Plague Death in Siberia: সাইবেরিয়ায় প্লেগের আতঙ্ক, গবেষণাকেন্দ্রের কর্মীর মৃত্যু! ২০০ জন কোয়ারান্টাইনে, বন্ধ ৫ হাসপাতাল

একটি অ্যান্টি প্লেগ গবেষণাকেন্দ্রের ২৮ বছরের এক ল্যাব কর্মীর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, ওই কর্মী দারিয়া শিপিলোভা। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সংস্পর্শে আসা ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অন্তত পাঁচটি হাসপাতাল।

Published on: Oct 5, 2026, 10:19:15 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে প্লেগের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। একটি অ্যান্টি প্লেগ গবেষণাকেন্দ্রের ২৮ বছরের এক ল্যাব কর্মীর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, ওই কর্মী দারিয়া শিপিলোভা। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সংস্পর্শে আসা ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অন্তত পাঁচটি হাসপাতাল। পাশাপাশি ইরকুত্স্ক অঞ্চলে একাধিক জনসমাবেশও বাতিল করা হয়েছে।

একটি অ্যান্টি প্লেগ গবেষণাকেন্দ্রের ২৮ বছরের এক ল্যাব কর্মীর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন।
একটি অ্যান্টি প্লেগ গবেষণাকেন্দ্রের ২৮ বছরের এক ল্যাব কর্মীর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন।

ভাঙা টেস্ট টিউব থেকেই বিপদ?

ঘটনাটি ঘটেছে ইরকুত্স্ক অঞ্চলের শেলেখভ এলাকায় থাকা অ্যান্টি প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, গবেষণাকেন্দ্রে নমুনা সংগ্রহের সময় দারিয়া একটি টেস্ট টিউব ভেঙে ফেলেছিলেন। ওই টিউবে জীবিত প্লেগ ব্যাকটেরিয়া ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এর পরেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

২৯ সেপ্টেম্বর গুরুতর নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে তাঁকে শেলেখভের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অক্টোবরের শুরুতেই মৃত্যু হয় তাঁর। চিকিৎসকদের একাংশের প্রাথমিক সন্দেহ, তিনি নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। তবে রুশ কর্তৃপক্ষ এখনও প্রকাশ্যে তাঁর মৃত্যুর কারণকে নিশ্চিত প্লেগ সংক্রমণ বলে ঘোষণা করেনি।

জোরদার হচ্ছে কোয়ারান্টাইন

দারিয়ার সংস্পর্শে আসা ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে ইতিমধ্যে চিকিৎসকদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। রাশিয়ার ভোক্তা সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য নজরদারি সংস্থা রসপোট্রেবনাদজোর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপ করেছে। ইরকুত্স্কের গভর্নর ইগর কোবজেভ জানিয়েছেন, চিহ্নিত সব সংস্পর্শ ব্যক্তিকে মেডিক্যাল পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

স্বস্তির খবরও রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, নজরদারিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্লেগের উপসর্গ দেখা যায়নি। প্রাথমিক পরীক্ষার ফলও নেতিবাচক এসেছে। তাই পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন।

বন্ধ হাসপাতাল, বাতিল অনুষ্ঠান

তবে সাবধানতার কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না রুশ প্রশাসন। সংক্রমণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে একাধিক হাসপাতাল বন্ধ রাখা হয়েছে। জনসমাগম যাতে না বাড়ে, সে জন্য কিছু অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে। ফলে গোটা অঞ্চলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

ইরকুত্স্কের পাশের বুরিয়াতিয়া অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সেই ত্সিদেনভও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পাশের ইরকুত্স্ক অঞ্চলে এক মহিলার প্লেগে মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বুরিয়াতিয়ায় কোনও প্লেগ সংক্রমণের খবর নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কতটা ভয়ঙ্কর নিউমোনিক প্লেগ?

প্লেগ মূলত ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস নামের ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এর বিভিন্ন ধরনের মধ্যে নিউমোনিক প্লেগ সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। এটি ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং দ্রুত চিকিৎসা না পেলে প্রাণঘাতী হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনাও থাকে। তাই কোনও সম্ভাব্য সংক্রমণের ঘটনায় দ্রুত রোগীকে আলাদা করা এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নজরদারিতে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এখনই ‘প্লেগের মহামারি’ নয়

একজনের মৃত্যু এবং বহু মানুষকে কোয়ারান্টাইনে রাখা হলেও এটিকে আপাতত প্লেগের বড় আকারের সংক্রমণ বলা যাচ্ছে না। কারণ নজরদারিতে থাকা ব্যক্তিদের কারও শরীরে এখনও সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রুশ প্রশাসন।

তবে ঘটনাটি যে যথেষ্ট গুরুতর, তা প্রশাসনের পদক্ষেপেই স্পষ্ট। গবেষণাগারে সম্ভাব্য সংক্রমণ, তার পর এক কর্মীর মৃত্যু এবং শতাধিক মানুষের কোয়ারান্টাইন গোটা ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে সাইবেরিয়ায়। এখন নজর, দারিয়া সত্যিই প্লেগে আক্রান্ত হয়েছিলেন কি না এবং তাঁর সংস্পর্শে আসা কারও মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়েছে কি না, তার চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More