যাত্রীদের জন্য সুখবর! এবার বিনামূল্যে বিমানে পছন্দের ৬০% আসন, অতিরিক্ত ‘হিডেন চার্জে' লাগাম কেন্দ্রের

যাত্রী অধিকারের ক্ষেত্রেও কড়া অবস্থান নিয়েছে সরকার। ফ্লাইট দেরি, বাতিল বা বোর্ডিংয়ে বাধা-এই ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রীদের কী কী অধিকার রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

Published on: Mar 18, 2026, 11:41:31 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দেশের বিমানযাত্রীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। অতিরিক্ত ‘হিডেন চার্জ’ কমাতে এবং যাত্রীদের অধিকার আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিটি ফ্লাইটে অন্তত ৬০ শতাংশ আসন যাত্রীদের বিনামূল্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে বিমান সংস্থাগুলিকে। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই খুশির হাওয়া যাত্রী মহলে।

এবার বিনামূল্যে বিমানে পছন্দের ৬০% আসন
এবার বিনামূল্যে বিমানে পছন্দের ৬০% আসন

কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক এই নির্দেশ জারি করেছে। এই নির্দেশ কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডিজিসিএ-কে। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল বিমান ভ্রমণকে আরও স্বচ্ছ, সহজলভ্য এবং যাত্রী-বান্ধব করে তোলা। এতদিন যাত্রীরা নিজেদের পছন্দের আসন জানানোর পর বহু বিমানসংস্থাই অতিরিক্ত টাকা নিত। বিমানের টিকিট কাটার পর বা ওয়েব চেক-ইনের সময় এই অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হত। কিন্তু নতুন নিয়মে সেই প্রবণতায় লাগাম টানতে চায় সরকার। অন্তত ৬০ শতাংশ সিট ফ্রি থাকলে সাধারণ যাত্রীরা অনেকটাই উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিমান মন্ত্রকের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, একই পিএনআর নম্বরে টিকিট কাটা হলে যাত্রীদের আসন পাশাপাশি রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে কেউ বিমানে সফর করলে পাশাপাশি বসে গন্তব্যে যেতে পারবেন। অনেক ক্ষেত্রেই পাশাপাশি আসন পাওয়ার জন্য যাত্রীদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হত। একই পিএনআর নম্বর থাকলে এবার আর ঝক্কি থাকছে না।

যাত্রী অধিকারের ক্ষেত্রেও কড়া অবস্থান নিয়েছে সরকার। ফ্লাইট দেরি, বাতিল বা বোর্ডিংয়ে বাধা-এই ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রীদের কী কী অধিকার রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। শুধু ওয়েবসাইট নয়, মোবাইল অ্যাপ, বুকিং প্ল্যাটফর্ম এবং বিমানবন্দরের কাউন্টারেও এই তথ্য প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অন্যদিকে, যাত্রী পরিষেবার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বহু যাত্রী বিমানে গানবাজনা এবং খেলাধূলার সরঞ্জাম নিয়ে যান। সেগুলি যথাযথ ভাবে নিয়ে যাওয়ার জন্যও বিমানসংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। একইসঙ্গে পোষ্য প্রাণী বহনের নীতিও পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে, কারণ এই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছিল। নিরাপত্তা ও পরিচালনাগত শর্ত মেনে এই নীতিগুলি তৈরি করতে হবে, তবে তা যেন যাত্রী-বান্ধব ভাষায় জানানো হয়। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল যাত্রীদের অধিকার ও পরিষেবার তথ্য আঞ্চলিক ভাষায় প্রকাশ করার উপর জোর দিয়েছে ডিজিসিএ। যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সহজে বিষয়গুলি বুঝতে পারেন। সব মিলিয়ে, বিমানযাত্রায় অস্বচ্ছতা কমিয়ে যাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষায় একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ করল কেন্দ্র।

ভারতের বিমান পরিবহন ক্ষেত্র দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। বর্তমানে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ বিমান বাজারে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লক্ষেরও বেশি যাত্রী যাতায়াত করেন। এই প্রেক্ষাপটে যাত্রী পরিষেবার মান উন্নত করা এবং অতিরিক্ত খরচ কমানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে সরকার।