New Passport Rates: জুলাই থেকে পাসপোর্ট আরও দামি! আপনার খরচ কত বাড়বে? দেখে নিন নতুন তালিকা
New Passport Rates: কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৮০ সালের পাসপোর্ট নিয়ম সংশোধন করে, ফি বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। চতুর্থ তফসিলে এই নতুন ফি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই অনুযায়ী, আবেদনকারীদের এখন সাধারণ এবং তৎকাল- উভয় পাসপোর্টের জন্যই বেশি টাকা দিতে হবে।
New Passport Rates: বিদেশ ভ্রমণের স্বপ্ন আর আগের মতো ‘সাশ্রয়ী’ থাকছে না। ভারতের পাসপোর্ট ব্যবস্থায় বড়সড় বদল আনল কেন্দ্র। একদিকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হলো যে, ভারতীয় পাসপোর্ট দেশের নাগরিকত্বের অকাট্য প্রমাণপত্র হিসেবে গণ্য হবে না। অন্যদিকে, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর একধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হলো পাসপোর্ট আবেদনের সরকারি ফি। ১৪ বছর পরে এই ফি বাড়ল। আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে চলা এই নতুন নিয়ম ও বর্ধিত খরচের জেরে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৮০ সালের পাসপোর্ট নিয়ম সংশোধন করে, ফি বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। চতুর্থ তফসিলে এই নতুন ফি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই অনুযায়ী, আবেদনকারীদের এখন সাধারণ এবং তৎকাল- উভয় পাসপোর্টের জন্যই বেশি টাকা দিতে হবে। বিদেশ মন্ত্রক দ্বারা জারিকৃত ‘পাসপোর্ট (সংশোধনী) বিধি, ২০২৬’ অনুযায়ী, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি আবেদনকারীদের জন্য ৩৬ পাতার একটি নতুন বা পুনর্নবীকরণ পাসপোর্টের ফি বর্তমানের ১,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,৫০০ টাকা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, তৎকাল স্কিমে এই ফি ৩,৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ৫,০০০ টাকা। একইভাবে, ৬০ পাতার পাসপোর্টের ক্ষেত্রে সাধারণ ক্যাটাগরির ফি ২,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,৫০০ টাকা এবং তৎকাল ফি ৪,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬,০০০ টাকা করা হয়েছে। ২০১২ সালের পর এই প্রথম পাসপোর্টের ফি কাঠামোতে এত বড় পরিবর্তন আনা হল।
কোনও আবেদনকারীর পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে, নতুন পাসপোর্টের জন্য এখন থেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি টাকা গুনতে হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৩৬ পাতার ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো পাসপোর্ট বদলানোর খরচ সাধারণ ক্যাটাগরিতে ৫,০০০ টাকা এবং তৎকালে ৭,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ৬০ পাতার ক্ষেত্রে এই খরচ সাধারণ ক্যাটাগরিতে ৬,০০০ টাকা এবং তৎকালের জন্য ৮,৫০০ টাকা করা হয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী আবেদনকারীদের বা নাবালকদের জন্য ৩৬ পাতার নতুন অথবা পুনর্নবীকরণ পাসপোর্টের ফি সাধারণ ক্যাটাগরিতে ১,৭৫০ টাকা করা হয়েছে। নাবালকদের ক্ষেত্রে হারিয়ে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্ট প্রতিস্থাপনের ফি সাধারণ ক্যাটাগরিতে ৪,২৫০ টাকা এবং তৎকাল স্কিমের আওতায় ৬,৭৫০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। পাসপোর্ট আইন, ১৯৬৭-এর ২৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই বিজ্ঞপ্তিটি জারি করা হয়। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১ জুলাই বা তারপর থেকে জমা হওয়া সমস্ত পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বিজ্ঞপ্তিতে অন্যান্য ভ্রমণ সংক্রান্ত নথির ফি-ও সংশোধন করা হয়েছে।
এমার্জেন্সি সার্টিফিকেট দেশের অন্দরে বিনামূল্যেই পাওয়া যাবে, বিদেশে দিতে হবে ১৫ ডলার। আইডেন্টিটি সার্টিফিকেটের জন্য দেশের অন্দরে ১০০০ টাকা লাগবে, বিদেশে ৫০ ডলার। পাশাপাশি, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, সারেন্ডার সার্টিফিকেট, গ্লোবাল এন্ট্রি প্রোগ্রাম ভেরিফিকেশন এবং অন্যান্য সার্টিফিকেটের জন্য টাকার অঙ্ক বেঁধে দেওয়া হয়েছে ৭০০ টাকায়। বিদেশে দিতে হবে ৪০ ডলার। ২০১২ সালে যখন টাকার অঙ্ক বাড়ানো হয়েছিল, সেই সময় ৩৬ পাতার পাসপোর্ট পেতে ১০০০-১৫০০ দিতে হতো। তৎকালে দিতে হতো ২৫০০-৩৫০০ টাকা। ২০২৬ সালের সংশোধিত পাসপোর্ট বিধির আওতায় এবার টাকার অঙ্ক বাড়াল বিদেশ মন্ত্রক। ২০১২ সালের পর এই প্রথম পাসপোর্ট তৈরির খরচ বাড়ল।
ফি বৃদ্ধির এই ঘোষণার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে সরকারের তরফে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফাই দেওয়া হয়। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করে দেয় যে, পাসপোর্ট শুধুমাত্র একটি ভ্রমণের নথি বা ‘ট্রাভেল ডকুমেন্ট।’ একে কোনওভাবেই ভারতীয় নাগরিকত্বের অকাট্য প্রমাণপত্র হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এই মন্তব্যের পরই ফি বৃদ্ধির ঘোষণা আসায় রাজনৈতিক ও সাধারণ মহলে নতুন করে নানা সমীকরণ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, পড়াশোনা, চিকিৎসা বা পর্যটনের জন্য যারা নিয়মিত বিদেশে যাতায়াত করেন, তাদের জন্য এই বাড়তি খরচ প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে যারা খুব অল্প সময়ের নোটিশে তৎকাল পাসপোর্টের ওপর নির্ভরশীল, তাদের বাজেটে এই পরিবর্তন বড়সড় টান দেবে।
E-Paper

