারকে ঘর ছেড়ে চলে যেতে হয়। যখন তাঁরা ঘরে ফেরেন, দেখতে পান, তাঁদের বইপত্র লুট হয়েছে, ঘর ক্ষতবিক্ষত, বাড়ির আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে ল্যান্ডমাইন।
২০২৬ হেগ জাস্টিস ডায়লগের মঞ্চে কার্যত পাকিস্তানি সেনা ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার মুখোশ খুলে ছেড়েছেন পাকিস্তানের পশতুন নেতা তথা সেখানের পশতুন তাহাফুজ মুভমেন্ট (পিটিএম)র নেতা মনজুর পশতিন। অনষ্ঠানে তাঁর বক্তব্য চলাকালে সেখান থেকে উঠে চলে যেতে দেখা যায়, সেখানে উপস্থিত পাকিস্তানের কূটনীতিবিদদের। সন্ত্রাস নিয়ে পাকিস্তানের সেনার কর্মকাণ্ডের পর্দাফাঁস করে অনুষ্ঠানে পাক সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মনজুর পশতিন।

অনুষ্ঠানে পশতুন গোষ্ঠীর ওই নেতা মনজুর বলেন, গত আড়াই দশক ধরে পাকিস্তানের সেনার দমন পীড়নের জন্য হাজার হাজার পশতুন জনজাতির মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের সেনার অত্যাচারের জেরেই বহু পশতুন নিখোঁজ, অনেকে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর দাবি, পাকিস্তানের সেনার বহু কর্মকাণ্ডের পরও পশতুন অধ্যুষিত এলাকায় কোনও স্থায়ী শান্তি আসেনি। অনুষ্ঠানে পশতিন বলছেন, ‘সত্যি এটাই যে, পাকিস্তানের সেনা আর পাকিস্তানের গুপ্তচর বিভাগ নিজেরা খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রত্যেকটা জঙ্গি সংগঠন তৈরি করেছে, টাকার যোগান দিয়েছে আর প্রশিক্ষণ দিয়েছে।’ পশতিন অভিযোগ করেছেন যে, পাকিস্তানের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল পারভেজ মোশাররফ, সাবেক আইএসআই প্রধান হামিদ গুল, কর্নেল ইমাম এবং জেনারেল আবদুল কাদির বালোচ সহ পাকিস্তানের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জঙ্গি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় তাদের সম্পৃক্ততার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন।
পাক-আফগান সীমান্ত সংঘাত নিয়ে মনজুর পশতিন বলেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী, ডুরান্ড লাইন বরাবর বসবাসকারী পশতুনদের মধ্যে বিভেদ ও শাসন নীতি চালিয়ে যাচ্ছে এবং এর মাধ্যমে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত জুড়ে পশতুন সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে শান্তি ও ঐক্যকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, খণিজ সমৃদ্ধ পশতুন জনজাতির এলাকাকে অস্থির করতেই সশস্ত্র গোষ্ঠী দিয়ে ছায়া যুদ্ধ চালানো হচ্ছে, যাতে এলাকার মানুষ ওই এলাকা ছেড়ে দেন।
পশতিন তাঁর বক্তব্যে, ২০০৯ সালে সোয়াত ও বুনারে শুরু হওয়া পাকিস্তানি সেনার ‘অপারেশন রাহ-এ-রাস্ত’-এর কথা উল্লেখ করে অভিযোগ করেন যে, এতে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষকে তাদের পৈতৃক ভিটা থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়েছিল।
কে এই মনজুর পশতিন?
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের ভূমিপুত্র মনজুর পশতিনকে বহু সময়ই পরিবারের সঙ্গে ঘর ছাড়তে হয়েছে পাকিস্তানি সেনার অভিযানের জেরে। শিক্ষক পিতার সন্তান মনজুর বহু লড়াইয়ের পর শিক্ষাগত যোগ্যতায় তাঁর ডক্টর অফ ভেটেনারি মেডিসিন-র ডিগ্রি লাভ করেন। ২০১৬ সালে এক সময় যখন মনজুর ও তাঁর পরিবারকে ঘর ছেড়ে চলে যেতে হয়। যখন তাঁরা ঘরে ফেরেন, দেখতে পান, তাঁদের বইপত্র লুট হয়েছে, ঘর ক্ষতবিক্ষত, বাড়ির আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে ল্যান্ডমাইন। এদিকে, ২০১৪ সালের মে মাসে গোমাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময় থেকেই পশতুন তাহাফুজ মুভমেন্ট (পিটিএম)র অংশ হন মনজুর। তাঁদের মূল দাবি ছিল, ওয়াজিরিস্তানের মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ল্যান্ড মাইন তুলে নিতে হবে। তাঁদের লড়াই পাকিস্তানি সেনা ও উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে ছিল।
ABOUT THE AUTHORSritama Mitraশ্রীতমা মিত্র হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন চিফ কনটেন্ট প্রোডিউসার। ২০২১ সাল থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদের পাশাপাশি শ্রীতমার আগ্রহের জায়গা ক্রিকেট। এছাড়াও তিনি জ্যোতিষ বিভাগ দেখাশোনা করেন এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত প্রতিবেদন লিখতেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। পেশাদার জীবন: পেশাদার জীবনের শুরুতে শ্রীতমা আকাশবাণী, শান্তিনিকেতনে উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে তিনি ইটিভি নিউজ বাংলায় কপি এডিটর হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ওয়ানইন্ডিয়া-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার পর তিনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগ দেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: শ্রীতমা মিত্র ইংরেজিতে স্নাতক (বি.এ.) এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর (এম.এ.) ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: সাংবাদিকতার বাইরে শ্রীতমা একজন সাহিত্যপ্রেমী, ভ্রমণও তাঁর অন্যতম নেশা। ছুটির দুপুরগুলো তাঁর কাটে গল্পের বই নিয়ে। একটু লম্বা ছুটি পেলে তিনি দেশের ভিতর বা কখনও সখনও দেশের বাইরেও বেড়াতে যেতে ভালোবাসেন। তবে তাঁর প্রতিটা বেড়ানোর পিছনেই কাজ করে কোনও না কোনও বই বা সিনেমা থেকে তৈরি হওয়া কৌতূহল। অজানাকে জানার আগ্রহই তাঁকে বার বার নিয়ে গিয়ে ফেলে নানা অচেনা শহরে। সেই সব অভিজ্ঞতাকে লেখার রূপ দিতেও পিছপা হন না শ্রীতমা।Read More
E-Paper


