Petrol Pump on UPI Payment Rule Change: পেট্রোল পাম্পে এবার নগদেই টাকা দিতে হবে? UPI নিয়মের পরেই হুঁশিয়ারি ডিলারদের
UPI Payment Rule Change: এনপিসিআই বলেছে, ‘পেট্রল পাম্প, ইউটিলিটি বিল এবং জরুরি পরিষেবার মতো ক্ষেত্রে লাভের মার্জিন খুব কম। তাই নির্দিষ্ট ৫ টাকাই ধার্য করা হবে।’
UPI Payment Rule Change: মোবাইল বা অনলাইন পেমেন্ট কী আর ফ্রি নয়? এর উত্তর হল, সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এটি এখনও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, তবে ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে কিছু নিয়মের বদল হয়েছে। আর ২,০০০ টাকা বা তার বেশি মূল্যের ইউপিআই (UPI) লেনদেনের ক্ষেত্রে ফ্ল্যাট ৫ টাকা 'মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট' (MDR) ধার্য করার প্রতিবাদে এবার দেশজুড়ে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে পেট্রল পাম্পের মালিক ও ডিলারদের মধ্যে। এই বাড়তি চার্জ অবিলম্বে প্রত্যাহার না করা হলে পেট্রল পাম্পে ২,০০০ টাকার বেশি ডিজিটাল লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ করে শুধুই নগদ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিলাররা। তাঁদের বক্তব্য, এমনিতেই প্রতি লিটারে ডিলারদের লাভের মার্জিন অত্যন্ত কম, তার ওপর লেনদেন পিছু ৫ টাকা করে কাটা গেলে ব্যবসায় টিকে থাকাই দায় হয়ে দাঁড়াবে।

দিল্লি-এনসিআর, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, মুম্বই, কর্ণাটক এবং রাজস্থানের একাধিক পেট্রল পাম্প মালিক জানিয়েছেন, লিটার প্রতি পেট্রল-ডিজেলে তাঁদের কমিশন মাত্র ২.৪০ থেকে ৩.৪০ টাকা, যা সরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMC) নির্ধারণ করে দেয়। এই সামান্য লাভের ওপর নতুন করে এমডিআর চাপানো কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া পেট্রোলিয়াম ট্রেডার্স (FAIPT)-এর মুখপাত্র মন্টি সেহগল স্পষ্ট জানান, 'জ্বালানি বিক্রেতাদের এই চার্জ থেকে পুরোপুরি ছাড় না দিলে আমরা ২,০০০ টাকা ও তার বেশি মূল্যের ক্ষেত্রে ইউপিআই পেমেন্ট নেওয়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হব।' চলতি বছরের এপ্রিলের হিসাব অনুযায়ী দেশে মোট ১,০৩,০২৩টি পেট্রল পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশেরও বেশি পরিচালনা করে তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা—আইওসি (IOC), বিপিসিএল (BPCL) এবং এইচপিসিএল (HPCL)। বাকি পাম্পগুলি রিলায়েন্স জিও-বিপি, নায়ারা ও শেলের মতো বেসরকারি সংস্থার মালিকানাধীন।
কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিকে পাঠানো এক চিঠিতে 'অখিল কর্ণাটক ফেডারেশন অব পেট্রোলিয়াম ট্রেডার্স' (AKFPT) জানিয়েছে, পেট্রল পাম্পের ব্যবসাকে সাধারণ খুচরো দোকানের সঙ্গে এক পাল্লায় মাপা যায় না। চিঠিতে বলা হয়, 'তেল বিপণন সংস্থাগুলি পেট্রল ও ডিজেলের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে এবং ডিলাররা একটি নির্দিষ্ট কমিশন কাঠামোর অধীনে কাজ করেন। নির্দিষ্ট কোনও ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যমে লেনদেনের খরচ বাড়লেই খুচরো বিক্রয়মূল্য বাড়িয়ে তা উসুল করার কোনও স্বাধীনতা ডিলারের হাতে নেই।' এমপাওয়ারিং পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ফাউন্ডেশন (EPDF)-এর সদস্য তথা উত্তরপ্রদেশের ডিলার হেমন্ত সিরোহি এক সহজ হিসাব তুলে ধরে বলেন, 'সরকারি ইউপিআই তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে পেট্রল পাম্পগুলিতে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকার মধ্যে ১,৫৭৩ কোটি টাকার এমন লেনদেন হয়। এর প্রায় ২০ শতাংশ লেনদেনই ২,০০০ টাকার বেশি। ফলে প্রতিটি পেট্রল পাম্পের প্রতিদিন অতিরিক্ত ২৩০ থেকে ২৫০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হবে, যা এই স্বল্প কমিশনের বাজারে অত্যন্ত বড় আঘাত।'
দিল্লি ও মুম্বইয়ের দুই ডিলার সরাসরি পেট্রল পাম্পগুলিকে এই নিয়মের বাইরে রাখার দাবি তুলেছেন। তাঁদের মতে, তেল সংস্থাগুলির কাঁধে এই দায়িত্ব চাপানোও স্থায়ী সমাধান নয়; কারণ বেসরকারি পেমেন্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে অনেক সময় আঁতাত থাকে, অতীতে যার জন্য উইকএন্ডে পেমেন্ট আটকে অতিরিক্ত সুদের সুবিধা নেওয়ার মতো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে ডিলারদের। কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছে, রেল, টেলিকম, বিমা, জ্বালানি, কৃষি ক্ষেত্রের বিভিন্ন খরচের ক্ষেত্রে প্রতি লেনদেনে ৫ টাকা করে এমডিআর বসবে। এনপিসিআই বলেছে, ‘পেট্রল পাম্প, ইউটিলিটি বিল এবং জরুরি পরিষেবার মতো ক্ষেত্রে লাভের মার্জিন খুব কম। তাই নির্দিষ্ট ৫ টাকাই ধার্য করা হবে।’ তবে ১৬ সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে অল ইন্ডিয়া পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (AIPDA) কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে সম্পূর্ণ ছাড়ের আবেদন জানিয়েছে। তারা স্পষ্ট উল্লেখ জানিয়েছে, 'পেট্রল এবং ডিজেল অত্যাবশ্যকীয় পণ্য এবং ট্যাঙ্কে তেল ভরলে খরচের পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই বেশি হয়। ফলে পেট্রল পাম্পে ২,০০০ টাকার বেশি পেমেন্ট নিয়মিত ঘটনা। এর ওপর চার্জ বসালে গ্রাহক ও ব্যবসায়ী—উভয়ের ডিজিটাল লেনদেনের অভ্যাসে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।'
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিলারদের এই অসন্তোষ দেশের ক্যাশলেস অর্থনীতির পথচলাকে ব্যাহত করতে পারে।
E-Paper

