CCTV In Pharmacies: পাড়ার ওষুধের দোকানে এবার CCTV! প্রেসক্রিপশনে ওষুধ বিক্রিতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

CCTV In Pharmacies: এই খসড়ায় 'ড্রাগস রুলস, ১৯৪৫'-এর ৬৫ নম্বর বিধিতে একটি নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওষুধের দোকানে প্রেসক্রিপশন-ভিত্তিক ওষুধ সরবরাহের সময় সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে।

Published on: Sep 17, 2026, 21:48:28 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

CCTV In Pharmacies: পাড়ার ওষুধের দোকানে গিয়ে প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে ওষুধ কেনেন? এবার সেই বিক্রির উপরও কড়া পদক্ষেপ করতে চলছে কেন্দ্র (Central Government)। ওষুধের জোকান থেকে প্রেসক্রিপশন-ভিত্তিক ওষুধ বিক্রির বিষয়টি শীঘ্রই সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আসতে পারে। প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ওষুধের ওপর নজরদারি জোরদার করতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক 'ড্রাগস রুলস, ১৯৪৫'-এ সংশোধনী আনার প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রেসক্রিপশনে ওষুধ বিক্রিতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের (Image: Pixabay)
প্রেসক্রিপশনে ওষুধ বিক্রিতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের (Image: Pixabay)

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের (৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) প্রকাশিত একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নথিভুক্ত চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী কোনও ওষুধ সরবরাহের ক্ষেত্রে (পাইকারি বিক্রয় ছাড়া) লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওষুধের দোকানে সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজ বা রেকর্ডিং অন্তত তিন মাস বাধ্যতামূলকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে এক সরকারি সূত্র জানিয়েছে, প্রেসক্রিপশন-ভিত্তিক ওষুধ কোনও প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ওষুধের দোকান থেকে সরাসরি (ওভার-দ্য-কাউন্টার) বিক্রি আঠকানো এবং ওষুধ বিতরণের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ করা হবে।

কাশি ও সিরাপ জাতীয় ওষুধ-সহ প্রেসক্রিপশন-ভিত্তিক ওষুধগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই প্রস্তাবটি এসেছে। বিশেষ করে অপর্যাপ্ত চিকিৎসা তদারকি ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের সরবরাহ ও অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের কারণে সরকার এগুলোর বিতরণ প্রক্রিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ কঠোর করছে। শিশুদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে, কারণ তাদের জন্য ওষুধের ধরন ও মাত্রা বয়স এবং শারীরিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। তবে এই মুহূর্তে নিয়মটি চূড়ান্ত হয়নি। খসড়া সংশোধনী নিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত ও আপত্তি চেয়েছে কেন্দ্র। নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হলে সেই মতামত পর্যালোচনা করা হবে। তারপরই ঠিক হবে, প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে কিনা।

প্রস্তাবে কী বলা হয়েছে?

এই খসড়ায় 'ড্রাগস রুলস, ১৯৪৫'-এর ৬৫ নম্বর বিধিতে একটি নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওষুধের দোকানে প্রেসক্রিপশন-ভিত্তিক ওষুধ সরবরাহের সময় সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। এই ব্যবস্থাটি এমনভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে যাতে বিক্রয় প্রক্রিয়া যাচাই করা সম্ভব হয় এবং রেকর্ডিংগুলো অন্তত তিন মাস সংরক্ষণ করা যায়। এই প্রস্তাবে পাইকারি ওষুধ বিক্রেতাদের সিসিটিভি ব্যবস্থার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। চূড়ান্ত হলে, এই পদক্ষেপটি প্রেসক্রিপশন-ভিত্তিক ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে রেকর্ড তৈরি করবে। সন্দেহভাজন নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত ও তদন্তের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে একটি বাড়তি উপায় বা ব্যবস্থা প্রদান করবে।

কেন এই নির্দেশিকা?

কোনও ওষুধ সত্যি কোনও বৈধ প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতে বিক্রি করা হয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিত করা। প্রেসক্রিপশন ছাড়া নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ কিনে খাওয়া বা ‘সেলফ-মেডিকেশন’ বন্ধ করা। বড়দের কফ সিরাপ বা কড়া কোনও ওষুধ ডাক্তারি পরামর্শ ছাড়াই শিশুদের দেওয়ার মতো বিপজ্জনক ঘটনা ঘটছে কিনা, সেটাও নজর রাখতে চাইছে কেন্দ্র। কারণ শিশুর বয়স এবং শারীরিক অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে ওষুধের ধরন ও মাত্রা ঠিক করা প্রয়োজন। তাই প্রস্তাবিত সিসিটিভি ব্যবস্থা শুধু কাশির সিরাপের জন্য নয়, প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে বিক্রি করা ওষুধের ক্ষেত্রেই কার্যকর হতে পারে।

শিডিউল H, H1 এবং X-এর ওষুধ নয়

'ড্রাগস রুলস'-এর আওতায় থাকা শিডিউল এইচ (Schedule H), এইচ১ (H1) এবং এক্স (X)-এর অন্তর্ভুক্ত ওষুধগুলোর ওপর বিদ্যমান বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপটেই এই প্রস্তাবটি এসেছে। এই ওষুধগুলোর ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন সংক্রান্ত নিয়মাবলী প্রযোজ্য। তবে, প্রস্তাবিত সিসিটিভি বিধানটি শুধুমাত্র শিডিউল এইচ (Schedule H), এইচ১ (H1) এবং এক্স (X)-এর ওষুধের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। সিডিএসসিও-র আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির পাতা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, কেন্দ্র সরকার ‘ড্রাগস রুলস, ১৯৪৫’-এ বেশ কিছু সংশোধনী প্রস্তাব ও জারি করছে। এর মধ্যে প্রেসক্রিপশন সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং ওষুধের তালিকা বা ‘শিডিউল’ পরিবর্তনের বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।