Pinaka Rocket Update: বিশ্বের অস্ত্রবাজারে বাড়ছে ভারতের দাপট, ব্রহ্মোসের পর এবার পিনাকা কিনতে আগ্রহী একাধিক দেশ
ভারতের আরও একটি স্বদেশি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক বাজারে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ভারতের তৈরি পিনাকা মাল্টি ব্যারেল রকেট সিস্টেম (এমবিআরএস) কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে একাধিক দেশ।
Pinaka Rocket Update: ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের পর এবার ভারতের আরও একটি স্বদেশি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক বাজারে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ভারতের তৈরি পিনাকা মাল্টি ব্যারেল রকেট সিস্টেম (এমবিআরএস) কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে একাধিক দেশ। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সূত্রের খবর, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলির কাছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির নীতির অংশ হিসেবে খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে ভারত সরকার। এর ফলে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে আরও একটি বড় সাফল্য আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার কাছে ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং অস্ত্র এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রিতে সম্মতি দিয়েছে ভারত। এর আগে ভিয়েতনামের কাছেও ব্রহ্মোস রপ্তানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, ফিলিপিন্সের কাছে ইতিমধ্যেই ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে ভারত। এছাড়া বিশ্বের প্রায় এক ডজন দেশ ব্রহ্মোস কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল পিনাকা রকেট সিস্টেমও।
সূত্রের দাবি, পিনাকা কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স এবং থাইল্যান্ড। এই দেশগুলির প্রতিরক্ষা প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং মূলত আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেয়। সেই কারণে পিনাকার মতো আধুনিক, দ্রুত মোতায়েনযোগ্য এবং কার্যকর রকেট ব্যবস্থা তাদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার ক্ষেত্রেও এই সম্ভাব্য চুক্তিগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
পিনাকা মাল্টি ব্যারেল রকেট সিস্টেমটি তৈরি করেছে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিও। এর উৎপাদনের দায়িত্বে রয়েছে ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (বিইএল) এবং লার্সেন অ্যান্ড টুবরোর (এলঅ্যান্ডটি) মতো দেশের শীর্ষ প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে এই রকেট ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং বিভিন্ন অনুশীলন ও অপারেশনে এর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।
রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও রপ্তানি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির উপর বিশ্বের আস্থা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ব্রহ্মোস ও অস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত সাম্প্রতিক চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, এটি ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতারই প্রতিফলন। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী 'মন কি বাত' অনুষ্ঠানে করা এই মন্তব্য তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, প্রতিরক্ষা উৎপাদন, রপ্তানি এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলির সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে ভারত ধারাবাহিকভাবে নতুন উচ্চতায় পৌঁছচ্ছে।
পিনাকা রকেট সিস্টেমের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল, এটি বাঙ্কার, অস্ত্রভান্ডার, সামরিক ঘাঁটি এবং অন্যান্য স্থলভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুর উপর দ্রুত ও নির্ভুল হামলা চালাতে সক্ষম। মাত্র ৪৪ সেকেন্ডে একটি লঞ্চার থেকে ১২টি রকেট নিক্ষেপ করা যায়। এটি প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে সফল ভাবে আঘাত হানতে পারে। এই রকেটের গাইডেড সংস্করণে জিপিএস ও আইএনএস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যার ফলে লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানা সম্ভব হয়। এছাড়া রকেট নিক্ষেপের পর লঞ্চারবাহী যান দ্রুত স্থান পরিবর্তন করতে পারে, ফলে শত্রুপক্ষের পাল্টা হামলার সুযোগ অনেকটাই কমে যায়। উন্নত কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেমে সজ্জিত এই স্বদেশি অস্ত্রব্যবস্থা আগামী দিনে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


