Pawan Kumar Chandana: অঙ্কে একবার পেয়েছিলেন ৫১! সেই পবনই দেশে প্রথম প্রাইভেট স্পেস রকেট বিক্রম-১ দিয়ে গড়লেন ইতিহাস
পবন ভর্তি হন খড়গপুর আইআইটিতে। আইআইটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং-র যে সফর পবন শুরু করেন, সেই সফর গিয়ে পৌঁছয় ইসরোতে।
মহাকাশ গবেষণার আঙিনায় আরও এক মাইলস্টোন ‘স্কাই রুট এয়রোস্পেস’র হাত ধরে পার করল ভারত। ভারতে প্রাইভেট সেক্টরে প্রথম স্পেস রকেট হিসাবে মহাশূন্যের পথে দাপটে শনিবার পাড়ি দিয়েছে বিক্রম-১। এই সফল উৎক্ষেপণের পরপরই মোদীর তরফে পবন ও তাঁর সংস্থার সহ প্রতিষ্ঠাতার জন্য এসেছে শুভেচ্ছা বার্তা। মোদী তাঁর বার্তায় জানিয়েছেন, ‘আপনারা দেশকে গর্বিত করেছেন’। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় বলেন,'আপনারা মহাকাশে ভারতের আকাঙ্ক্ষার বীজ বপন করেছেন এবং তরুণদের স্বপ্নকেও শিকড় গেড়ে দাঁড়াতে সহায়তা করেছেন।'

যে 'স্কাইরুট এয়রোস্পেস', আজ দেশের প্রাইভেট স্পেস রকেট ঘিরে নয়া ইতিহাস লিখেছে, তার নেপথ্য কারিগর, সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তথা সিইও পবন কুমার চন্দনা। শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণ হওয়া এই রকেট কার্যত পবনদের জন্য এক স্বপ্নের, আকাশছোঁয়ার কাহিনী লিখে গিয়েছে।
স্কাইরুট এয়রোস্পেসের সিইও পবনের এই আকাশছোঁয়ার কাহিনীর সূত্রপাত বহু যুগ আগে। ১৯৯১ সালে বর্তমান তেলাঙ্গানার হায়দরাবাদে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে পবনের জন্ম। স্কুলে তাঁর রেজাল্ট, এমন কোনও ইঙ্গিত দেয়নি, যাতে মনে করা যায় যে ভবিষ্যতে দেশের গর্বের অধ্যায় শামিল হবেন পবন! তবে, যে অঙ্কে একবার পবন ৫১ নম্বর নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন, সেই অঙ্কই পবনের ইঞ্জিনিয়ারিং কেরিয়ারের কেন্দ্রে ছিল। অঙ্কে ৫১ পাওয়ার দিন, কে জানত, এই অঙ্কেরই নানান হিসাব পবনকে একদিন এই দেশের অসামান্য এক মাইলস্টোন ছুঁতে সাহায্য করবে! আইআইটিতে সুযোগ পাওয়ার জন্য পবন ভর্তি হন কোচিংএ। তখন থেকেই তাঁর অঙ্কের প্রতি মনোভাব ধীরে ধীরে পাল্টাতে থাক। এরপর সোজা আইআইটির এন্ট্রান্স পাশ। পবন ভর্তি হন খড়গপুর আইআইটিতে। আইআইটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং-র যে সফর পবন শুরু করেন, সেই সফর গিয়ে পৌঁছয় ইসরোতে।মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংএ বিটেক, এমটেক পাশ করার পর, পবনের পেশাগত জীবন শুরু হয় ভারতের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ইসরোতে।
ইসরোতে চন্দনা ভারতের সবচেয়ে ভারী উৎক্ষেপণ যান 'জিএসএলভি মার্ক ৩' (GSLV Mk III)-এর ওপর কাজ করেছেন। তিরুবনন্তপুরমের বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারে ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি রকেট নকশা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং সেই সঙ্গে ভারতের মহাকাশ-সংক্রান্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষার সাক্ষী থাকেন পবন। অন্যদিকে, পবনের অন্দরে আরও এক উচ্চাকাঙ্খা বীর বুনতে শুরু করে। এরপর একটা সময় ইসরো থেকে ইস্তফা দেন পবন। ২০১৮ সালে শুরু করেন নিজের সংস্থা, 'স্কাইরুট এয়রোস্পেস'। লড়াই সহজ ছিলনা, তবু হাল ছাড়েননি এই তরুণ ইঞ্জিনিয়ার। চন্দনার পরিকল্পনার ওপর আস্থা স্থাপনকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ফ্লিপকার্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং আইআইটি খড়গপুরের প্রাক্তন ছাত্র বিনি বনসাল, যিনি এই উদ্যোগে ১.৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন। এরপর আসে ২০২০ সালের কোভিড-ঝড়! মহামারি, পবনদের তহবিল সংগ্রহের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করে। এরপর গ্রিনকো নামের এক সংস্থা তাদের পাশে দাঁড়ায় আর্থিক সহায়তায়। ২০২০ সালের জুলাই মাসে স্কাইরুট সফলভাবে রকেট ইঞ্জিন পরীক্ষা করা ভারতের প্রথম বেসরকারি কোম্পানি হয়ে ওঠে।
পরের বছর, ভারত সরকার মহাকাশ খাতকে বেসরকারি অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত করার পর, ইসরোর সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারী প্রথম বেসরকারি কোম্পানি হয়ে ওঠে স্কাইরুট ।
ABOUT THE AUTHORSritama Mitraশ্রীতমা মিত্র হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন চিফ কনটেন্ট প্রোডিউসার। ২০২১ সাল থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদের পাশাপাশি শ্রীতমার আগ্রহের জায়গা ক্রিকেট। এছাড়াও তিনি জ্যোতিষ বিভাগ দেখাশোনা করেন এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত প্রতিবেদন লিখতেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। পেশাদার জীবন: পেশাদার জীবনের শুরুতে শ্রীতমা আকাশবাণী, শান্তিনিকেতনে উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে তিনি ইটিভি নিউজ বাংলায় কপি এডিটর হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ওয়ানইন্ডিয়া-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার পর তিনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগ দেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: শ্রীতমা মিত্র ইংরেজিতে স্নাতক (বি.এ.) এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর (এম.এ.) ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: সাংবাদিকতার বাইরে শ্রীতমা একজন সাহিত্যপ্রেমী, ভ্রমণও তাঁর অন্যতম নেশা। ছুটির দুপুরগুলো তাঁর কাটে গল্পের বই নিয়ে। একটু লম্বা ছুটি পেলে তিনি দেশের ভিতর বা কখনও সখনও দেশের বাইরেও বেড়াতে যেতে ভালোবাসেন। তবে তাঁর প্রতিটা বেড়ানোর পিছনেই কাজ করে কোনও না কোনও বই বা সিনেমা থেকে তৈরি হওয়া কৌতূহল। অজানাকে জানার আগ্রহই তাঁকে বার বার নিয়ে গিয়ে ফেলে নানা অচেনা শহরে। সেই সব অভিজ্ঞতাকে লেখার রূপ দিতেও পিছপা হন না শ্রীতমা।Read More
E-Paper


