POK Election Update: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভোটে অশান্তি, ব্যালট বাক্সে আগুন! গুলি, মৃত্যুর অভিযোগে প্রশ্নের মুখে নির্বাচন
ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষ, ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া, রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যু, ভোট গণনায় সশস্ত্র ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সাধারণ মানুষের হতাহতের অভিযোগ উঠে এসেছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে।
POK Election Update: সোমবার ব্যাপক অশান্তি, হিংসা এবং কারচুপির অভিযোগের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) তথাকথিত আইনসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষ, ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া, রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যু, ভোট গণনায় সশস্ত্র ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সাধারণ মানুষের হতাহতের অভিযোগ উঠে এসেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় পিওকে-তে। এর জেরে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বড় পরীক্ষার মুখে পড়ে পাকিস্তান প্রশাসন।

পিওকে-র তথাকথিত আইনসভা নির্বাচনে প্রায় ৩৮ লক্ষ ভোটার ভোট দেওয়ার যোগ্য। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ, সংঘর্ষ এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে এবার প্রথমবারের মতো একদিনে নয়, বরং তিন দফায় ভোট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেখানে। এই আবহে গত ২৭ জুলাই ছিল সেখানকার প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। মিরপুর ডিভিশনে এই ভোট হয়। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও প্রবল গরমের কারণে কিছু এলাকায় ভোটদানের হার তুলনামূলক কম ছিল বলে জানা গিয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা ঘটে ভিম্বার জেলায়। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, একটি ভোটকেন্দ্রে দুই রাজনৈতিক দলের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় একটি ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে সেই ব্যালট বাক্সে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়, ফলে ভিতরে থাকা সমস্ত ভোটপত্র পুড়ে যায়। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে ওই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এদিকে কোটলি জেলায়ও হিংসার ঘটনা ঘটে। পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)-র দাবি, নাকিয়াল এলাকায় সংঘর্ষে তাদের কর্মী মুখতার ইউনুস নিহত হয়েছেন। দলটির অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত পক্ষ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এছাড়া পিপিপি নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে যে, এলএ-১ মিরপুর আসনের ইউনিয়ন কাউন্সিল ওনাহ এলাকার কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঢুকে ভোট গণনায় বাধা দেয়। নির্বাচন সামগ্রী সুরক্ষিত রাখতে এবং নিরপেক্ষ গণনা নিশ্চিত করতে কমিশনের অবিলম্বে হস্তক্ষেপও দাবি করেছে দলটি।
এই নির্বাচন এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন পাকিস্তান প্রশাসনের সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-এর সংঘাত তুঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে এই নাগরিক সংগঠন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্টে JAAC অভিযোগ করেছে, রাওয়ালাকোটে নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণ মানুষের উপর গুলি চালিয়েছে। তাদের দাবি, এই ঘটনায় কয়েকজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। পাশাপাশি সংগঠনটির অভিযোগ, বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ এবং হিংসার আবহে নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, গত প্রায় দু'মাস ধরে পিওকে-তে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে JAAC। তাদের মূল দাবি, ১৯৪৭ সালের পর পিওকে-তে বসবাসকারী উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আইনসভা আসন বাতিল করতে হবে। অশান্তির পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসে পাকিস্তান সরকার JAAC-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
নিরাপত্তাজনিত কারণেই ভোটের সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। নির্বাচন কমিশন জানায়, ধাপে ধাপে ভোট করালে নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও কার্যকরভাবে মোতায়েন করা সম্ভব হবে। এই আবহে পরের দফায় মুজফফরাবাদ ডিভিশন এবং আগামী ১০ অগস্ট পুঞ্চ জেলায় তৃতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ হবে।
এদিকে ভারত বরাবরই জানিয়ে এসেছে, সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং পাকিস্তান ওই অঞ্চলের একটি অংশ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। সম্প্রতি নয়াদিল্লি দাবি করেছে, পিওকে-তে চলা বিক্ষোভ পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের শোষণ, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং দমননীতিরই ফল। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি দমন-পীড়নের ঘটনাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


