Pranab Mukherjee on Modi: ডায়েরিতে মোদীর প্রশংসা করেছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়, দাবি মেয়ে শর্মিষ্ঠার

শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়ের দাবি, বাবা প্রণব মুখোপাধ্যায় তাঁর ব্যক্তিগত ডায়েরিতে লিখেছিলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পর নরেন্দ্র মোদীই এমন নেতা, যিনি সবচেয়ে ভালোভাবে দেশের মানুষের মনোভাব বুঝতে পারেন। 

Published on: Jun 28, 2026, 14:23:33 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ডায়েরি এবং ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনলেন তাঁর কন্যা ও লেখিকা শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছেন, প্রণব মুখোপাধ্যায় তাঁর ব্যক্তিগত ডায়েরিতে লিখেছিলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পর নরেন্দ্র মোদীই এমন নেতা, যিনি সবচেয়ে ভালোভাবে দেশের মানুষের মনোভাব বুঝতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি আরএসএস সদর দফতরে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক সফর, প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং সংসদীয় গণতন্ত্র নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের কথাও তুলে ধরেন।

ডায়েরিতে মোদীর প্রশংসা করেছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়, দাবি মেয়ে শর্মিষ্ঠার
ডায়েরিতে মোদীর প্রশংসা করেছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়, দাবি মেয়ে শর্মিষ্ঠার

শর্মিষ্ঠা জানান, জম্মু ও কাশ্মীরে ভয়াবহ বন্যার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সিয়াচেন ও দুর্গত মানুষের সঙ্গে দীপাবলি কাটানোর সিদ্ধান্ত প্রণব মুখোপাধ্যায়কে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। সেই প্রসঙ্গেই তিনি ডায়েরিতে লিখেছিলেন, ইন্দিরা গান্ধীর পরে মোদীই এমন প্রধানমন্ত্রী, যিনি মানুষের আবেগ ও মনস্তত্ত্ব এত নিখুঁতভাবে বুঝতে পারেন। পাশাপাশি, বিদেশনীতি সম্পর্কেও মোদীর দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিস্থিতি অনুধাবনের ক্ষমতার প্রশংসা করেছিলেন তিনি।

২০১৮ সালে নাগপুরে আরএসএস সদর দফতরে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সফর নিয়েও স্মৃতিচারণ করেন শর্মিষ্ঠা। সেই সময় তিনি নিজেও কংগ্রেস রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বাবার ওই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, আরএসএসের অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রণব মুখোপাধ্যায় সংগঠনটিকে বৈধতা দিচ্ছেন। কিন্তু প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জবাব ছিল স্পষ্ট। তিনি বলেন, 'আমি কে যে আরএসএসকে বৈধতা দেব? দেশের মানুষই একজন আরএসএস প্রচারককে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করে আরএসএসকে বৈধতা দিয়েছে। এই বাস্তবতা অস্বীকার করলে তার দায় কংগ্রেসকেই নিতে হবে।'

শর্মিষ্ঠা আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সুসম্পর্ক রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক সম্পর্কেরও বহু আগের। মোদী নিজেই তাঁকে জানিয়েছিলেন, আরএসএস কর্মী হিসেবে দিল্লিতে এলেই প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দেখা হতো এবং তিনি প্রতিবারই প্রণববাবুর পা ছুঁয়ে প্রণাম করতেন। রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মোদী যখন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যেতেন, তখনও একই সম্মান প্রদর্শন করতেন। যদিও প্রকাশ্যে কংগ্রেস ও ইউপিএ সরকারের কড়া সমালোচক ছিলেন মোদী, ব্যক্তিগতভাবে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ছিল বলে ডায়েরিতে উল্লেখ করেছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি।

রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সর্বদলীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার পক্ষপাতী ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেও জানান শর্মিষ্ঠা। তাঁর কথায়, সিপিআই, সিপিএম, বিজেপি-সহ সব দলের নেতাদের সঙ্গে প্রণববাবুর সুসম্পর্ক ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন, সংসদ অচল করে নয়, আলোচনার মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হয়।

শর্মিষ্ঠা আরও দাবি করেন, বিরোধী দলে থাকাকালীন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকেও প্রণব মুখোপাধ্যায় পরামর্শ দিয়েছিলেন, অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকারের সময় সংসদ অকারণে অচল করা উচিত নয়। তাঁর মতে, সরকার ও বিরোধী—উভয় পক্ষেরই দায়িত্ব দেশের স্বার্থে আলোচনার পথ খুঁজে বের করা। প্রণব মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দর্শন, ব্যক্তিগত মূল্যবোধ এবং নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন তুলে ধরে শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More