'পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি...,' মধ্যপ্রাচ্যের ত্রিমুখী সংঘর্ষে উদ্বিগ্ন PM মোদী, আটকে পড়া ভারতীয়দের কী বার্তা দিলেন?
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্তর্জাতিক স্তরে দৌত্য শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
'পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের কাছে গভীর উদ্বেগের বিষয়।' কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে বৈঠকের পর ইরান, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা চলছে ইরানে। পাল্টা ইরানও মার্কিন বিমানঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর জেরে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের হত্যা পরিস্থিতিকে আরও জোরালো করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশে আটকে পড়া লক্ষ লক্ষ ভারতীয়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত তৎপর কেন্দ্রীয় সরকার।

এই আবহে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, 'ভারত সব ধরনের বিরোধের সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতির পথকেই সমর্থন করে। এই অঞ্চলে বসবাসকারী সমস্ত ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সংশ্লিষ্ট সব দেশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ চালিয়ে যাব।' এরপরেই প্রধানমন্ত্রী ইরান ও ইজরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে ভারত শান্তি ও আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর কথায়,'বিশ্বে এই মুহূর্তে চলা উত্তেজনা নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। ভারত সবসময় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। যখন দুই গণতান্ত্রিক দেশ একসঙ্গে দাঁড়ায় তখন শান্তির পক্ষে কণ্ঠ আরও শক্তিশালী হয়।'
অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্তর্জাতিক স্তরে দৌত্য শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানান, ‘বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার হিসেবে জোর দেওয়ার কথাও জানিয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব যাতে এই শত্রুতার পরিস্থিতি বন্ধ হয়, তার প্রয়োজনীয়তাও পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত।' পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। আমিরশাহিতে হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় শোকপ্রকাশের পাশাপাশি সেখানে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
এই প্রেক্ষাপটে রবিবার মাঝরাতেই প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে বৈঠকে বসে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। বৈঠকে ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ও বিদেশ সচিব। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার ফলে সেখানে আটকে পড়া লক্ষ লক্ষ ভারতীয়দের নিরাপত্তা এবং দেশের জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।
E-Paper











