‘ভূতে ধরেছিল!’ মাঝ আকাশে বিমানের দরজা খোলার চেষ্টা যাত্রীর, তারপর যা হল...

আকাশে কয়েক চক্কর ঘুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ১০টা ৩৫ নাগাদ বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়। বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে ফেরেন যাত্রীরা।

Published on: Mar 30, 2026, 12:40:10 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মাঝ আকাশে ইন্ডিগোর বিমানে হাড়হিম-কাণ্ড। শনিবার অবতরণের ঠিক কয়েক মিনিট আগে আচমকাই ইন্ডিগো বিমানের জরুরি দরজা খোলার চেষ্টা করেন এক যাত্রী। আর তাঁর এ ধরনের সন্দেহজনক আচরণে তাজ্জব সবাই। আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে সবার মধ্যে। পরে পুলিশের কাছে ওই যাত্রী দাবি করেন, ওই সময় নাকি তাঁকে ‘ভূতে ধরেছিল।’

মাঝ আকাশে বিমানের দরজা খোলার চেষ্টা যাত্রীর (সৌজন্যে টুইটার)
মাঝ আকাশে বিমানের দরজা খোলার চেষ্টা যাত্রীর (সৌজন্যে টুইটার)

বেঙ্গালুরু থেকে বারাণসীগামী ইন্ডিগো ৬ই-১৮৫ বিমানটি রাত প্রায় ৮টা ১৫ মিনিটে উড়ান শুরু করে। ওই বিমানে যাত্রী ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মউ জেলার বাসিন্দা মহম্মদ আদনান। বিমানটি ওড়ার মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় তিনি প্রথমবার জরুরি দরজা খোলার চেষ্টা করেন। কেবিন ক্রুরা তাৎক্ষণিকভাবে ধরে ফেললে আদনান বিষয়টিকে ‘ভুল’ বলে এড়িয়ে যান। সে যাত্রায় তাঁকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর পুরো যাত্রাপথে তিনি স্বাভাবিক আচরণ করলেও রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে, অর্থাৎ বারাণসীর লাল বাহাদুর শাস্ত্রী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের ঠিক আগে, আবারও জরুরি দরজা খোলার চেষ্টা করে মহম্মদ আদনান। তখন বিমানটি মাটি থেকে প্রায় ৫০০ ফুট উপরে ছিল। জানা গিয়েছে, বিপদের আঁচ পেয়ে তড়িঘড়ি অবতরণ পিছিয়ে দেন পাইলট।

এরপর আকাশে কয়েক চক্কর ঘুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ১০টা ৩৫ নাগাদ বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়। বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে ফেরেন যাত্রীরা। এই ঘটনায় বিমানের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে নিরাপদ অবতরণের জন্য কেবিন ক্রুদের ধন্যবাদ জানান তারা। নিয়ম অনুযায়ী, অবতরণের পরই আদনানকে সঙ্গে সঙ্গে এয়ারলাইনসের নিরাপত্তাকর্মী ও সিআইএসএফ-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রথমে আদনান জানায়, কেন তিনি এমন আচরণ করেছেন, তা তিনি জানেন না। পরে তিনি দাবি করেন, তাঁর উপর ভূতে ভর করেছিল। তাই তিনি ওই ধরনের কার্যকলাপ করছিলেন। তবে থানায় নিয়ে গিয়ে জেরা করলে সে বলে, গোয়া থেকে ঘুরে ফিরছিল এবং যেই হ্যান্ডেলটি টানছিলেন সেটি যে জরুরি দরজার অংশ তা সে জানত না। পুলিশের তরফে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁর দাবি কতটা সত্যি, এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, 'তদন্ত চলছে। অভিযুক্তের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে, তাঁরা মউ থেকে রওনা দিয়েছেন।'