PM Modi on Women Reservation Bill: কৃতিত্ব নিতে চাইলে নিন... মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিরোধীদের বার্তা মোদীর
পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং পুরনিগমে বিপুল সংখ্যক মহিলা জনপ্রতিনিধি কাজ করছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁরা স্থানীয় সমস্যার সমাধান করছেন। একই সঙ্গে দক্ষ নেতৃত্বও দিচ্ছেন। এই অভিজ্ঞতাকে জাতীয় রাজনীতিতেও আরও বড় পরিসরে কাজে লাগানোর প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
PM Modi on Women Reservation Bill: রাজনীতিতে মহিলাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি। সেখানেই দেশের সব রাজনৈতিক দলকে একজোট হয়ে বিধানসভা ও লোকসভায় মহিলাদের ৩৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আবেদন জানান প্রধানমন্ত্রী।

মোদী বলেন, ভারতের নীতি নির্ধারণে মহিলাদের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, দেশের উন্নয়নে মহিলারা বড় ভূমিকা নিচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসনেও তাঁদের নেতৃত্বের প্রমাণ মিলছে।
পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং পুরনিগমে বিপুল সংখ্যক মহিলা জনপ্রতিনিধি কাজ করছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁরা স্থানীয় সমস্যার সমাধান করছেন। একই সঙ্গে দক্ষ নেতৃত্বও দিচ্ছেন। এই অভিজ্ঞতাকে জাতীয় রাজনীতিতেও আরও বড় পরিসরে কাজে লাগানোর প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে নরেন্দ্র মোদী নরী শক্তি বন্দন অধিনিয়মের কথা তুলে ধরেন। ২০২৩ সালে সংসদে এই আইন পাশ হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল আইনসভায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত প্রায় ৪০ বছর ধরে রাজনৈতিক কারণে মহিলাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টি বারবার পিছিয়ে গিয়েছে। নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েনে এই উদ্যোগ থমকে থেকেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এবার সেই পরিস্থিতি বদলানোর জন্য সব দলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মোদী। লালকেল্লা থেকে তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলির উচিত মহিলাদের শক্তি ও সক্ষমতাকে সম্মান করা। দ্রুত বিধানসভা ও লোকসভায় ৩৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য একসঙ্গে কাজ করা দরকার।
প্রধানমন্ত্রী বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে এই উদ্যোগের কৃতিত্ব নেওয়ার বার্তা দেন। তাঁর বক্তব্য, কে কৃতিত্ব পেল তা বড় বিষয় নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, মহিলারা যেন তাঁদের প্রাপ্য রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব পান। তবে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিয়ে এখনও বাস্তবায়নের পথে জটিলতা রয়েছে। ২০২৩ সালে দুই কক্ষেই নরী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম পাশ হয়েছিল। কিন্তু এর বাস্তবায়ন এখনও এগোয়নি।
সূত্র অনুযায়ী, সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল লোকসভায় প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না পাওয়ায় ১৭ এপ্রিল তা পাস হয়নি। ফলে মহিলাদের সংরক্ষণ কার্যকর করার প্রক্রিয়া থমকে যায়। এই ব্যবস্থার সঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা আসনের পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনও যুক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রের যুক্তি, সংসদ ও রাজ্য বিধানসভায় আসন সংখ্যা বাড়ানোর পরই ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করা হবে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলি ডিলিমিটেশন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, নতুন করে আসন সংখ্যা বাড়ানোর জন্য অপেক্ষা না করে বর্তমান আসন সংখ্যার মধ্যেই মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করা উচিত। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য এখনও রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ফের এই ইস্যুকে সামনে এনে সর্বদলীয় ঐকমত্যের বার্তা দিয়েছেন।
মোদীর বক্তব্যের মূল কথা হল, দেশের নীতি নির্ধারণে মহিলাদের ভূমিকা আরও বাড়াতে হবে। স্থানীয় স্তরে মহিলারা যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেটিকে জাতীয় রাজনীতিতেও আরও শক্তিশালী করা দরকার। রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি হলে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব কার্যকর করার পথ সহজ হতে পারে। এখন নজর থাকবে, প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের পর রাজনৈতিক দলগুলি কী পদক্ষেপ নেয়।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


