PM Modi-Trump Meeting: ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু, বাণিজ্যচুক্তি! ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকেই বৈঠকে PM মোদী-ট্রাম্প

PM Modi-Trump Meeting: ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর এই বছর প্রথম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে চলেছে। ফলে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সাক্ষাৎ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Published on: Jun 16, 2026, 11:57:25 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

PM Modi-Trump Meeting: আজ ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে চলা জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুই দেশের সফরের শেষ পর্যায়ে আজ মঙ্গলবার ফ্রান্সের এভিয়ানে পৌঁছচ্ছেন তিনি। সেখানে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন। আর এই জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (File Photo/AFP)
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (File Photo/AFP)

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর এই বছর প্রথম প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে চলেছে। ফলে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সাক্ষাৎ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এই বৈঠক এমন এক সময়ে হতে চলেছে, যখন ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা চাপের মুখে পড়েছিল। তার সঙ্গে ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছে। বাণিজ্যিক সম্পর্ক এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে।

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা

ভারতীয় নাবিকবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা

গত সপ্তাহে ভারতীয় নাবিক থাকা তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে। তাতে এখনও পর্যন্ত তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের মধ্যে চলছে টানাপড়েন। বিষয়টি নিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই মার্কিন কূটনীতিককে ডেকে প্রতিবাদ জানিয়েছে। পরপর কয়েক দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ। ভারতের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথে চলা অসামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক নজির। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে যে কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ সংক্রান্ত নির্দেশ মানেনি এবং সেই প্রেক্ষিতে একাধিক জাহাজে অভিযান চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ভারত বারবার বলেছে, অসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে প্রাণঘাতী হামলা বরদাস্ত করা হবে না। এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। জাহাজে হামলার একের পর এক ঘটনাকে ঘিরে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সম্পর্কে আরেকটি জটিলতা তৈরি হয়েছে।

এস জয়শঙ্কর ও মার্কো রুবিওর ফোনালাপ

ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় সরাসরি মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওকে ফোন করে ভারতের তীব্র প্রতিবাদের কথা জানান বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। নয়াদিল্লি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের উপর প্রাণঘাতী হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শনিবার ভোরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক্স পোস্ট করে এস জয়শঙ্কর জানান, তিনি মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ভারতের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রাণঘাতী পদক্ষেপ ন্যায্য নয়।' ভারতের অবস্থান হল, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে চলাচলকারী অসামরিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সব দেশের দায়িত্ব।

তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের তরফে পালটা একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও শনিবার ভারতের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। দুই রাষ্ট্রনেতা হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করেছেন। রুবিও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওই জলপথে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যেই মার্কিন বাহিনী অবরোধ জারি করেছে। সেখান দিয়ে যাতায়াতকারী সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশাবলী মানতে হবে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ওই প্রণালীতে অবরোধ লঙ্ঘন কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’

শুল্ক উত্তেজনা ও বাণিজ্যচুক্তি

ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে গত প্রায় এক বছর ধরে দফায় দফায় আলোচনা চলেছে। প্রাথমিক রূপরেখাও তৈরি হয়ে গিয়েছে। এ অবস্থায় আগামী সপ্তাহে দুই রাষ্ট্রনেতা মুখোমুখি বসলে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে তাঁদের মধ্যে কোনও আলোচনা হবে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন জেগেছে বিভিন্ন মহলে। এ বিষয়ে মার্কিন আধিকারিক সূত্রে এএনআই জানাচ্ছে, সম্ভবত বাণিজ্যচুক্তির বিষয়েও আলোচনা হতে পারে উভয়ের। কয়েক সপ্তাহ আগেই মার্কিন বাণিজ্য-প্রতিনিধিদল ভারত থেকে ঘুরে গিয়েছে। তার আগে ভারতীয় প্রতিনিধিদলও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে ব্যক্তিগত স্তরে সম্পর্ক বরাবরই ভাল। তবে মার্কিন শুল্ক নীতি এবং ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বিভিন্ন দাবি ঘিরে দু’দেশের মধ্যে চাপানউতর তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্প বার বার দাবি করেছেন, সংঘর্ষবিরতিতে তিনি মধ্যস্থতা করেছেন। তবে ভারতও প্রত্যেক বার স্পষ্ট করেছে, সংঘর্ষবিরতিতে কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ছিল না। যদিও দুই ‘বন্ধু’র মধ্যে সম্পর্কে দৃশ্যত কোনও ছাপ পড়েনি তাতে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রিত্বের ১২ বছর পূর্তিতে নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ট্রাম্প। এ অবস্থায় দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে।