Hawai: ২ মাসে দ্বিতীয় ম্যাজিক 'ট্রিনা'-র! হাওয়াইয়ের ভলক্যানোজ ন্যাশনাল পার্কে নিখোঁজ বৃদ্ধকে বাঁচাল পুলিশ ল্যাব্রাডর
Hawai’i Volcanoes National Park: ট্রিনা মূলত সুইডেন থেকে আনা একটি ল্যাব্রাডর রিট্রিভার। সে নিখোঁজ জীবিত মানুষদের সন্ধানে দক্ষ (Live-find human tracking) এক বিশেষ শ্রেণির পুলিশ কুকুর।
Hawai’i Volcanoes National Park: ২৫ হাজার ডলার অনুদানে প্রশিক্ষণ পাওয়া তিন বছর বয়সি পুলিশ ল্যাব্রাডর 'ট্রিনা'-র ক্ষুরধার ঘ্রাণশক্তি আবারও এক প্রাণ বাঁচাল। হাওয়াই ভলক্যানোজ ন্যাশনাল পার্কে (Hawaii Volcanoes National Park) ট্রেকিং করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ৭০ বছর বয়সি এক বৃদ্ধ পর্বতারোহীকে অক্ষত অবস্থায় খুঁজে বের করল সে। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে এটি ট্রিনার দ্বিতীয় সফল উদ্ধার অভিযান।

হাওয়াই পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বৃদ্ধের নাম ডেভিড আরাই। তিনি ওহু (Oahu)-র বাসিন্দা এবং ওই ন্যাশনাল পার্কের ট্রেকিং রুটের সঙ্গে বেশ পরিচিত। তবে গত সোমবার থেকে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় তাঁর কোনও খোঁজ না মেলায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবারের সদ্যসরা। তাঁর ছেলে কাওহে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'KHON2'-কে জানান, তাঁর বাবা প্রায়শই একা একা হাইকিং বা পাহাড়ে চড়তে যেতেন। কিন্তু এবার নির্ধারিত সময়ে না ফেরায় পুলিশ, ন্যাশনাল পার্কের রেঞ্জার এবং হেলিকপ্টার নামিয়ে বড়সড় যৌথ তল্লাশি শুরু হয়।
সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৬ মিনিট নাগাদ পুনা থানার টহলদার পুলিশ আরাই নিখোঁজ হওয়ার খবর পায়। বৃদ্ধের বয়স এবং শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এটিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ নিখোঁজ মামলা (Endangered missing-person case) হিসেবে দেখা হয়। অনুসন্ধানের প্রথম বড় সাফল্য আসে যখন ন্যাশনাল পার্কের ভেতরে আরাইয়ের ভাড়া করা গাড়ির হদিস মেলে। এর পরই ওই এলাকাকে কেন্দ্র করে তল্লাশির পরিধি নির্দিষ্ট করা হয়। উদ্ধারকাজে গতি আনতে হাওয়াই ফায়ার সার্ভিস একটি হেলিকপ্টারও আকাশ পথে তল্লাশি শুরু করে। টানা ৭ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দুর্গম পাহাড়ি পথ চষে ফেলার পর অবশেষে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ নিজের গাড়ি থেকে প্রায় দুই মাইল দূরে ট্রিনার সাহায্যে আরাইয়ের সন্ধান মেলে। তিনি মূল ট্রেকিং ট্রেইল থেকে কিছুটা দূরে ঝোপঝাড়ের আড়ালে পিঠ দিয়ে শুয়ে কাতরাচ্ছিলেন।
উদ্ধারকারী দলের সদস্য তথা হাওয়াই পুলিশের এরিয়া টু জুভেনাইল এইড সেকশনের অফিসার ক্রিস্টোফার রস জানান, ওই ট্রেইলটির পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ ও বিপজ্জনক ছিল। তিনি বলেন, 'আমি প্রথম তাঁর মাথার ওপরের অংশটি দেখতে পাই। তিনি ট্রেইলের বাইরে ঝোপের মধ্যে চিত হয়ে শুয়েছিলেন।' বৃদ্ধকে খুঁজে পাওয়ার পর ট্রিনার প্রতিক্রিয়া উপস্থিত সকলের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। অফিসার রস জানান, বৃদ্ধের কাছে পৌঁছেই ট্রিনা শান্তভাবে তাঁর হাত চাটতে শুরু করে—যেন সে পরম নির্ভরতায় বুঝিয়ে দিচ্ছিল, বিপদ কেটে গেছে এবং তিনি এখন পুরোপুরি সুরক্ষিত। এরপর উদ্ধারকারী দল দ্রুত আরাইকে উদ্ধার করে হিলো বেনিঅফ মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে ডিহাইড্রেশন ও দীর্ঘক্ষণ প্রতিকূল আবহাওয়ায় থাকার কারণে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
কে এই রক্ষাকর্তা 'ট্রিনা'?
ট্রিনা মূলত সুইডেন থেকে আনা একটি ল্যাব্রাডর রিট্রিভার। সে নিখোঁজ জীবিত মানুষদের সন্ধানে দক্ষ (Live-find human tracking) এক বিশেষ শ্রেণির পুলিশ কুকুর। নির্দিষ্ট ব্যক্তির গন্ধ আলাদাভাবে চিনে নিয়ে তা অনুসরণ করতে সে অত্যন্ত পারদর্শী (Scent-discriminating)। হাওয়াই দ্বীপজুড়ে নিখোঁজ শিশু এবং বিপদে পড়া প্রাপ্তবয়স্কদের খুঁজে বের করার কাজে হাওয়াই পুলিশ তাকে নিয়মিত ব্যবহার করে থাকে। মাত্র এক মাস আগেই ওয়াইকোলোয়ায় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এক নাবালককে খুঁজে বের করে প্রথম আলোচনায় এসেছিল ট্রিনা। তার প্রশিক্ষক অফিসার রস আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, 'ট্রিনাকে পাওয়া আমাদের কাছে আশীর্বাদের মতো। ঘুমোতে যাওয়ার আগেও আমার শেষ চিন্তা ছিল—আমরা ঈশ্বরের এক দেবদূতকে নিজেদের কাছে পেয়েছি।'
অবসরের পর ট্রিনাকে দত্তক নিতে চান বৃদ্ধ
পিপল ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরাইয়ের ছেলে কাওহে জানান যে তাঁর বাবা পুলিশ, পার্ক রেঞ্জার এবং উদ্ধারকাজে যুক্ত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে ট্রিনা ও অফিসার রসের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আরাই ট্রিনার ভালোবাসায় এতটাই মুগ্ধ হয়ে গেছেন যে, ভবিষ্যতে পুলিশি পরিষেবা থেকে অবসর নিলে তিনি ট্রিনাকে নিজের বাড়িতে দত্তক নিয়ে আজীবন ভালোবাসায় ভরিয়ে রাখতে চেয়েছেন।
E-Paper

