'কেরালা স্টোরি' থেকে 'ধুরন্ধর!' বাম-কংগ্রেসকে ‘সুপারহিট সিনেমা’র তোপ PM মোদীর

কেরলের তিরুভাল্লায় নির্বাচনী সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী সরাসরি কংগ্রেস এবং সিপিআইএম-কে নিশানা করেন।

Published on: Apr 4, 2026, 23:57:44 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

নির্বাচনী মঞ্চে সিনেমা হয়ে উঠল রাজনীতির হাতিয়ার। কেরলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যে উঠে এল রণবীর সিংয়ের ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার নাম, যে ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। শনিবার কেরলের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে ‘মিথ্যার রাজনীতি’ করছে। তাঁর কথায়, 'বাম এবং কংগ্রেস মিথ্যা বলায় পেশাদার হয়ে উঠেছে। ওরা বলে ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ মিথ্যা, বলে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ মিথ্যা, আর এখন বলছে ‘ধুরন্ধর’ও মিথ্যা।'

বাম-কংগ্রেসকে তোপ PM মোদীর
বাম-কংগ্রেসকে তোপ PM মোদীর

কেরলের তিরুভাল্লায় নির্বাচনী সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী সরাসরি কংগ্রেস এবং সিপিআইএম-কে নিশানা করেন। তিনি বলেন, 'কংগ্রেস এবং সিপিএম মিথ্যার ফ্যাক্টারি।' কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগকে তুলে ধরে বিরোধীদের নিশানা করে এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিদেশি অনুদান আইন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কিংবা নাগরিকত্ব সংশোধন আইন-সব বিষয়েই ওরা বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।' এদিন প্রধানমন্ত্রী অভিন্ন দেওয়ানি বিধিকে হাতিয়ার করেছেন কেরলে। তাঁর কথায়, ‘গোয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই ইউনিফর্ম সিভিল কোড লাগু রয়েছে। কারও কোনও অসুবিধা হয়নি। কিন্তু এখানে কংগ্রেস আর বামপন্থীরা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’ এলডিএফ (লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট) এবং ইউডিএফ (ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট)-কে একই মুদ্রার দুই পিঠ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে ভারত কেন কোনও পক্ষ নেয়নি, সেই প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা। ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের হত্যাকাণ্ডে সরকারি ভাবে নিন্দা জানানোর দাবিও তুলেছিল তারা। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দাবি, এই সবই ‘উস্কানিমূলক মন্তব্য।' তাঁর কথায়, ‘আরব দেশগুলিতে প্রায় ১ কোটি ভারতীয় থাকেন। ভোটে জিততে তাঁদের জীবন বিপদের মুখে ফেলতে চায় কংগ্রেস।’ প্রধানমন্ত্রী মোদীর অভিযোগ, ‘কংগ্রেস চায়, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি ভারতকে শত্রু হিসেবে দেখুক।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরানে কর্মরত তামিলনাড়ু, গোয়া, কেরল, তেলাঙ্গানা এবং পুদুচেরির ভারতীয় মৎস্যজীবীরা বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। সরকার তাদের উদ্ধারে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং ইতিমধ্যে শত শত মৎস্যজীবী নিরাপদে ভারতে ফিরে এসেছেন। তিনি জানান, 'তাদের জীবন আমাদের কাছে অমূল্য।'

কেরলে প্রচারে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছেন, এলডিএফ সরকারের পতনের দিন গোনা শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্যে এবার এনডিএ ক্ষমতায় আসবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, বিজেপি কর্মীরা বাম শাসনকে বিদায় জানানোর জন্য প্রস্তুত। তিনি এ-ও বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কেরলের উন্নয়ন নিশ্চিত করবে। তাঁর মতে, কেরলের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও উন্নয়নের দৌড়ে এটি অন্যান্য রাজ্যগুলির চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এলডিএফ ও ইউডিএফ উন্নয়নের দিকে মনোযোগ না দেওয়ায় কেরলের গ্রামীণ এলাকায় মৌলিক পরিকাঠামো দুর্বল।