'অভ্যন্তরীন বিষয়!' বাঁকিপুরে জিততেই মহারাষ্ট্রে সুনেত্রা সমীপে পিকে, অবস্থান স্পষ্ট করলেন শরদ- কন্যা
Sunetra Pawar-Prashant Kishor Meet: শরদ পাওয়ার কন্যা সুপ্রিয়া সুলে জানান, প্রশান্ত কিশোর তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং তিনি তাঁর কাজের প্রশংসক। সম্প্রতি বড় ভোট-যুদ্ধও জিতেছেন।
Sunetra Pawar-Prashant Kishor Meet: মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন মোড়! বৃহস্পতিবার ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) প্রধান তথা মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারের (Sunetra Pawar) সঙ্গে সদ্য বিহারের বাঁকিপুরে নির্বাচিত বিধায়ক প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishor) বৈঠক ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এই আবহে প্রশ্ন উঠেছে, এনসিপি কী ভোটকুশলী হিসাবে প্রশান্ত কিশোরকে কাজে লাগাতে চাইছে? তা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে দাবি করেছেন বিরোধী পক্ষ, এনসিপি (এসপি)-র কার্যকরী সভাপতি সুপ্রিয়া সুলে (Supriya Sule)।

শরদ পাওয়ার কন্যা সুপ্রিয়া সুলে জানান, প্রশান্ত কিশোর তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং তিনি তাঁর কাজের প্রশংসক। সম্প্রতি বড় ভোট-যুদ্ধও জিতেছেন। 'তবে, অজিত পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে কাজ করবে কি না, তা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়', বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিয়া সুলে। এনসিপি সাংসদ বলেন, 'প্রশান্ত কিশোর বেশ কয়েক বছর ধরে আমার ব্যক্তিগত ভালো বন্ধু। আমি তাঁর কাজ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং আমি আমাদের বন্ধুত্ব কখনও গোপন করিনি।' পাশাপাশি বিহারে প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে সুলে বলেন, বিজেপির মতো শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তির মোকাবিলা করেও তিনি বাঁকিপুরে 'বড় লড়াই' জিতেছেন।
তাঁর কথায়, 'এই পরিস্থিতিতে আমাদের প্রশান্ত কিশোরের প্রশংসা করা উচিত। তিনি পরিশ্রমী এবং বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করেছেন।' সুপ্রিয়া সুলে আরও বলেন, 'যদি আমরা স্থানীয় স্তর থেকে দিল্লি পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতাম, এবং বারামতির কাটেওয়াড়িতে আমাদের নিজেদের বুথেই যদি নেতিবাচক ফল আসত, তাহলে মনে হতো যে আমার মধ্যেই গুরুতর কোনও সমস্যা আছে।' জানা গিয়েছে, দক্ষিণ মুম্বইয়ে সুনেত্রার অফিস ভবন 'দেবগিরি'তেই এসেছিলেন পিকে। সুনেত্রার দলীয় প্রতিনিধি সঞ্জয় খোড়কে একথা জানিয়েছেন। তবে এনসিপি নেতা ওই বৈঠকের কোনও বিস্তারিত বিবরণ দেননি। স্বাভাবিক ভাবেই এরপর থেকে তীব্র হয়েছে জল্পনা। তাহলে কী পিকের সঙ্গে কোনও পরিকল্পনা করে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক শক্তি কাঠামোয় নিজেদের আরও মজবুত করে বেঁধে ফেলতে চাইছে এনসিপি? তবে আগেই যাবতীয় জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে এনসিপি (অজিত পাওয়ার) দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতেই প্রাক্তন ভোটকুশলীর সঙ্গে উপমু্খ্যমন্ত্রীর এই বৈঠক। এনসিপির মুখপাত্র সুরজ চ্যবন বলেছেন, ‘তৃণমূলস্তর থেকে দলকে শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’ ওই বৈঠকে অজিতপুত্র পার্থ ও দলের অন্যান্য বড়ো নেতারাও ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ২৩৮টি আসনে লড়ে তাঁর দল জন সুরাজ পার্টির প্রার্থীদের জমানত জব্দ হয়েছিল ২৩৬টি আসনেই। সকলেই ধরে নিয়েছিলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ। কিন্তু ৯ মাস পরে সেই পিকেই চমকে দিলেন বিহারের উপনির্বাচনে। ১৯ হাজার ভোটে জিতেছেন বিজেপির তিন দশকের গড়ে। এরপরই তাঁর মহারাষ্ট্রে গিয়ে সুনেত্রার সঙ্গে সাক্ষাৎ নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। এর আগেও অবশ্য তিনি সুনেত্রার সঙ্গে দেখা করেছেন বলে সুনেত্রার পুত্র ও এনসিপি নেতা পার্থ পাওয়ার জানিয়েছেন। সেই সঙ্গেই তাঁর দাবি, প্রশান্ত তাঁদের পরিবারের পরিচিত। কিন্তু তিনি একথা বললেও জল্পনার মেঘ কিন্তু ঘনাতে শুরু করেছে।
E-Paper

