Polish Ambassador on India: 'ভিন দেশে থাকলেও সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের অধিকার আছে ভারতের', বার্তা পোল্যান্ডের
পোল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ডঃ পিয়োত্র আন্তোনি শভিতালস্কি জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার অধিকার ভারতের রয়েছে। তারা যে দেশেই থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াকে সমর্থন করে ওয়ারশ। আর এই অবস্থান থেকেই উঠে এসেছে অপারেশন সিঁদুরের প্রসঙ্গ।
সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে ভারতের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিল পোল্যান্ড। দিল্লিতে পোল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ডঃ পিয়োত্র আন্তোনি শভিতালস্কি জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার অধিকার ভারতের রয়েছে। তারা যে দেশেই থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াকে সমর্থন করে ওয়ারশ। আর এই অবস্থান থেকেই উঠে এসেছে অপারেশন সিঁদুরের প্রসঙ্গ। পোলিশ রাষ্ট্রদূতের দাবি, পাকিস্তানে জঙ্গি পরিকাঠামোয় হামলার সময় ভারতীয় বাহিনী পোল্যান্ডে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করেছিল। অর্থাৎ, গত বছরের অপারেশন সিঁদুরে পোলিশ প্রযুক্তিও ভারতের অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।

ভারতের হাতে থাকা পোলিশ ড্রোনের মধ্যে ‘ওয়ারমেট’ লয়টারিং মিউনিশনের নাম আগেও সামনে এসেছে। এগুলি নজরদারি এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা—দুই কাজেই ব্যবহার করা যায়। অপারেশন সিঁদুরের প্রথম পর্যায়ের অভিযানে এই ধরনের পোলিশ ড্রোন ব্যবহারের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
পোল্যান্ডের বার্তায় তাই শুধু কূটনৈতিক সমর্থন নয়, প্রতিরক্ষা সহযোগিতার দিকটিও স্পষ্ট হয়েছে। রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, ভারতকে শুধু অস্ত্রের বাজার হিসেবে দেখে না পোল্যান্ড। বরং কৌশলগত অংশীদার হিসেবেই দেখে। দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে আরও সহযোগিতার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আগামী সপ্তাহেই একটি পোলিশ প্রতিরক্ষা প্রতিনিধিদল ভারতে আসছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত। দু’দেশের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা কী ভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে অপারেশন সিঁদুরের পর পোলিশ ড্রোন নিয়ে ভারতের আগ্রহও বেড়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই ড্রোনের কার্যকারিতার পর ভারত অতিরিক্ত ড্রোন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে যৌথ উৎপাদনের বিষয়েও আলোচনা এগোতে পারে।
শুধু বর্তমান নয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও ভারতীয় বাহিনীর হাতে পোলিশ সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলেছেন রাষ্ট্রদূত। তাঁর কথায়, ভারত-পোল্যান্ড প্রতিরক্ষা সম্পর্কের শিকড় অনেক পুরনো। ফলে বর্তমান সহযোগিতাকে তিনি সেই দীর্ঘ সম্পর্কেরই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন।
রাষ্ট্রদূতের আরও একটি মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জানিয়েছেন, পহেলগাঁও হামলার আগের রাতেই তিনি শ্রীনগরে ছিলেন। পরদিনের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার কথা স্মরণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। একই সঙ্গে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানের প্রতি পোল্যান্ডের সমর্থনও স্পষ্ট করেন।
দুই দেশের সম্পর্ক শুধু প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের ভারত সফরের প্রস্তুতিও চলছে। রাষ্ট্রদূতের মতে, নরেন্দ্র মোদীর পোল্যান্ড সফরের পর এই সফর হবে রাজনৈতিক যোগাযোগ আরও এগিয়ে নেওয়ার পরবর্তী ধাপ।
ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আশাবাদী ওয়ারশ। বছরের শেষের মধ্যে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রদূত। পাশাপাশি বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, অপারেশন সিঁদুরকে ঘিরে পোল্যান্ডের সাম্প্রতিক বার্তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে থাকার ঘোষণা। ভারতীয় বাহিনীর ব্যবহৃত পোলিশ ড্রোন নিয়ে গর্বের সঙ্গে কথা বলা। আর প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ। সব মিলিয়ে দিল্লি ও ওয়ারশর কৌশলগত সম্পর্ক যে নতুন মাত্রা পাচ্ছে, তা স্পষ্ট।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


