US-Iran Peace Deal: 'নৌচলাচল ও বাণিজ্যের...,' মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বিশেষ বার্তা PM মোদীর
US-Iran Peace Deal: গত কয়েক মাস ধরে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ক্রমশ বেড়েছে। সেই সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ে এবং অপরিশোধিত তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
US-Iran Peace Deal: দীর্ঘ ১০০ দিনের সংঘাতের পর পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনও চুক্তি এখনও খাতায়কলমে স্বাক্ষরিত হয়নি। আগামী শুক্রবার অর্থাৎ ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এই আবহে দুই দেশের মধ্যে হওয়া এই সমঝোতাকে স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই চুক্তির ফলে শুধু যুদ্ধ পরিস্থিতিরই অবসান হবে না, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমুদ্রপথে যাতায়াতও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে। এই শান্তি চুক্তি বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা ফেরাতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাত অবসানে একটি খসড়া কাঠামোয় সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনার পথ প্রশস্ত হবে। পাশাপাশি, তেহরানকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে অবশিষ্ট সমস্যা মেটানোর একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। যদিও এই ১৪ দফা কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ বয়ান এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। বলে রাখা প্রয়োজন, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল সরবরাহের একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়েই যাতায়াত করে। এই সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং জাহাজ চলাচলে বাধার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী
সোমবার ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে বোঝাপড়া হয়েছে, তাকে আমি স্বাগত জানাই। এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে এনেছিল এবং বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভারত আশা করে যে এই সমঝোতার বাস্তবায়ন এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং নৌচলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। বাকি অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়েও দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাবে, তা নিয়ে আমরা আশাবাদী।’
গত কয়েক মাস ধরে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ক্রমশ বেড়েছে। সেই সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ে এবং অপরিশোধিত তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এই পরিস্থিতিতে ভারত বরাবরই হরমুজ প্রণালীকে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল ও বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত রাখার পক্ষে সওয়াল করেছে। নয়া দিল্লির অবস্থান ছিল স্পষ্ট, যে কোনও আন্তর্জাতিক বিরোধের সমাধান যুদ্ধ নয়, বরং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই হওয়া উচিত। গত তিন মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদী একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে কথা বলে ভারতের এই অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, শান্তি ও স্থিতিশীলতা শুধু পশ্চিম এশিয়ার জন্য নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই সমঝোতা ভবিষ্যতে অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করবে বলেই মনে করছে ভারত।
মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তি
সূত্রের খবর, কয়েক দিনের টানা আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার পর ওয়াশিংটন এবং তেহরান শান্তি প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে। চুক্তি কার্যকর হলে হামলা, পাল্টা হামলা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীও পুনরায় সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সর্ব প্রথম দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’-এ চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘ আলোচনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই শান্তি চুক্তি সম্ভব হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশই লেবানন-সহ সমস্ত ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে উভয় পক্ষ এই চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করবে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এও ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, 'ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন। সবাইকে অভিনন্দন! আমি হরমুজ প্রণালী টোল-মুক্তভাবে খুলে দেওয়ার সম্পূর্ণ অনুমতি দিচ্ছি এবং একইসঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিচ্ছি। বিশ্বের সমস্ত জাহাজ, এবার তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেল পরিবহণ সচল হোক!'
E-Paper

