PM Modi on AI Investment: 'প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ভারত', AI খাতে বিনিয়োগের বার্তা মোদীর

PM Modi on AI Investment: ফ্রান্সের প্যারিসে আয়োজিত ইউরোপের বৃহত্তম প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ সম্মেলন ‘ভিভাটেক ২০২৬’-এ যোগ দিয়ে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি প্রযুক্তিকে আরও গণমুখী, অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উপর জোর দেন।

Published on: Jun 19, 2026, 08:35:09 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

PM Modi on AI Investment: প্রযুক্তির প্রকৃত অগ্রগতি তখনই সম্ভব, যখন তার সুবিধা সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়। ফ্রান্সের প্যারিসে আয়োজিত ইউরোপের বৃহত্তম প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ সম্মেলন ‘ভিভাটেক ২০২৬’-এ যোগ দিয়ে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি প্রযুক্তিকে আরও গণমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উপর জোর দেন।

শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ভারতে স্বাগত জানাতে বিশেষ উদ্যোগের উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী (PTI)
শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ভারতে স্বাগত জানাতে বিশেষ উদ্যোগের উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী (PTI)

এরই সঙ্গে শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ভারতে স্বাগত জানাতে বিশেষ উদ্যোগের উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী জানান, ভারত সরকার এআই খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়মকানুন সহজ-সরল করেছে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার পরিবেশকে আরও অনুকূল করে তুলছে তাঁর সরকার। তিনি উপস্থিত সবাইকে ‘ইন্ডিয়া প্যাভিলিয়ন’ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান; সেখানে বিশ্বের প্রথম থ্রিডি-প্রিন্টেড রকেট ইঞ্জিন, উন্নত জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং থেরাপি এবং ক্যান্সার শনাক্তকারী এআই (AI) সমাধানের মতো উদীয়মান প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশটির স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের সক্ষমতা তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'গত এক দশকে ভারত খুবই দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল পরিচিতি ব্যবস্থা গড়ে তোলা থেকে শুরু করে বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম তৈরি; আর্থ-সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, শিক্ষা, টেলিমেডিসিন, কৃষি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে আমরা ব্যাপক পরিসরে প্রযুক্তির ব্যবহার করছি।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র উদ্ভাবনই যথেষ্ট নয়, প্রযুক্তির ব্যবহার ও সুযোগ সবার জন্য সহজলভ্য হওয়াও জরুরি। তাঁর কথায়, “প্রযুক্তি তখনই উন্নয়নের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে, যখন তা গণতান্ত্রিকভাবে সবার কাছে পৌঁছায়।” দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তিকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতের কাছে AI-এর অর্থ শুধু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নয়, বরং 'All Inclusive' বা সর্বজনীন অন্তর্ভুক্তি। তাঁর মতে, এআই এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত যাতে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয় এবং পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যও পূরণ করা যায়।

ভাষণের সময় ভারতের গত এক দশকের ডিজিটাল রূপান্তরের কথাও তুলে ধরেন মোদী। তিনি জানান, বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো গড়ে তুলেছে ভারত। বিশ্বের মোট ডিজিটাল লেনদেনের একটি বড় অংশ এখন ভারতে সম্পন্ন হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এবারের ভিভাটেকে ভারত ‘এআই পার্টনার কান্ট্রি’ হিসেবে অংশগ্রহণ করেছে। সম্মেলনে ভারতের বৃহত্তম জাতীয় প্যাভিলিয়নও স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এবং উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলি তুলে ধরা হচ্ছে।

প্যারিস সফরে প্রধানমন্ত্রী একাধিক শীর্ষ ফরাসি শিল্পপতি ও প্রযুক্তি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রেল, নির্মাণ, জাহাজ পরিবহণ ও লজিস্টিক্স-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিভাটেকের মঞ্চ থেকে মোদীর এই বার্তা শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং প্রযুক্তির মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গিকেও আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরেছে। একইসঙ্গে বিশ্ব প্রযুক্তি মানচিত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বও এই সম্মেলনে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More