‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে...,' ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে 'সমর্থনের অভাব' তোপ ট্রাম্পের

ব্রিটিশ সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই বড় যুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক অভিযানে জড়ানোর কোনও ইচ্ছা তাদের নেই।

Published on: Mar 08, 2026 12:17 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্রিটিশ বিমানবাহী রণতরীর কোনও সহায়তার প্রয়োজন নেই বলে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জয়ী হতে ব্রিটেনের সাহায্যের প্রয়োজন নেই।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ ট্রাম্পের
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ ট্রাম্পের

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের মন্তব্য প্রকাশ করেছে পশ্চিমি দুই সামরিক মিত্রের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব। ইরানে হামলা চালানোর সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রাথমিকভাবে ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে দেয়নি লন্ডন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প বারবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সমালোচনা করছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, স্টারমার দুই দেশের ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে 'ধ্বংস' করছেন। এই আবহে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ব্রিটিশ সমর্থনের অভাব আমি মনে রাখব।' তিনি আরও বলেন, 'আমাদের এক সময় মহান মিত্র ব্রিটেন, সম্ভবত তাদের সবার মধ্যে মহত্তম, অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানো নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে। ঠিক আছে, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার, এগুলোর আমাদের আর প্রয়োজন নেই। আমরা ইতিমধ্যে জয়ী হয়ে যাওয়ার পর যে সব লোক যুদ্ধে যোগ দেয়, তাদের প্রয়োজন নেই আমাদের।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতে নিজেদের কৌশল এবং সামরিক ক্ষমতায় আত্মনির্ভরশীল।

ব্রিটেনের সরাসরি অংশগ্রহণ না থাকলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। শনিবারই ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানায়, ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ‘এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলস’কে সম্ভাব্য মধ্যপ্রাচ্য মোতায়েনের জন্য হাই-অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার সীমিত প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে গ্লস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড এবং ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি। তবে ব্রিটিশ সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই বড় যুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক অভিযানে জড়ানোর কোনও ইচ্ছা তাদের নেই। ট্রাম্প ও স্টারমারের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয় যখন ব্রিটেন প্রথমে মার্কিন সেনাদের তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। পরে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার কেবল প্রতিরক্ষামূলক কাজের জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেন। তিনি বলেন, আকাশ থেকে হামলা চালিয়ে কোনও দেশের সরকার পরিবর্তন করায় ব্রিটেন বিশ্বাস করে না। তিনি পার্লামেন্টে বলেন, শুরুতে সরাসরি যুদ্ধে যোগ না দেওয়ায় ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হয়েছেন, কিন্তু ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা আমার দায়িত্ব।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক মিত্রপক্ষে দ্বন্দ্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মধ্যে সামরিক সমন্বয় ও কৌশলগত সম্পর্ক পরীক্ষা হচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে।