PM Modi on India's Space Ecosystem: মহাকাশে বিশ্বনেতৃত্বের দৌড়ে ভারত, লক্ষ্য ‘গ্লোবাল স্পেস হাব’: বার্তা মোদীর
দেশের ২০টি বেসরকারি মহাকাশ সংস্থার কর্ণধার এবং প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে বৈঠক করেন মোদী। রবিবার সেই বৈঠকের বিস্তারিত প্রকাশ্যে এসেছে। ২৩ অগস্ট জাতীয় মহাকাশ দিবস। চন্দ্রযান-৩-এর সাফল্যকে স্মরণ করেই এই দিনটি পালন করা হয়। সেই আবহেই মহাকাশ খাতে ভারতের পরবর্তী লক্ষ্যের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী।
PM Modi on India's Space Ecosystem: মহাকাশ গবেষণায় আরও বড় স্বপ্ন দেখছে ভারত। লক্ষ্য শুধু মহাকাশে পৌঁছনো নয়। লক্ষ্য বিশ্বে মহাকাশ শিল্পের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠা। বেসরকারি সংস্থাগুলিকে সামনে রেখে সেই লক্ষ্যেই এগোতে চাইছে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথায়, ভারতে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিভাবান মানুষ এখানে এসে কাজ করতে চান।

সম্প্রতি দেশের ২০টি বেসরকারি মহাকাশ সংস্থার কর্ণধার এবং প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে বৈঠক করেন মোদী। রবিবার সেই বৈঠকের বিস্তারিত প্রকাশ্যে এসেছে। ২৩ অগস্ট জাতীয় মহাকাশ দিবস। চন্দ্রযান-৩-এর সাফল্যকে স্মরণ করেই এই দিনটি পালন করা হয়। সেই আবহেই মহাকাশ খাতে ভারতের পরবর্তী লক্ষ্যের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদী বলেন, মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারত খুব দ্রুত বিশ্বনেতা হয়ে উঠতে পারে। এ দেশের বড় শক্তি হল খরচের দিক থেকে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা। রয়েছে বিশাল প্রতিভার ভাণ্ডারও। এই দুই শক্তিকে কাজে লাগিয়েই ভারতকে বিশ্বমানের স্পেস স্টার্টআপের কেন্দ্র করে তুলতে হবে। মোদীর বক্তব্য, এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে বিশ্বের মানুষ মনে করেন, নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে হলে ভারতে আসতে হবে। ভারতীয় স্টার্টআপে কাজ করতে হবে। ভারতীয় মহাকাশ সংস্থায় যোগ দিতে হবে।
২০২০ সালে মহাকাশ ক্ষেত্র বেসরকারি সংস্থার জন্য খুলে দিয়েছিল কেন্দ্র। তার পর থেকেই বদলাতে শুরু করে ছবি। উপগ্রহ তৈরি থেকে রকেট উৎক্ষেপণ, মহাকাশ প্রযুক্তির নানা ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়ে। সরকারি হিসাবে, ২০১৪ সালে দেশে বেসরকারি মহাকাশ স্টার্টআপ ছিল মাত্র একটি। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৪০।
২০২৩ সালের ভারতীয় মহাকাশ নীতিও এই সুযোগ আরও বাড়িয়েছে। মহাকাশ শিল্পের প্রায় সব ক্ষেত্রেই বেসরকারি বিনিয়োগের পথ খুলেছে। বৈঠকে মোদী বলেন, সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেই বিশ্বাস থেকেই উদ্যোক্তারা নতুন ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিয়েছেন। সরকারের সিদ্ধান্তে ধারাবাহিকতা থাকাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবেই নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সাহস বাড়বে।
বিশ্বের মহাকাশ শিল্পের বাজার এখন প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলারের। সেখানে ভারতের অংশীদারি বর্তমানে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার। আগামী দশকে সেটি ৪০ থেকে ৪৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। বিনিয়োগও বেড়েছে দ্রুত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ সালে ভারতীয় মহাকাশ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল প্রায় ১০০.৫ মিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চে তা বেড়ে হয়েছে ৬১৮.৫ মিলিয়ন ডলার। চলতি বছরেই এসেছে প্রায় ১৮৭ মিলিয়ন ডলার।
মোদীর কথায়, খরচের ক্ষেত্রে ভারত যথেষ্ট প্রতিযোগিতামূলক। প্রতিভার অভাব নেই। ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতাও রয়েছে। তাই খুব দ্রুত বিশ্ব মহাকাশ বাজারে নিজেদের জায়গা তৈরি করা সম্ভব। বৈঠকে স্কাইরুট অ্যারোস্পেস, অগ্নিকুল কসমস, পিক্সেল, ধ্রুব স্পেস, গ্যালাক্সআই-এর মতো সংস্থার প্রতিনিধিরা ছিলেন। তাঁরা শুধু রকেট বা উপগ্রহ নয়, ভবিষ্যতের মহাকাশ প্রযুক্তির নানা পরিকল্পনার কথাও জানান।
মহাকাশে মৃত উপগ্রহ সরানোর রোবোটিক যান তৈরি থেকে শুরু করে মহাকাশে জ্বালানি ভরার প্রযুক্তি। এমনকি মহাকাশে ওষুধ তৈরি করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। সম্প্রতি ভারতের প্রথম বেসরকারি রকেট উৎক্ষেপণ করে ইতিহাস তৈরি করেছে স্কাইরুট অ্যারোস্পেস। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এটিই শেষ নয়। ভবিষ্যতে উৎক্ষেপণের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
মোদী বলেন, কোনও ভারতীয় স্টার্টআপ বড় সাফল্য পেলেই বিশ্বের নজর সেখানে চলে আসবে। সেই নজরকে স্থায়ী করতে হবে। মহাকাশকে কেন্দ্র করে তৈরি করতে হবে আরও বড় শিল্প-পরিবেশ। বেসরকারি সংস্থাগুলি বৈঠকে জানিয়েছে, মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু উৎক্ষেপণে সীমাবদ্ধ নেই। কৃষি, উন্নত প্রপালশন, আন্তর্জাতিক গ্রাউন্ড স্টেশন নেটওয়ার্ক, উপগ্রহ প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই সুযোগ বাড়ছে।
চুক্তি বাড়ছে বিদেশে। বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়ছে। সরকারি সহায়তায় রফতানির সুযোগও তৈরি হচ্ছে। সব মিলিয়ে বার্তা স্পষ্ট। মহাকাশে শুধু পা রাখাই নয়। এ বার মহাকাশ অর্থনীতির বড় শক্তি হয়ে উঠতে চায় ভারত। আর সেই দৌড়ে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাকেও সামনে রেখে এগোতে চাইছে দিল্লি।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


