SCO summit 2026 : এক ফ্রেমে PM মোদী-পুতিন-জিনপিং-শাহবাজ! এসসিও সামিটে যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তির বার্তা...

SCO summit 2026 : দু’দিনের এই সম্মেলনের ফাঁকে ইতিমধ্যেই রাশিয়া ও ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সূত্রের খবর, পুতিনকে ইউক্রেনে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি ফেরানোর আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

Published on: Sep 1, 2026, 13:17:23 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

SCO summit 2026 : কিরঘিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে ধরা পড়ল এক ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। মঙ্গলবার সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক গ্রুপ ফটো সেশনের সময় এক ফ্রেমে দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

এক ফ্রেমে PM মোদী-পুতিন-জিনপিং-শাহবাজ (@narendramodi)
এক ফ্রেমে PM মোদী-পুতিন-জিনপিং-শাহবাজ (@narendramodi)

বিশকেকের ‘ইরিস ওর্দো কংগ্রেস হল’-এ শীর্ষ সম্মেলনের ফটো সেশনের ফাঁকেই চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সঙ্গে সামান্য কুশল বিনিময় করতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ছবি তোলার পাশাপাশি সদস্য দেশগুলির শীর্ষনেতাদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের আয়োজক ও সভাপতি হিসেবে এই আলোচনার নেতৃত্ব দেন কিরঘিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ। প্রধানমন্রী মোদী, পুতিন, শি ও শাহবাজ ছাড়াও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট টোকাইয়েভ, উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শওকত মির্জিওয়েভ এবং তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান সম্মেলনে অংশ নেন।

পুতিন ও পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর

দু’দিনের এই সম্মেলনের ফাঁকে ইতিমধ্যেই রাশিয়া ও ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সূত্রের খবর, পুতিনকে ইউক্রেনে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি ফেরানোর আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'অন্তহীন যুদ্ধ থেকে আমাদের যুদ্ধের অবসানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।' প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবতাকে পিছিয়ে নিয়ে যায়। তাই অন্তহীন যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। জাতীয় স্বার্থের কথা মাথা রেখে উভয় দেশকেই সামনের দিকে এগোতে হবে।' ভারত যে সর্বদা শান্তির পক্ষে, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি মহাত্মা গান্ধী ও গৌতম বুদ্ধের দেশ থেকে শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছেন। অন্যদিকে, পুতিন বলেন, ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদীর মনোযোগের ফলেই ভার-রাশিয়ার সম্পর্ক আরও জোরদার হচ্ছে। গত বছর দু'দেশের পর্যটন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পরই প্রধানমন্ত্রী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। লিখেছেন, 'পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ সবসময়ই আনন্দের।' দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমার বন্ধু, আপনার সঙ্গে দেখা করতে পেরে আমি আনন্দিত। আপনার সর্বশেষ ভারত সফর অত্যন্ত সফল ও স্মরণীয় ছিল। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে তা সহায়তা করেছিল।' সূত্রের খবর, দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে জানান যে, ভারত আগামী দিনগুলিতে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য-তালিকা বা 'ট্রেড বাস্কেট' আরও সম্প্রসারিত ও বৈচিত্র্যময় করতে চায়, পাশাপাশি তিনি আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের সমাধানের আহ্বান জানান। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিসকেকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হল। ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও জোরদার করার বিষয়ে আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি।' তিনি আরও বলেন, 'আগামী দিনগুলিতে আমরা আমাদের বাণিজ্য-পরিসর আরও প্রসারিত ও বৈচিত্র্যময় করতে চাই। আমরা এই অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া সব প্রচেষ্টাকে ভারত সমর্থন অব্যাহত রাখবে।'

এসসিও শীর্ষ সম্মেলন

২০০১ সালে চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে মধ্য এশিয়ার রাষ্ট্র-কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান ও কিরঘিজস্তানের-যৌথ উদ্যোগে এসসিও (SCO) প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে ভারত, পাকিস্তান, ইরান ও বেলারুশ এর সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এছাড়া আফগানিস্তান ও মঙ্গোলিয়া পর্যবেক্ষক দেশের মর্যাদা পেয়েছে এবং সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী-সহ আরও ১৫টি দেশ এর ‘সংলাপ সহযোগী’ হিসেবে রয়েছে।