PM Modi: মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি, নিরাপত্তায় জোর! ইরান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে PM মোদী, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনা?
PM Modi Meets Iranian President: এমন এক সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী-প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বৈঠক হল, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সংঘাতে টালামাটাল মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এমনিতে ভারত ও ইরানের বাণিজ্য সম্পর্ক অত্যন্ত জোরালো।
PM Modi Meets Iranian President: ২৬তম এসসিও সামিটের (সাংহাই কর্পোরেশন অর্গানাইজেশন) ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের (Massoud Pezeshkian) সঙ্গে পার্শ্ববৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি, নিরাপত্তা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। পারস্পরিক স্বার্থ জড়িত রয়েছে, এমন বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরান ও ভারতের মধ্যে যৌথ সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাকচি এবং অন্যান্য শীর্ষকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন হাই প্রোফাইল বৈঠকে। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা-সহ একাধিক বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কেন এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ?
এমন এক সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী-প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বৈঠক হল, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সংঘাতে টালামাটাল মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এমনিতে ভারত ও ইরানের বাণিজ্য সম্পর্ক অত্যন্ত জোরালো। নয়া দিল্লি ইরানের শীর্ষ দশটি বাণিজ্যিক অংশীদারের অন্যতম। যদিও পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় এবং তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এর আগে, গত জুনেও প্রধানমন্ত্রী মোদী ও পেজেশকিয়ানের মধ্যে ফোনে কথা হয়েছিল। তখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং কীভাবে সংঘাতের অবসান ঘটানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তখন সংঘাত বন্ধের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থায়ী শান্তির জন্য আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
এদিন বৈঠকের প্রাক্কালে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে যে কোনও আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা কোনও দেশের জন্যই ভালো নয়। তাই সংঘাত কমিয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা দরকার। সম্প্রতি একটি ছোট ইরানি দ্বীপে মার্কিন হামলার পর তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক এই সংস্থায় স্বাধীন কণ্ঠস্বরের উপস্থিতির প্রতীক হিসেবে এসসিও প্ল্যাটফর্মে এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর কথায়, ‘ইরানের ওপর হামলা হলে আগ্রাসনকারীদের কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক জবাব দেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি কোনও দেশের স্বার্থে নয়। এটি শেষ পর্যন্ত সবার জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।’
সূত্রের খবর, এসসিও সামিটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মনে করা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেপরোয়া শুল্ক ও যুদ্ধনীতির বিপরীতে 'তৃতীয় অক্ষ শক্তি'র বার্তা দিচ্ছে রুশ-ইরান-ভারতের এই বৈঠক। মার্কিন অক্ষের বিপরীতে চিন থাকলেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাদের দখলদারির বিরুদ্ধে ভারত। অন্যদিকে, অরুণাচল সীমান্ত নিয়ে বেজিংয়ের সঙ্গে সংঘাত অব্যাহত। এই অবস্থায় পারস্পারিক স্বার্থের কারণেই একজোট হচ্ছে ইরান-ভারত-রাশিয়া। পাকিস্তান মুসলিম ন্যাটোয় ইরানকে টানার চেষ্ঠা করলেও তা সফল হবে না বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
E-Paper

