ONOE JPC: ‘এক দেশ এক ভোট!’ সংসদীয় কমিটির সঙ্গে বৈঠক বাতিল সুপ্রিম কোর্টের, কারণ কী?
ONOE JPC: এই বৈঠকের যৌক্তিকতা নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল। তাঁরই মত ছিল, যে আইন ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ হতে পারে, সেই আইন কতটা ভাল, তা নিয়ে বিচারপতিদের সঙ্গে সংসদীয় কমিটির সদস্যরা কী ভাবে আলোচনা করতে পারেন?
ONOE JPC: ‘এক দেশ, এক ভোট’ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইন নিয়ে সংসদীয় যৌথ কমিটির (JPC) সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতির বৈঠক আর হচ্ছে না। যৌথ সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান তথা বিজেপি সাংসদ পিপি চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়েছেন, শীর্ষ আদালতই আগামী ৬ অক্টোবর কমিটির সঙ্গে আলোচনার দিন নির্ধারিত করেছিল এবং পরবর্তীতে তা বাতিল করে দেয়।

পিপি চৌধুরী জানান, গত ২২ সেপ্টেম্বর কমিটির ডিরেক্টরকে পাঠানো একটি ইমেলের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল যে ৬ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টেয় বৈঠক হবে। পরবর্তীতে শীর্ষ আদালতের পক্ষ থেকে বৈঠক বাতিল করার পর, জেপিসিও তাদের নির্ধারিত সফর প্রত্যাহার করে এবং সমস্ত সদস্যদের তা জানিয়ে দেয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে প্রস্তাবিত বৈঠক সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক ছিল এবং এটিকে অহেতুক বাড়িয়ে দেখা উচিত নয়। পিপি চৌধুরীর বক্তব্য, 'কমিটি এবং সুপ্রিম কোর্ট উভয়ই জানিয়েছে যে যদি বিষয়টি সমীচীন না হয়, তবে এ নিয়ে জলঘোলা করার প্রয়োজন নেই। উভয় পক্ষ আলোচনায় বসলে ভালো, আর না বসলেও কোনও সমস্যা নেই। এই বিষয়টিকে এত গুরুত্ব দেওয়ার বা অতিরঞ্জিত করার কোনও প্রয়োজন নেই।'
অতীতেও সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে সংসদীয় কমিটির আলোচনার নজির রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ধরনের যোগাযোগের মধ্যে অনুচিত বা অসঙ্গত কিছু ছিল না। বর্তমানে এই যৌথ সংসদীয় কমিটি দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল পর্যালোচনা করছে: ‘সংবিধান (১২৯তম সংশোধনী) বিল, ২০২৪’ এবং ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল, ২০২৪।’ ওএনওই প্রস্তাবের অধীনে লোকসভা, রাজ্য বিধানসভা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির বিধানসভা নির্বাচনকে একই সুতোয় বাঁধার জন্য এই বিলগুলির মাধ্যমে সংবিধিবদ্ধ পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। অতীতে এমন আলোচনার নজিরের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি ডিএমকে (DMK) সাংসদ পি উইলসনের পক্ষ থেকে কমিটিতে জমা দেওয়া একটি চিঠির উদাহরণ টানেন পিপি চৌধুরী। সুপ্রিম কোর্ট বৈঠক বাতিলের পর জেপিসি-র তরফে সংশোধিত সূচি সম্পর্কে সমস্ত সদস্যকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠানো হয়। পরবর্তীতে নয়াদিল্লির পার্লামেন্ট লাইব্রেরি ভবনে বৈঠকে মিলিত হয়ে বিল দুটির ওপর নিজেদের পর্যালোচনা প্রক্রিয়া জারি রাখেন কমিটির সদস্যরা।
তিনি আরও যোগ করেন যে কমিটি বর্তমানে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের মতামত শুনছে এবং সমস্ত সদস্য সন্তুষ্ট হলে ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ শেষ হলেই চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, 'প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চলছে; আমরা স্টেকহোল্ডারদের বক্তব্য শুনছি। যখন সমস্ত সদস্যরা জানাবেন যে আর কারও বক্তব্য শোনার প্রয়োজন নেই এবং সমস্ত সদস্যদের মতামত নেওয়া সম্পন্ন হবে, তখনই আমরা রিপোর্ট জমা দেব।'
এই বৈঠকের যৌক্তিকতা নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল। তাঁরই মত ছিল, যে আইন ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ হতে পারে, সেই আইন কতটা ভাল, তা নিয়ে বিচারপতিদের সঙ্গে সংসদীয় কমিটির সদস্যরা কী ভাবে আলোচনা করতে পারেন? কপিল সিব্বলের মতে, এই পদক্ষেপ ‘অসাংবিধানিক’ এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের পরিপন্থী। এই পদক্ষেপ ‘অসাংবিধানিক’ এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের পরিপন্থী। গত ১ অক্টোবর এক সাংবাদিক বৈঠকে সিব্বল বলেন, ‘যৌথ সংসদীয় কমিটি কী ভাবে প্রধান বিচারপতির কাছে গিয়ে এমন একটি সাক্ষাতের জন্য অনুরোধ করার কথা ভাবতে পারল? দেশের শাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সংবিধানের কার্যপ্রণালীর সঙ্গে সম্পর্কিত প্রশ্ন এই বিলের সঙ্গে জড়িত। এটা জানা সত্ত্বেও বিচারবিভাগ কী ভাবে এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করল?’
E-Paper

